মাত্র ১৪ বছর বয়সেই ক্রিকেটের ২২ গজে একাধিক পরীক্ষা দিয়েছেন, কিন্তু জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় বসলেন না বৈভব সূর্যবংশী(Vaibhav Suryavanshi)। অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে বোর্ডের পরীক্ষা থেকে পিছিয়ে এলেন যুব বিশ্বকাপজয়ী তারকা। প্রস্তুতিও ছিল তুঙ্গে। কিন্তু বাইশ গজের টানটাই জিতে গেল বিহারের বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশীর (Vaibhav Suryavanshi)জীবনে। বিশ্বমঞ্চে রেকর্ড ভেঙে চুরমার করা ১৪ বছরের এই বিস্ময় প্রতিভাকে শেষ মুহূর্তে দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা থেকে পিছিয়ে আসতে হলো ।

বিহারের তাজপুরের ছেলে বৈভব সূর্যবংশীর কাছে এ বছরটা ছিল স্বপ্নের মতো। ভারতকে যুব বিশ্বকাপ জিতিয়ে সে যখন ফিরল, তখন সবার নজর ছিল তার দশম শ্রেণির পরীক্ষার দিকে। সূচি অনুযায়ী ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মার্চের মধ্যে তার পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিশ্বকাপ জয় এবং তার পরবর্তী একের পর এক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ও টুর্নামেন্টের চাপে পড়াশোনা কার্যত শিকেয় উঠেছিল।

বিহারের তাজপুরের ‘মডেস্টি স্কুল’-এর এই ছাত্রের জন্য পোদ্দার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে সিট পড়েছিল। স্কুলের ডিরেক্টর আদর্শ কুমার পিন্টু জানান, ফর্ম ফিলআপ থেকে অ্যাডমিট কার্ড— সব তৈরি থাকলেও বৈভবের বাবা সঞ্জীব সূর্যবংশীর সাথে আলোচনার পরেই ঠিক হয়, অসম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে এ বছর আর পরীক্ষায় বসা হবে না তাঁর। পাশাপাশি আরও একটি বিষয় উঠে আসছে ক্রিকেটের খাতায় বৈভবের বয়স ১৪, কিন্ত নিয়মানুসারে বোর্ডের পরীক্ষায় ১৪ বছরে বসা যায় না। ফলে সেটা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।

পরীক্ষায় না বসলেও ক্রিকেটের খাতায় বৈভবের নম্বর কিন্তু আকাশছোঁয়া। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে সে যা করেছে, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। ফাইনালের মঞ্চে মাত্র ৫৫ বলে শতরান পূর্ণ করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে সে। বিশ্বকাপ ফাইনালে মাত্র ৮০ বলে ১৭৫ রান! অন্যদিকে, যুব ওয়ানডে-র এক ইনিংসে এবং পুরো বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড এখন তাঁর দখলে। এছাড়া অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় এবং ফাইনালের সেরা— দুই পুরস্কারই জিতে নিয়েছে এই বাঁ-হাতি ব্যাটার।

আপাতত পড়াশোনার চাপ সরিয়ে রেখে ক্রিকেটে আরও শান দিতে চায় এই কিশোর। এই ফর্ম বজায় রেখে খেলার মাঠে ভারতের নাম উজ্জ্বল করাতেই এখন বেশি মন দিতে চায় বৈভব। পেন-পেন্সিল তোলা থাকলেও, ব্যাটে যে সে ‘লেটার মার্কস’ নিয়ে পাস করেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

–

–

–

–



