নির্বাচনী প্রচার হোক বা সরকারি প্রকল্পের মঞ্চ – বর্তমান সময়ে যে কুকথার রাজনীতি বাংলার জনজীবনে চোরাস্রোতের মতো বয়ে চলেছে তা যে বাংলার ঐতিহ্য নয়, প্রমাণ মিলল আরও একবার। রাজনীতির ময়দানে লড়াই থাকে, আদর্শের সংঘাতও থাকে। কিন্তু ব্যক্তিগত সৌজন্য (political courtesy) আর শ্রদ্ধা যে আজও ফুরিয়ে যায়নি, তার সাক্ষী থাকল প্রয়াত পিডিএস (PDS) সম্পাদক সমীর পুততুণ্ডের (Samir Putatunda) স্মরণসভা।

গত ১১ জানুয়ারি প্রয়াত হন এই বামপন্থী নেতা। রবিবার তাঁর স্মরণে যে শ্রদ্ধায় স্মরণ সমীর পুততুণ্ড – অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় সেখানে উপস্থিত বাংলার বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব – একমঞ্চে। রবিবার বিকালে তাঁদের স্মৃতিচারণায় উঠে আসে বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের এক একটি দিক। তবে সেখানেও স্পষ্ট কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিআইএম-এর রাজনৈতিক শালীনতার (political courtesy) বার্তা।

রবিবার দলীয় সহকর্মীদের স্মৃতিচারণায় উঠে আসে এক দৃঢ়চেতা মানুষের ছবি। সিপিআই(এম) ত্যাগের কঠিন সিদ্ধান্ত হোক বা নতুন দল গড়ে পথ চলা — আদর্শের প্রশ্নে সমীর পুততুণ্ড কখনও মাথা নোয়াননি। সভায় উপস্থিত বক্তারা একবাক্যে স্বীকার করেন, আজকের যুগে বামপন্থী ভাবধারায় অবিচল থেকেও দলের ভিতরে ভিন্ন মত প্রকাশের যে সাহস তিনি দেখাতেন, তা বিরল। এদিন স্মরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত নেতার স্ত্রী অনুরাধা দেব, সিপিআইএম নেতা রবীন দেব, তৃণমূল কিষাণ ক্ষেতমজদুর সংগঠনের সভাপতি পূর্ণেন্দু বসু, সাংসদ দোলা সেন, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ, প্রদেশ কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। ভিডিও বার্তায় শোকপ্রকাশ করেন প্রখ্য়াত চিকিৎসক দেবী শেঠি।

রাজনৈতিক সৌজন্যের সুরটি প্রথম গেঁথে দেন পূর্ণেন্দু বসু (Purnendu Basu)। তিনি জানান, সমীর পুততুণ্ডের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক স্রেফ রাজনীতির ছিল না; বরং তা ছিল আলোচনা, তর্ক এবং শেখার। বিরোধী শিবিরের নেতা হওয়া সত্ত্বেও তিনি অকপটে স্বীকার করেন—পুততুণ্ডের মতো শিক্ষা ও মার্জিত নেতার অভাব আজ বাংলার রাজনীতিতে গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, দল ছেড়ে পিডিএস গঠনের কঠিন দিনগুলোতেও প্রয়াত নেতার ধৈর্য ও স্থিরতা তাঁকে মুগ্ধ করেছিল।

এক সময়ের সহযোদ্ধার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সিপিআইএম নেতা রবিন দেব (Rabin Deb) প্রয়াত নেতার রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কথা স্মরণ করেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক সময়ের দাপুটে নেতা হওয়া সত্ত্বেও তিনি যে কতটা মাটির মানুষ ছিলেন, রবিন দেবের বক্তব্যে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন : বিধানসভা ভোটের আগেই বিপদে ভিক্টর! কংগ্রেস নেতার নামে বিষ্ফোরক অভিযোগ স্ত্রীর

কংগ্রেস রাজ্য সভাপতি শুভঙ্কর সরকার (Subhankar Sarkar) প্রয়াত নেতার মুক্ত চিন্তার প্রশংসা করেন। রাজনৈতিক গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে কীভাবে সাধারণ মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াতে হয়, সমীর পুততুণ্ড ছিলেন তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ, উল্লেখ করেন শুভঙ্কর।

–

–

–


