আমেরিকা থেকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন তথা বিশ্বের ৩৮ দেশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক চুক্তি করার শক্তি ভারতকে যুগিয়েছে ভারতের উৎপাদন শিল্প। যার একটা বড় অংশ মাইক্রো, স্মল ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমই (MSME)। আর ভারতে কেন্দ্রের সরকারের সাহায্যে ছাড়াই যে ব্যাঙ্কের ঋণের (bank loan) উপর ভিত্তি করে এইসব এমএসএমই নিজেদের প্রসার বাড়ানোর লড়াই চালাচ্ছে তা নিজেই স্বীকার করলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নে নামমাত্র কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে কিভাবে কেন্দ্র সরকার এই শিল্পের পাশে দাঁড়াচ্ছে তাও স্পষ্ট করে দেন তিনি। সেই সঙ্গে দাবি করেন দুই স্তরের জিএসটি (GST) কাঠামো ও শিল্পের নতুন মাত্রা নির্ধারণ এই ধরনের শিল্পের উন্নয়নের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে সাম্প্রতিক ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (European Union) দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ও মার্কিন শুল্কের (US tariff) শতকরা কমানোর পিছনে দেশের নীতিগত পরিবর্তন, অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর উন্নয়ন, রাজনীতির স্থিরতা এবং সংশোধনমূলক পদক্ষেপের নীতিকেই দায়ী করেছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি জানান এই ৩৮ টি সহযোগী দেশের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি (trade deal) সম্প্রতিক সময়ে হয়েছে তাতে সব থেকে বেশি লাভবান হবে দেশের মাঝারি, ছোট ও ক্ষুদ্র শিল্প অর্থাৎ এমএসএমই (MSME) সেক্টর।

দেশের এমএসএমই সেক্টরকে নিয়ে এই ভাবনার কারণ হিসাবে দেশের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে এই ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হয়েছে তা-ই কেন্দ্রের সরকারকে অনুপ্রাণিত করেছে একাধিক দেশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ (trade deal) হতে। ভারতকে গ্রাহক (consumer) থেকে উৎপাদক (producer) হিসাবে পরিচিতি দিতে সাহায্য করেছে এই সেক্টর।

তবে কিভাবে উন্নতি সাধন করেছে এই সেক্টর আচমকাই? এই প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী জানান সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকে ঋণের (bank loan) পরিমাণের যে ব্যাপক উর্ধ্বগতি দেখা গিয়েছে, তা-ই প্রমাণ করছে এই সেক্টরের ব্যাপক বৃদ্ধিকে। কেন্দ্রীয় বাজেটে এমএসএমই সেক্টরে কেন্দ্রের সরাসরি আর্থিকভাবে যে কোনও পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি এই শিল্পগুলিকে দেওয়া হয়নি, প্রধানমন্ত্রীর কথাতেই স্পষ্ট।

সেক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বাজেটের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, যেভাবে সর্বোচ্চ ব্যাঙ্ক ঋণের (loan upper cap) পরিমাণের মাত্রা ধার্য করা হয়েছে তাতে এখন এই ক্ষেত্রের শিল্পগুলি অনেক বেশি ঋণ পাবে। ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ১ কোটি থেকে বাড়িয়ে ২.৫কোটি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আগে যে ধরনের শিল্প বৃহৎ শিল্পের আলতায় পড়ে যেত, সাম্প্রতিক বাজেটে সেই মাত্রাকে কমিয়ে দিয়ে এই ধরনের শিল্পগুলিকেও এখন এমএসএমই-র আওতাধীন করা হয়েছে। এখন ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত বাৎসরিক উৎপাদনশীল শিল্পও এমএসএমই-র আওতাধীন।

আরও পড়ুন : জঙ্গলমহলে স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে শুরু যুবসাথী ক্যাম্প, রবীন্দ্র পার্কে খতিয়ে দেখলেন মন্ত্রী বীরবাহা

গোটা বিশ্বের বুকে পরিসংখ্যান তুলে ধরতে গিয়ে কেন্দ্রের সরকার দাবি করছে গত এক বছরে এমএসএমই সেক্টরে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। এর কারণ হিসাবেও যাতায়াত থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা, এয়ারপোর্ট, বন্দরের সংখ্যা বৃদ্ধি থেকে জিএসটিতে সাধারণ মানুষের বোঝা লাঘব করাকেই কৃতিত্ব দিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। আর তার জোরেই বস্ত্রশিল্প, চর্মশিল্প থেকে গয়না ও প্যাকেটজাত খাবারের শিল্পের এমএসএমএসগুলিকে নিয়ে ৩৮ দেশের পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে ভারত।

–

–

–


