আবারও বিজেপি রাজ্য। আবারও পানের জল থেকেই এমন দূষণ যে প্রাণ হারাতে হল মানুষকে। এবার জল দূষণ বিজেপি শাসিত হরিয়ানায় (Haryana)। পালওয়াল (Palwal) জেলার ছায়ানসা গ্রামে গত ১৫ দিনে পাঁচ স্কুলছাত্র-সহ কমপক্ষে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে এখন কেউ না কেউ জ্বর, কাশি, শরীরে ব্যথা এবং বমির মতো লক্ষণে ভুগছেন। বারবার হাসপাতালে যাওয়ার পরেও বেশ কয়েকজন রোগীর অবস্থা গুরুতর। মৃত্যু যত বাড়ছে তত মৃত্যুর কারণ ভুল দেখিয়ে জল দূষণকে (water pollution) ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি প্রশাসন (BJP state), দাবি বাসিন্দাদের।

জলের ১০৭টি নমুনার মধ্যে ২৩টির গুণগত মান খারাপ। ব্যাকটেরিয়া মিলেছে। সূত্রের খবর, স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা জলের কয়েকটি নমুনায় হেপাটাইটিস বি ও সি (Hepatitis B, C) ভাইরাস পেয়েছেন। সে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, শত শত বাসিন্দার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করছে, কিন্তু এখনও মৃত্যুর কোন নির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করতে পারেননি। বেশিরভাগ আক্রান্তের ক্ষেত্রে একই রকম লক্ষণ দেখা গিয়েছে। বাসিন্দারা মনে করেছেন দূষিত জল (water pollution) পানের ফলেই একের পর এক মৃত্যু হচ্ছে।

গ্রামবাসীদের প্রশ্ন, কেন হেপাটাইটিস বি এবং সি (Hepatitis B, C) শুধুমাত্র কিছু মৃত্যুর কারণ হিসেবে রিপোর্ট দেখানো হচ্ছে? যেখানে বাকিদের মাল্টি-অর্গান ফেলিয়োর (multi organ failure) এবং লিভারের সংক্রমণও দেখা যাচ্ছে। যা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গ্রামবাসীরা।

আরও পড়ুন : জোকা মেট্রোর কাছে দুর্ঘটনা: মৃত্যু ২ বাইক আরোহীর

স্থানীয় স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তাঁরা ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তদন্ত শুরু করেছেন, মেডিকেল রেকর্ড এবং নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এখন পর্যন্ত পরীক্ষা করা প্রায় ৩০০ রক্তের নমুনার মধ্যে মাত্র দুটিতে হেপাটাইটিস বি বা সি পাওয়া গিয়েছে। ৪০০ জনেরও বেশি লোকের পরীক্ষা হয়েছে। পানীয় জলের পরীক্ষাও শুরু হয়েছে: সংগ্রহ করা ১০৭টি পরিবারের জলের নমুনার মধ্যে ২৩টি গুণমান পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে, ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি এবং সঞ্চিত জলে অপর্যাপ্ত ক্লোরিনেশন দেখা গিয়েছে।

২০২৫ সালের শেষের দিকে, ইন্দোর – বারবার দেশের “সবচেয়ে পরিষ্কার” শহর হিসেবে স্থান পেয়েছে – কিন্তু সেখানে দূষিত জল খেয়ে একাধিক মৃত্যু এবং বহু মানুষই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। বাদ পড়েনি মোদির নিজের রাজ্য গুজরাটও। সেখানেও রাজধানী গান্ধীনগরে জলদূষণের জেরে মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের।

–

–

–

–


