কেরলের (Kerala) ১০ মাসের একরত্তি শিশু প্রমাণ করে দিয়ে গেল, নিভে যাওয়ার আগে কীভাবে অন্য পাঁচটি প্রদীপ জ্বালিয়ে দিয়ে যাওয়া যায়। রাজ্যের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ অঙ্গদাতা (Youngest Organ Donor) হিসেবে নজির গড়ে রবিবার চিরবিদায় নিল আলিন শেরিন আব্রাহাম (Aalin Sherin Abraham)। চোখের জলে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গির্জার সামনে ভিড় করেছিলেন শত শত মানুষ। এই একরত্তিকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার (Guard Of Honour) দিয়ে বিদায় জানায় কেরল পুলিশ।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছিল আলিন। মা ও দাদু-দিদার সঙ্গে গাড়িতে যাওয়ার সময় উল্টো দিক থেকে আসা একটি গাড়ি সজোরে ধাক্কা মারে তাদের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় কোচি নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। ১২ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসকরা তার ‘ব্রেন ডেথ’ (Brain Death) ঘোষণা করেন। নিজের সন্তানকে হারানোর যন্ত্রণার মাঝেও এক কঠিন সিদ্ধান্ত নেন বাবা অরুণ আব্রাহাম ও মা শেরিন অ্যান জন। তাঁরা স্থির করেন, নিজেদের কোল খালি হলেও অন্য কোনও বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফিরিয়ে দেবেন তারা। আরও পড়ুন: ‘খালিস্তান বানিয়ে দেব’ গুজরাটের ১৩টি স্কুলে হুমকি মেল-বোমাতঙ্ক

অঙ্গ দানের (Organ Donation) জন্য তৈরি করা হয়েছিল বিশেষ গ্রিন করিডোর (Green Corridor) । রাতে হেলিকপ্টার ওড়ার অনুমতি না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সেই শুরু হয় দৌড়। কোচি (Kochi) থেকে তিরুবনন্তপুরম (Thiruvananthapuram)— প্রায় ২৩০ কিলোমিটার পথ পুলিশি তৎপরতায় পার করা হয় মাত্র ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিটে। আলিনের লিভার (liver), দুটি কিডনি (kidneys), হৃদযন্ত্রের ভালভ (heart valve) ও কর্নিয়া (cornea) দান করা হয়েছে। এর ফলে যকৃৎ ফিরে পেয়েছে ৬ মাসের এক শিশু, আর কিডনি প্রতিস্থাপিত হয়েছে ১০ বছরের এক বালকের শরীরে।

রবিবার পাঠানামথিট্টার (Pathanamthitta) গির্জায় আলিনের শেষকৃত্যে (Funeral) হাজির ছিলেন কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ (Veena George) ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুরেশ গোপী (Suresh Gopi) । প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) নির্দেশে জাতির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন গোপী। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন (Pinarayi Vijayan) এই ঘটনাকে ‘মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত’ বলে মনে করেছেন। অভিনেতা কমল হাসান (Kamal Haasan) আবেগঘন বার্তায় লিখেছেন, আলিন এখন পাঁচটি জীবনের স্পন্দনে বেঁচে থাকবে। অভিনেতা মোহনলাল তাকে ‘ছোট্ট দেবদূত’ বলে অভিহিত করেন। আলিন চলে গেলেও বর্তমানে তাঁর দৃষ্টি আজ অন্য কারও চোখের আলো, হৃদযন্ত্রের স্পন্দন অন্য কোনও ছোট্টো শরীরে।

–

–

–

–

–

–

