জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্ট ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেআইনি গরুপাচারে সহায়তা করার অভিযোগে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF)-র এক সাব-ইনস্পেক্টরকে দোষী সাব্যস্ত করে। অনেক জলঘোলার পর সেই রায়ই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের বেঞ্চ জানিয়ে দেয় জাতীয় নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত রক্ষার আধিকারিকের কোনও ভুল হালকা ভাবে নেওয়া যায় না তাই ১৯৬৮ সালের বিএসএফ আইনের ৪৮(১)(সি) ধারায় দোষীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।

বিএসএফ জওয়ান ভগীরথ চৌধুরী ৩৬ বছর ধরে ভারত-বাংলাদেশ (India-Bangladesh) সীমান্তের ১৬ নম্বর গেটে পোস্ট কমান্ডার হিসেবে কর্মরত। তাঁর বিরুদ্ধে যথেষ্ট উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে গরুপাচারে মদত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে এবং একজন দোষ স্বীকারও করেছিলেন। প্রাথমিক শুনানি এবং প্রমাণ সংগ্রহের পরে মামলাটি জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে ওঠে। ১৯৬৮ সালের BSF আইনের ৪০ নম্বর ধারায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে ছ’মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এমনকি চাকরি থেকেও বরখাস্ত করা হয়। ভগীরথ সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে যান যেখানে তাঁর আইনজীবী সওয়াল করেন গরুপাচারকাণ্ডে প্রমাণ বিশ্বাসযোগ্য নয় এবং স্বীকারোক্তি জোর করে নেওয়া হয়েছে। তাঁকে অন্যায্য ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। যদিও দিল্লি হাই কোর্ট (Delhi High Court) ভগীরথের আবেদন খারিজ করে। এরপর ভগীরথ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন কারণ তিনি পেনশন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বিএসএফের তরফে সুপ্রিম কোর্টে বলা হয় জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে দোষীকে সওয়াল করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

সবদিক খতিয়ে দেখেই সুপ্রিম কোর্ট জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টের রায় বহাল রাখে। জানানো হয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী চাইলে একাধিক শাস্তি দিতে পারে, চাকরি থেকে বরখাস্তও করতে পারে। ভগীরথের রেকর্ড একেবারেই ভাল নয়! ১৯৮০ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে চারবার দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তিনি। প্রথমবার দোষী সাব্যস্ত হয়ে ১০ দিন জেলে ছিলেন তিনি। দু’বারও কড়া শাস্তি পেয়েছিলেন। চতুর্থবার গরুপাচার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। তবুও ৩৬ বছরের কর্মজীবনের বিষয়টি মাথায় রেখে পেনশনের জন্য ‘রিপ্রেজেন্টেশন’ জমা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে পেনশন দেওয়া হবে কি না, সেই নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে বলেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

–

–

–

–

–

–

–


