কলকাতায় অনুষ্ঠিত হল ভারতীয় বক্সিং ফেডারেশনের( Bengal Boxing Foundation) বার্ষিক সাধারণ সভা। এই সভায় সংগঠনের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন হয়। সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত হন শরদ ভুটোরিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান গৌরব গোস্বামী। নির্বাচন আধিকারিক সকল জেলা বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।

এই অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক খেলোয়াড় ও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন, যা রাজ্যে বক্সিং আন্দোলনের বিস্তৃত অংশগ্রহণ ও শক্ত ভিতের ছবিই স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। সভা উপলক্ষে কলকাতায় আসেন ভারতীয় অপেশাদার বক্সিং ফেডারেশন (Indian Amateur Boxing Federation) এর জাতীয় সভাপতি ড. রাকেশ মিশ্র। তাঁকে কলকাতা বিমানবন্দরে বক্সিং খেলোয়াড় (Boxing player) ও কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানানো হয়।

নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এই বার্ষিক সাধারণ সভায় বিশেষ সভা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয় IABF (আইএবিএফ) এর জাতীয় সভাপতি ড. রাকেশ মিশ্র এবং সাধারণ সম্পাদক রাকেশ ঠাকরানের তত্ত্বাবধানে। তাঁরা সংগঠনের স্বচ্ছতা, কাঠামোগত শক্তিবৃদ্ধি এবং খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশ দেন।

সভায় ভারতীয় বক্সিংয়ের ইতিহাস নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা জানান, সংগঠিত ও নিয়মতান্ত্রিক ভারতীয় বক্সিংয়ের পথচলা শুরু হয়েছিল বাংলার মাটি থেকেই। এখান থেকেই বক্সিং একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিতি পায় এবং ধীরে ধীরে জাতীয় স্তরে বিস্তার লাভ করে।

এই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে IABF। বর্তমানে এই সংস্থা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে অপেশাদার বক্সিংকে সংগঠিত করছে। খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি ও জাজদের জন্য অভিন্ন নিয়ম, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং প্রতিযোগিতার কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানে ভারতীয় বক্সিংকে এগিয়ে নিয়ে যেতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং International Boxing Association-এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে সংস্থাটি।

সভায় জানানো হয়, IABF-এর মূল লক্ষ্য খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা। প্রতিটি ভারতীয় বক্সারকে আর্থিক সহায়তা, আধুনিক পরিকাঠামো ও উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে দেশ ও বিদেশে সাফল্যের সুযোগ করে দেওয়াই এই সংগঠনের উদ্দেশ্য।

আগামী দিনে পেশাদার বক্সিং লিগ চালু করা, সিনিয়র, জুনিয়র ও যুব স্তরে জাতীয় প্রতিযোগিতা আয়োজন, রাজ্য ও জেলা ইউনিট আরও শক্তিশালী করা, কোচ ও রেফারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং স্কুল–কলেজ স্তরে প্রতিভা অনুসন্ধান কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নবনির্বাচিত সভাপতি শরদ ভুটোরিয়া সকল জেলা সংস্থা, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলার বক্সিংকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হবে। সাধারণ সম্পাদক গৌরব গোস্বামী দক্ষতার সঙ্গে সভার সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

ড. রাকেশ মিশ্র তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলার বক্সিং ঐতিহ্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সঠিক পরিকল্পনা ও সংগঠনের মাধ্যমে এখানকার প্রতিভাবান খেলোয়াড়রাই আগামী দিনে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। তাঁর কথায়, বাংলায় শুরু হওয়া এই যাত্রা আজ একটি জাতীয় ক্রীড়া আন্দোলনের রূপ নিয়েছে।

–
–
–
–


