কলকাতা পুলিশ বাহিনীর শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হল। বৃহস্পতিবার এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয় কলকাতা পুলিশের প্রতিটি কর্মীকে জানতে হবে যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের আচরণ, কর্তব্যরত অবস্থায় হোক বা বাইরে, গোটা পুলিশ বিভাগ এবং সরকারের প্রতিরূপ। শুধুমাত্র অনুমোদিত কর্মকর্তারা কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিবৃতি, ব্রিফিং করতে পারবে। এই ধরনের সমস্ত যোগাযোগ তথ্যভিত্তিক এবং কঠোরভাবে অনুমোদিত তথ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। ব্যক্তিগত মতামত আর বাস্তব তথ্য মিলিয়ে ফেলা যাবে না।

এছাড়াও এদিনের নির্দেশিকায় বলা হয়, ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট, মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশন, বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সহ কোনও পরিস্থিতিতেই কোনও সংবেদনশীল, অপারেশনাল, গোয়েন্দা-সম্পর্কিত, বা তদন্ত-সম্পর্কিত তথ্য ভাগ করা যাবে না। পুলিশ কর্মীদের এমন কোনও পোস্ট শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে যা কোন তদন্তকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এছাড়া প্রমাণ নষ্ট হতে পারে, তদন্তের কৌশল প্রকাশ করতে পারে, অথবা অভিযুক্তদের মিডিয়া ট্রায়ালের কারণ হতে পারে এমন কোন তথ্য দেওয়া যাবে না। সরকারি নীতি, পরিকল্পনা, রাজনৈতিক বিষয়, অথবা ধর্মীয় বিষয়ে ব্যক্তিগত মতামত এমনভাবে প্রকাশ করা যাবে না যা নিরপেক্ষতার সাথে আপস করা মনে হবে। জনসাধারণের আস্থা নষ্ট করতে পারে বা প্রযোজ্য আচরণবিধি লঙ্ঘন করতে পারে এমন বক্তব্য রাখা যাবে না। অন্যান্য বিভাগ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সহকর্মী, প্রতিষ্ঠান, সামাজিক রীতিনীতি বা চলমান সরকারি কর্মসূচি সম্পর্কে জনসাধারণের কাছে কোনও বিরূপ মন্তব্য করা যাবে না।

ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে অফিসিয়াল,গতিবিধি, তদন্তের অগ্রগতি বা সংবেদনশীল পোস্ট করা যাবে না। সরকারি যানবাহন, অফিস, , ইউনিফর্ম, ব্যাজ বা অন্যান্য সরকারি সরঞ্জাম ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি তৈরির জন্য ব্যবহার করা যাবে না। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিজের চেহারা, পোশাক/ইউনিফর্ম এবং ভাষা সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পুলিশ সদস্য/অফিসার হিসেবে নিজেদের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। পুলিশ কর্মীদের অনলাইনে তর্ক-বিতর্ক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অ-পেশাদার আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে। ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি বা পরিচালনার জন্য অফিসিয়াল ইমেল আইডি ব্যবহার করা যাবে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় যেকোনো বিষয়বস্তু পোস্ট করার আগে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

সবমিলিয়ে কোনও অফিসিয়াল বা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে প্রতিকূল বিষয়বস্তু প্রকাশিত হলে, বিষয়টি অবিলম্বে কর্মকর্তাদের নজরে আনা হবে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। জারি করা নির্দেশিকার অন্যথা হলে প্রযোজ্য আইনের অধীনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন – বিজেপি রাজ্যে হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে মাধ্যমিকের প্রশ্নপত্র ফাঁস! গ্রেফতার শিক্ষিকা

_

_

_

_

_
_


