বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্য সরকারের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বিতর্কিত ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্প নিয়ে আইনি লড়াইয়ে বড়সড় স্বস্তির ইঙ্গিত মিলল সুপ্রিম কোর্টে। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি শেষে বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ এবং সওয়াল-জবাবের গতিপ্রকৃতি দেখে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, শীর্ষ আদালত শেষ পর্যন্ত রাজ্য সরকারের পক্ষেই সায় দিতে পারে। দীর্ঘ শুনানি পর্ব শেষ হলেও আপাতত রায় স্থগিত বা ‘রিজার্ভ’ রেখেছে আদালত।

এদিন বিচারপতি বিক্রম নাথের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে মামলার শুনানিতে রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী। তিনি কড়া ভাষায় প্রশ্ন তোলেন, সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য রাজ্য যদি বাড়ি বাড়ি রেশন পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়, তবে কেন্দ্রীয় সরকার কেন তাতে আপত্তি জানাচ্ছে? দ্বিবেদী যুক্তি দেন, এই প্রকল্প যখন শুরু হয়েছিল, তখন কেন্দ্র কোনো প্রতিবাদ করেনি। বরং এই প্রকল্পের মাধ্যমে রেশন ডিলাররা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তার জন্য রাজ্য সরকার প্রতি মাসে তাঁদের ৫০০০ টাকা অতিরিক্ত দিচ্ছে এবং গাড়ি কেনার জন্য এক লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।

রাজ্যের এই সওয়ালের মুখে কার্যত রক্ষণাত্মক মেজাজে দেখা যায় কেন্দ্রের আইনজীবীকে। কেন্দ্রের তরফে দাবি করা হয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘ওয়ান নেশন ওয়ান রেশন’ কার্ড নীতি মানছে না। কিন্তু বিচারপতিরা কেন্দ্রের এই অভিযোগ গ্রাহ্য করেননি। উল্টে বিচারপতি সন্দীপ নাথ রাজ্যের এই উদ্যোগকে বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় ডেলিভারি অ্যাপ ‘ব্লিংকিট’-এর পরিষেবার সঙ্গে তুলনা করেন। বিচারপতিরা কেন্দ্রের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, কলকাতা হাইকোর্টে যখন এই মামলা চলছিল, তখন কেন ‘ওয়ান নেশন ওয়ান রেশন’ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়নি? কেন্দ্রের আইনজীবী এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

আদালত কক্ষের পরিবেশ এদিন রাজ্যের অনুকূলেই ছিল বলে মনে করছেন আইনজীবী মহলের বড় অংশ। বিচারপতিরা জানিয়েছেন, সমস্ত পক্ষকে আগামী সাত দিনের মধ্যে লিখিত বয়ান জমা দিতে হবে। কেন্দ্রের আপত্তির সারবত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শীর্ষ আদালত যেভাবে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের অধিকারের কথা উল্লেখ করেছে, তাতে নবান্নের অন্দরে খুশির হাওয়া। এখন দেখার, সংরক্ষিত রায় শেষ পর্যন্ত রাজ্যের ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্পকে স্থায়ী আইনি শিলমোহর দেয় কি না।

আগামী সপ্তাহে লিখিত সাবমিশন জমা পড়ার পরেই চূড়ান্ত রায়ের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারে সুপ্রিম কোর্ট। নির্বাচনের মুখে এই রায় রাজ্যের শাসক দলের জন্য বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন – জয়ের দিনেও বিতর্কে ক্যারিবিয়ান পেসার, ভারতকে সতর্কবার্তা হোপদের

_

_

_

_
_

