ঈদের পর প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবেন বলে কথা দিয়েছিলেন নওশাদ সিদ্দিকি। সেই মতো সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ২৩ জন প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)। প্রত্যাশিত ভাবেই নিজের পুরনো দুর্গ ভাঙড় থেকেই ফের লড়ছেন নওশাদ। তবে সবথেকে বড় চমক ক্যানিং পূর্ব আসনে। তৃণমূল থেকে আসা আরাবুল ইসলামকে শওকত মোল্লার খাসতালুকেই প্রার্থী করল নওশাদের দল।

তৃণমূল এবার শওকত মোল্লাকে ক্যানিং পূর্ব থেকে সরিয়ে পাঠিয়েছে ভাঙড়ে। অর্থাৎ, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে যে কেন্দ্রে জোটের একমাত্র প্রদীপ জ্বলেছিল, সেখানে এবার সম্মুখসমরে নওশাদ ও শওকত। অন্য দিকে, শওকতের দীর্ঘদিনের চারণভূমি ক্যানিং পূর্ব আসনে আরাবুলকে দাঁড় করিয়ে আইএসএফ নেতৃত্ব বুঝিয়ে দিলেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সংখ্যালঘু প্রধান ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে তাঁরা মরিয়া। ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ভাঙড়ের বিধায়ক থাকা আরাবুল এবার পাশের কেন্দ্রে আইএসএফ-এর ঝাণ্ডা হাতে কতটা দাগ কাটতে পারেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

এদিনের তালিকায় নজর কেড়েছে নন্দীগ্রামও। সেখানে বিশিষ্ট শিক্ষক মাওলানা মহম্মদ শবে মিরাজ খানকে প্রার্থী করেছে আইএসএফ। গত শুক্রবারই নওশাদরা জানিয়েছিলেন, বামেদের সঙ্গে আসন রফা হলেও নন্দীগ্রাম, মুরারই বা পাঁশকুড়া পশ্চিমের মতো স্পর্শকাতর আসনগুলিতে তাঁরা লড়তে চান। সোমবারের তালিকায় সেই দাবি মতোই মুরারই থেকে হজরত আলি এবং পাঁশকুড়া পশ্চিম থেকে আফজল আলু শাহের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বামফ্রন্টের সঙ্গে ২৯টি আসনে সমঝোতা হওয়ার কথা থাকলেও এদিন মাত্র ২৩টি আসনের প্রার্থীর নাম জানানো হয়েছে। মুর্শিদাবাদের আসনগুলি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা বাকি। তবে হুগলির খানাকুল, হরিপাল থেকে শুরু করে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর, দেগঙ্গা বা হাড়োয়ার মতো আসনগুলিতে আইএসএফ প্রার্থীরাই যে জোটের মুখ হতে চলেছেন, তা এদিন স্পষ্ট হয়ে গেল। ভাঙড় ও ক্যানিংয়ের এই ‘অদলবদল’ ঘিরেই এখন সরগরম দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতি।

আরও পড়ুন – মিলছে না LPG: নাহুমসের পরে বন্ধ হাতিবাগানের ‘নব মালঞ্চ’!

_

_

_

_

_
_
