Tuesday, May 26, 2026

স্বেচ্ছামৃত্যু প্রক্রিয়া সম্পন্ন: হরিশ রানার শেষ অধ্যায়ে ভারতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা

Date:

Share post:

একটি অধ্যায়ের শেষে সবসময়ই একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। উত্তরপ্রদেশের হরিশ রানার মৃত্যুতে একদিকে যেমন তাঁর দীর্ঘ রোগ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি হল, তেমনই ভারতে প্যাসিভ ইউথনেশিয়া (passive euthanasia) বা স্বেচ্ছামৃত্যুতে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুলে গেল। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতি বছর হরিশের মতো যে ভারতীয়রা মৃত্যুর অপেক্ষা করেন, কিন্তু দেশের আইনের কারণে অনুমতি পান না, তাঁদের জন্য খুলে গেল এক নতুন পথ, নতুন উদাহরণ।

দিল্লির এমএসের (Delhi AIIMS)  বিআর অম্বেডকর ইনস্টিটিউট রোটারি ক্যানসার হাসপাতালে (Dr BR Ambedkar Institute Rotary Cancer Hospital) মঙ্গলবার মৃত্যু হল ৩১ বছরের হরিশ রানার (Harish Rana)। হরিশই দেশের প্রথম ব্যক্তি, যাকে দীর্ঘ ১৩ বছরের আদালতের যুদ্ধের পরে দেশের সুপ্রিম কোর্ট ‘পরোক্ষ’ নিষ্কৃতিমৃত্যুর (passive euthanasia) অনুমতি দিয়েছিল। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার হরিশের রয়েছে। আদালত আরও নির্দেশ দেয়, তাঁর জীবনদায়ী সাহায্য ধীরে ধীরে বন্ধ করতে হবে। সেই পথেই মঙ্গলবার মৃত্যু হল ৩১ বছরের হরিশ রানার।

২০১৩ সালে পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের (Punjab University) বি-টেকের তৎকালীন ছাত্র হরিশ হস্টেলের চারতলার ব্যালকনি থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় মারাত্মক চোট পান। সেই থেকেই তিনি ভেজিটেটিভ স্টেট বা কোমায় আচ্ছন্ন। সুস্থ হয়ে ওঠার আর কোনও আশা ছিল না। কৃত্রিম অক্সিজেন আর রাইলস টিউব দিয়ে নাকে নল ঢুকিয়ে খাবার দেওয়ার মাধ্যমেই কোনওমতে প্রাণ ছিল তাঁর শরীরে।

উত্তরপ্রদেশের (Uttarpradesh) গাজিয়াবাদের বাসিন্দা হরিশের বাবা-মা দিনের পর দিন ছেলের এই তিলে তিলে কষ্ট পাওয়া আর সহ্য করতে পারছিলেন না। তাঁরাই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে আবেদন করেন, চিকিৎসায় যখন আর কোনও আশা নেই, তখন যেন কৃত্রিমভাবে ছেলেকে কষ্ট দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা না হয়। হরিশের বাবা-মায়ের আবেদন মেনে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে বি পর্দিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের ডিভিশন বেঞ্চ গত ১১ মার্চ হরিশের পরোক্ষ নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমোদন দেয়।

আরও পড়ুন : নিষ্কৃতিমৃত্যুর পথে যাত্রা, বন্ধ হরিশের পুষ্টি ও রক্ত পরীক্ষা

আদালতের নির্দেশে গত ১৪ মার্চ হরিশকে তাঁর গাজ়িয়াবাদের বাড়ি থেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশে প্রথমবার প্যাসিভ ইউথনেশিয়া (passive euthanasia) প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বেদনামুক্ত করার জন্য দিল্লি এইমস (Delhi AIIMS) চিকিৎসক সীমা মিশ্রের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ দল তৈরি করে। সেই দলে ছিলেন নিউরোসার্জন, ক্যানসার বিশেষজ্ঞ, প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, মনস্তত্ত্ববিদ। তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ধাপে ধাপে হরিশের কৃত্রিম পুষ্টি ও জীবনদায়ী ব্যবস্থা বন্ধ করেন। পরিবারের অনুরোধ অনুযায়ী গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় পরে মঙ্গলবার প্রাণ ত্যাগ করেন হরিশ।

Related articles

সিবিএসই-র ভুল উত্তরপত্র নিয়ে সরব হতেই ‘পাকিস্তানি’ তকমা পেলেন ছাত্র!

নিট (NEET) ছাড়াও চলতি বছর সিবিএসই-র (CBSE) দ্বাদশ শ্রেণির ফিজিক্স পরীক্ষার উত্তরপত্র ঘিরে বিতর্ক এখন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা...

কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রীকে গার্ড অফ অনার, বৈঠকে হাজির তৃণমূল সাংসদ কাকলিও 

মঙ্গলবার সকালে কল্যাণীতে তিন জেলা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) প্রশাসনিক বৈঠক করতে চলেছেন। এদিন সকালে...

পেট্রোল-ডিজেলের পর মহার্ঘ CNG, মঙ্গলবার থেকেই কার্যকরী নতুন দাম

সপ্তাহের দ্বিতীয় ব্যস্ততম দিনে ঊর্ধ্বমুখী সিএনজির দাম (CNG Price hike)। সোমবার পেট্রোল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধির পর কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস...

আজ তিন জেলা নিয়ে কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক 

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী (CM) হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন জেলায় ও নবান্নে একাধিক প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন শুভেন্দু...