Saturday, March 28, 2026

কমিশনের রাজ্যের আধিকারিক বদলি মামলা: রায়দান স্থগিত রাখল হাই কোর্ট

Date:

Share post:

নির্বাচন ঘোষণার পরে রাতারাতি বাংলার মুখ্যসচিবের মতো আধিকারিক থেকে ডিজি বদল করে নজির তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ রাজ্য সরকার। কার্যত প্রতি পদক্ষেপে সংঘাতে রাজ্য ও কমিশন (Election Commission)। শুক্রবার সেই মামলা রাজ্যের তরফে প্রশ্ন তোলা হল, কেন নির্বাচনের জন্য শুধু রাজ্যের আধিকারিকরা (State Government official) বদলি হলেন? কেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা হলেন না। যদিও দুপক্ষের শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রেখেছে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের (Chief Justice Sujoy Pal) বেঞ্চ।

কয়েক ধাপে রাজ্যের একাধিক আইপিএস ও আইএএস বদলি করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোট পরিচালনার জন্য সেই জায়গায় ভিন রাজ্য থেকে পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারীকদের আনা হয়েছে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় হাই কোর্টে। মামলা করেন আইনজীবী অর্ক কুমার নাগ। শুক্রবার সেই মামলার শুনানিতেই সিআইএসএফ-বিএসএফ আধিকারিকদের বদলি না হওয়ার প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়। পাশাপাশি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও প্রশ্ন, কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থার শীর্ষকর্তাকে ট্রান্সফার করা হয়নি। কেন?

সেই সঙ্গে রাজ্যের আধিকারিকদের সপক্ষে তাঁর যুক্তি, শুধু নির্বাচন পরিচালনা করার দায়িত্ব মুখ্যসচিবের (Chief Secretary) নয়। তাঁর দায়িত্ব গোটা রাজ্যের সমস্ত কাজ সঠিকভাবে পরিচালনা করা।

অন্যদিকে, কমিশনের এক্তিয়ার নিয়ে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) কিশোর দত্ত প্রশ্ন তোলেন, ডিজি (DGP), আইজিপি-কে (IGP) কী করণিক বলা যায়? সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন ক্লারিক্যাল স্টাফদের ক্ষেত্রে রদবদল করতে পারে।

আরও পড়ুন : রাজনৈতিক সংঘর্ষের জের! কমিশনের নির্দেশে সাসপেন্ড বাসন্তী থানার আইসি

রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত ও মামলাকারীর আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন অন্য কোনও রাজ্যে এত বেশি সংখ্যায় আধিকারিক বদল করা হয় না। তার প্রেক্ষিতে কমিশনের আইনজীবী জানান, বিহারে গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে ৪৮ জন আধিকারিকের বদলি করা হয়। তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হলেও শীর্ষ আদালত তাতে হস্তক্ষেপ করেনি। পাশাপাশি, অন্যান্য অন্যান্য রাজ্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানান, মহারাষ্ট্রে ৬১, উত্তরপ্রদেশে ৮৩, মধ্যপ্রদেশে ৪৯ জনকে বদলি করা হয়েছিল। সেখানে পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ২৩ জন আমলা ও পুলিশ আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে। হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এদিন সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর এদিন রায়দান স্থগিত রাখে।

Related articles

ফের মধ্যরাতে কমিশনের কড়া নাড়া: প্রকাশিত দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা

মধ্যরাত যেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের জমানায় একটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংসদের অধিবেশন থেকে নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে বাংলার শীর্ষ...

১২ বছরে ডবল ইঞ্জিন পূর্ব মেদিনীপুরে ক’পয়সার উন্নয়ন! কোলাঘাট থেকে প্রশ্ন অভিষেকের

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন আবহে বারবার বিজেপির বহিরাগত নেতারা ডবল ইঞ্জিন সরকারের উদাহরণ দেয়। এবার পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটে (Kolaghat)...

অ্যাডজুডিকেশনে ১১ প্রার্থী: হাই কোর্টে দ্রুত নিষ্পত্তির আর্জি তৃণমূলের

রাজ্যের অ্যাডজুডিকেশনে থাকা ভোটারদের মধ্যে যাদের রাজনৈতিক দলগুলি প্রার্থী করতে চলেছে, তাঁদের জন্য কলকাতা হাইকোর্টে জরুরী ভিত্তিতে আবেদন...

মিছিল ঘিরে উত্তেজনা মুর্শিদাবাদে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি: নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি

কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে রাজ্যে রামনবমী পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। সেই মতো রাজ্যের সর্বত্র নির্বিঘ্নে রামনবমী...