ভোটমুখী বাংলায় মানুষের রুজি- রুটিতে কোপ কমিশনের (ECI)! আগামী ২৩ প্রথম দফা নির্বাচনের আগে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কমিশন জানাল, ভোটের দু’দিন আগে থেকে সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে রাস্তায় বাইক নিয়ে বেরনো যাবে না। সব ধরনের বাইক মিছিলেও (Bike Rally) নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে দু চাকা ব্যবহার করলেও সেক্ষেত্রে বাইকের পিছনে কাউকে বসানো যাবেনা বলেও কমিশনের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে যারা অনলাইন ডেলিভারি করেন তাঁদের কী হবে? তাঁদের রুজিরুটিতে যেভাবে কোপ মারছে কমিশন , তার বিরোধিতার বিরোধিতায় সরব রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)।

আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুদফায় পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হবে (West Bengal Assembly Election)। প্রথম দফা নির্বাচনের প্রচার শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায়। কমিশনের নির্দেশিকা বলা হয়েছে,
- • ভোটের দুদিন আগে থেকে কোনও বাইক র্যালি করা যাবে না।
- • সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরের দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক নিয়ে রাস্তায় বেরনো যাবে না।
- • প্রয়োজন ছাড়া বাইকের পিছনের আসনেও কাউকে বসানো যাবে না।
- • শুধুমাত্র মেডিক্যাল এমার্জেন্সি, সন্তানকে স্কুল থেকে আনার প্রয়োজনে রাস্তায় বাইক নিয়ে বেরনো যাবে।
- • ভোটের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোট দিতে যাওয়ার জন্য ও কোনও জরুরি প্রয়োজনে বাইক নিয়ে বেরনো যাবে।
- • এইসব শর্তের বাইরে কারও বাইক নিয়ে বেরনোর প্রয়োজন হলে, তাহলে নির্দিষ্ট থানা থেকে অনুমোদন নিতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই জ্ঞানেশ কুমারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের শাসকদলের তরফে বলা হয়েছে, বর্তমান সময় দাঁড়িয়ে অসংখ্য মানুষের জীবন- জীবিকা এই বাইকের উপর নির্ভরশীল। এইভাবে হঠাৎ করে ‘সুপার ইমারজেন্সি’র মতো একটা পরিস্থিতি তৈরি করে দেওয়া মানে তাঁদের রোজগার -অন্ন সংস্থানে কোপ বসানো। এটা কোনভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। গত কয়েকদিনে ভোট বঙ্গে একাধিক নিয়ম নির্দেশিকা জারি করেছে কমিশন। কখনও পর্যটনস্থান খালি করে দিতে বলা হচ্ছে, কখনওবা ভোটের দিন সিভিক পুলিশ- গ্রিন পুলিশদের কাজ থেকে অব্যাহতির কথা বলা হয়েছে। কী করতে চাইছে কমিশন? এভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিজেপিকে জেতানোর সব চক্রান্ত ব্যর্থ হবে, মানুষ আগামী দিনে গণতান্ত্রিকভাবে জবাব দেবে বলে দাবি রাজ্যের শাসকদলের ।

–

–

–

–

–
–
–
