১১ বছর আগে। তখন তিনি ছিলেন জার্মানির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। বর্তমানে ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট। তাঁকে টার্গেট করেছিল হ্যাকাররা। জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ দফতরের তথ্য হাতাতে তাঁর আঙুলের ছাপ চুরি করেছিল তারা। তাঁরই হাত তোলা ছবি থেকে সেই ছাপ নিয়ে হ্যাকিংয়ের (hacking) কাজ হয়েছিল। শুধুমাত্র আঙুলের ছবি থেকে চুরি হয়ে গিয়েছিল ফিঙ্গার প্রিন্ট (finger print)।
বর্তমানে উরসুলা ভন ডার লিয়েন (Ursula Von Der Leyen) ইউরোপিয়ান কমিশনের (European Commission) প্রেসিডেন্ট। তবে ১১ বছর আগে যখন তিনি শুধুই জার্মানির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ছিলেন তখনই হ্যাকারদের শিকার হয়েছিলেন তিনি। হ্যাকারদের একটি বৈঠকে তারাই জানিয়েছিল কীভাবে উরসুলাকে টার্গেট করেছিল তারা। প্রথমে খুব কাছ থেকে তোলা ছবি ব্যবহার হয়েছিল। তার ফেস আইডি ও আঙুলের ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। তার জন্য অত্যন্ত উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরাও ব্যবহার হয়েছিল। পরবর্তীকালে অ্যাপল (Apple) কর্তৃপক্ষও জানিয়েছিল তাদের স্ক্যানার প্রযুক্তিতে এভাবে আঙুলের ছাপ (finger print) সংগ্রহ সম্ভব। যদিও দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর পরিচয় হাতিয়ে তথ্য বের করতে সেবার সক্ষম হয়নি হ্যাকাররা। কিন্তু প্রমাণিত হয়েছিল এভাবে হ্যাকিং সম্ভব।

তবে আজকের পরিস্থিতি আরও সহজ হ্যাকারদের পক্ষে। কারণ, এটা এআই-এর জমানা। ১১ বছর আগে যেটা অসুবিধাজনক ছিল, এখন সেটা অনেকটা সহজ করে দিয়েছে বিশ্বের নবতম এই প্রযুক্তি, দাবি হ্যাকারদেরও। যদিও এখনও প্রযুক্তিবিদ বা প্রযুক্তি গবেষকরা এই সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ মেনে নিচ্ছেন না। তাঁরা দাবি করছেন এভাবে ছবি থেকে কারো ফিঙ্গার প্রিন্ট নেওয়া এত সহজ নয়। প্রথমত তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন হ্যাকারদের (hacker) পারদর্শিতার উপর। এই ধরনের কাজ করতে অত্যন্ত নিপুন হাতের কাজ প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, তাঁদের দাবি যে সোর্স (picture source) থেকে ছবি সংগ্রহ করা হচ্ছে সেটি কতটা নির্ভরযোগ্য তার উপর ফলাফল নির্ভর করছে। তৃতীয় এবং শেষ যুক্তি, একটি কপি করা ছবি থেকে স্ক্যান (scan) করে তাকে প্রয়োগ করা কার্যত অসম্ভব।

প্রযুক্তিবিদদের মূল দাবি, ছবি সাধারণত খুব দূর থেকে তোলা হয়। ফলে তাকে জুম করতে গেলে তা ফেটে যায়। যদি খুব কাছের ছবি হয়, সেক্ষেত্রেও স্ক্যানার পর্যন্ত পৌঁছাতে বারবার যেভাবে কপি করতে হয় তাতে তা দিয়ে কিছু করা সম্ভব নয়। সেই সঙ্গে হ্যাকারদের কাছে অত্যন্ত উচ্চ মানের ফোন (high resolution mobile) থাকলে তবেই এই ধরনের নিখুঁত কাজ করা সম্ভব।

যদিও হ্যাকারদের (hacker) কাছে এই সব প্রশ্নের সবথেকে বড় অস্ত্র – এআই (AI)। বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তির ফোনের (high resolution mobile) ব্যবহার অত্যন্ত সুলভ। এমনকি আইফোন ছাড়াও একাধিক সংস্থা ছবি তোলার জন্য অনেক উন্নত ফোন বাজারে এনেছে। সেই সব ফোনে এআই-এর ব্যবহারে ছবি থেকে আঙুলের ছাপ কপি করার বিষয়টি অনেক সূক্ষ্ম ও সহজ হয়েছে। সেক্ষেত্রে রেজলিউশন (resolution) কমে আঙুলের ছাপ বিকৃত হওয়ার সম্ভাবনাও কম হয়ে গিয়েছে।

সম্প্রতি চিনের একটি গবেষণা জানাচ্ছে, দুটি ক্ষেত্রে তো এই কাজ আরও সহজ হয়েছে। যখন হাতের প্রয়োজনীয় আঙুল ক্যামেরার দিকে পুরোপুরি তাক করা থাকছে তখন সঠিক ছবি পাওয়া সহজ হচ্ছে। সেই সঙ্গে ক্যামেরার থেকে ব্যক্তির দূরত্ব ১.৫ মিটারের মধ্যে হলে এই সময়ের যে কোনও ভালো মোবাইল ক্যামেরায় স্পষ্ট ছবি পাওয়া সম্ভব। আর এই দুটি শর্ত যদি মিলে যায় তবে স্পষ্ট ও প্রয়োজনীয় আঙুলের ছাপ বের করে নেওয়া একেবারেই অসম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুন : বন্দে ভারতের নিরাপত্তায় জোর, যাত্রী সুরক্ষায় এবার CORAS

ফলে এরপর থেকে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে ছবি তোলা থেকে আশা করা যায়, সাধারণ মানুষ সজাগ হবেন। বিশেষত ক্যামেরার সামনে নিজেদের আঙুল তুলে ধরতেও সতর্ক হবেন। সেই সঙ্গে ক্যামেরার খুব কাছে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার থেকেও যে বিরত থাকবেন, তা নিয়ে সতর্ক করছেন গবেষকরা। যেভাবে সূক্ষ্ম রবারের পর্দা ব্যবহার করে আঙুলের ছাপ বদলে ফেলা যায়, সেখানে ছবি থেকে যে পরিচয় প্রকাশ করা কঠিন হবে না, এমনটা আশাই করা যায়।
–
–
