রাজ্যে একাধিক তৃণমূল নেতার বাড়িতে মজুত একাধিক বেআইনি সামগ্রী মজুত রাখার অভিযোগ। অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিপুল পরিমাণ বেআইনি ডিজেল, সরকারি ত্রাণসামগ্রী এবং বাচ্চাদের ফুটবল উদ্ধার করেছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট তৃণমূল নেতাকে আটক করা হয়েছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল থানা এলাকায় এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ বেআইনি সামগ্রীর হদিশ পেয়েছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে স্থানীয় তৃণমূল নেতা নজরুল ইসলামের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৪০ ব্যারেল অবৈধ ডিজেল এবং বেশ কয়েক বস্তা সুপারি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল বাড়িতে মজুত রাখার কোনো বৈধ নথি বা সদুত্তর মেলেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে আসা পণ্যবাহী জাহাজগুলি থেকে তেল চুরি করে এনে এই নেতার বাড়িতে মজুত করা হতো। আরও পড়ুন: জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা কোথায়? আক্রান্ত কল্যাণকে দেখতে গেলেন দলনেত্রী

অভিযানের সময় মূল অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম পলাতক। যদিও পুলিশ তাঁর দাদা আনারুল মোল্লাকে আটক করে। তল্লাশি চলাকালীন এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যখন ফ্রেজারগঞ্জ তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি প্রসেনজিৎ জানাকে ওই বাড়ির শৌচাগার থেকে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় আটক করে পুলিশ। অভিযোগ, পুলিশ আসার খবর পেয়ে প্রসেনজিৎ বেআইনি সামগ্রী সরাতে এসেছিলেন, কিন্তু পালাতে না পেরে বাথরুমে লুকিয়ে পড়েন। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং নজরুল ইসলামের গ্রেফতারির দাবিতে উত্তেজিত জনতা ও বিজেপি কর্মীরা ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

নদিয়ার নবদ্বীপে সরকারি ত্রাণসামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে চরম অস্বস্তিতে তৃণমূল নেতা বিমানকৃষ্ণ সাহা। তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে তাঁকে তাঁর বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, বিমানের ফ্ল্যাটের পাশের এক ক্লাবঘরে আচমকা তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, সাধারণ মানুষের দুর্দশার দিনে বিলি না করে এই সরকারি ত্রাণসামগ্রী ক্লাবঘরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। রাতে পুলিশ যখন বিমানকৃষ্ণ সাহাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আছড়ে পড়ে। উত্তেজিত জনতা তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেয় এবং গাড়ি লক্ষ্য করে জুতো ছোড়ে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরেও সরকারি ত্রাণসামগ্রী অবৈধভাবে মজুত করার অভিযোগে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সুধাংশু নস্কর ওরফে ভাস্কর। শনিবার ভোরে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বারুইপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর (SI) অর্ঘ্য মণ্ডলের নেতৃত্বে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সুধাংশুর বাড়িতে অতর্কিত হানা দেয় পুলিশ। তাঁর ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে, ৭০টি সরকারি ত্রিপল, ৩০টি কম্বল, ৬টি সিল করা বাসনপত্রের প্যাকেট।

অন্যদিকে, রবিবার পূর্বস্থলী উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে হাজির হয় পূর্বস্থলী থানার পুলিশ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও উপস্থিত ছিলেন। কথাবার্তার পর তপন চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি তল্লাশি শুরু হয়। কিছু সময় তল্লাশির পরই ওই বাড়ি থেকে পাওয়া যায় প্রচুর সংখ্যায় ত্রিপল। বাচ্চাদের খেলার ফুটবলও পাওয়া যায় তাঁর বাড়ি থেকে! দুর্নীতির অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা তৃণমূল নেতাকে দেখে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়। তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে জেরা চলছে।

–

–
–
–
