পশ্চিমবঙ্গে হকার থেকে ছোট ব্যবসায়ীদের বলপূর্বক উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সরব হলেন রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন তিনি। সোমবার উচ্ছেদ হওয়া হকারদের অবিলম্বে পুনর্বাসনের দাবি তুলে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে চিঠিও পাঠিয়েছেন।

রেলমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে সামিরুল লিখেছেন, “কয়েক প্রজন্ম ধরে এ রাজ্যের রেলস্টেশনগুলি শুধুমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং হাজার হাজার দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের জীবিকা নির্বাহের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এই হকারেরা আমাদের অসংগঠিত অর্থনীতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যাঁরা রেলযাত্রীদের যেমন সাশ্রয়ী মূল্যে বিভিন্ন পরিষেবা দিয়ে আসছেন, ঠিক তেমনই কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের পরিবারকেও টিকিয়ে রেখেছেন।”

সাংসদের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন রেলস্টেশনে এবং বিভিন্ন জায়গায় রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনও রকম সুনির্দিষ্ট বা ব্যাপক পুনর্বাসন পরিকল্পনা ছাড়াই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। ফলে অসংখ্য পরিবার চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটের সম্মুখীন হচ্ছে। যে ভাবে এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, তা স্থানীয় বাসিন্দা এবং হকারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতিতে রেলমন্ত্রীর অবিলম্বে হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

চিঠিতে আরও কয়েকটি বিষয় তুলে ধরেছেন সামিরুল-
* হকারনীতি পর্যালোচনার ভিত্তিতে জনপ্রতিনিধি, স্বীকৃত হকার সংগঠন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বর্তমান উচ্ছেদনীতির একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করা।
* পুনরায় কোনও পদক্ষেপ করার আগে ক্ষতিগ্রস্ত সমস্ত হকারের জন্য একটি সময়োপযোগী ও নির্দিষ্ট পুনর্বাসন প্রকল্প তৈরি এবং তার বাস্তবায়ন করতে হবে।
* আইনি প্রক্রিয়া, আগাম নোটিস এবং অর্থপূর্ণ পুনর্বাসন ছাড়া কোনও নাগরিককে যেন তাঁর জীবিকা থেকে বঞ্চিত না করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন- পরবর্তী কর্মসূচি পুনে শহরে: দিন ঘোষণা ককরোচদের

_

_

_
_
_
_
