১৩ মার্চ থেকে নিখোঁজ মেয়ে(Missing Daughter), মাঝে আশার আলো দেখেছিলেন বাবা। কিন্তু সেই আশা বিলীন হয়ে গেল। দুর্গাপুরে নিখোঁজ তরুণীকে নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বাবা অর্ধেন্দু সিংহের(Ardhendu Singh)।

জানা গিয়েছে, গত ১৩ মার্চ থেকে নিখোঁজ ছিলেন অমৃতা সিংহ। দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি কলেজে ফার্মাসিস্ট পড়া শেষ করে সিউড়ির বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন অমৃতা। বাড়িতে ফেরার পর থেকেই মন খারাপ করে বসে থাকতেন অমৃতা। মেয়ের এই অবস্থা দেখে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন অমৃতা সেটা বোঝা যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ একদিন কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান তিনি। সেই থেকেই অসুস্থ শরীরে নানা জায়গায় মেয়ের খোঁজ শুরু করেন বাবা।

মাঝে কলকাতায় মেয়ের খোঁজ পান। কিন্তু কলকাতায় গিয়ে সেই ভবঘুরে তরুণীকে দেখে চোখের কোণ ভিজেছিল অর্ধেন্দু সিংহের। বিধাননগরের রাস্তায় ভবঘুরে তাঁর মেয়ে নয়। কিন্তু কলকাতা থেকে নিজের বাড়ির সিউড়িতে পৌঁছেও ওই ভবঘুরে তরুণীকে কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। ওই ভবঘুরে তরুণী তাঁর মেয়ে না হলেও তো অন্য কোনও বাবারই তো মেয়ে। সেই চিন্তা থেকে ওই ভবঘুরে তরুণীর জন্য কিছু খাবার এবং জামাকাপড় কিনে ফের কলকাতার আসেন। মেয়ের জন্য চিন্তার মাঝেও মানবিক হলেন অর্ধেন্দু(Ardhendu Singh)।

গত সোমবার রাতে সল্টলেকের ১৩ নম্বর ট্যাঙ্কের কাছে অটোরিকশার এক চালক এক ভবঘুরেকে দেখতে পান। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ নিজের ফোন ঘাঁটছিলেন ওই চালক। হঠাৎ সল্টলেক ১৩ নম্বর ট্যাঙ্কের কাছে লাল কুর্তি ও প্যান্ট পরে থাকা একটি মেয়েকে ফুটপাতে শুয়ে থাকতে দেখেন তিনি। তাঁকে দেখে অমৃতা বলে মনে হওয়ায় শনাক্ত করার জন্য কয়েকজনকে ডাকেন তিনি। তাঁরা মেয়েটিকে শনাক্ত করলে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নম্বর নিয়ে অর্ধেন্দু সিংহকে ফোন করেন তিনি। তরুণীর ছবি তুলে পাঠানো হয় অর্ধেন্দু সিংহকে। প্রাথমিকভাবে নিজের মেয়ে বলেই মনে হয় তাঁর বিধাননগরে এসে আশাভঙ্গ হয়।

–

–

–

–
–
