Saturday, May 23, 2026

শোভন, মুকুলের সৌজন্যেই আজ নারদের কাদা বিজেপির গায়ে, তবু যে প্রশ্নগুলো উঠবেই

Date:

Share post:

দল ভাঙিয়ে দল বাড়াও। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির জন্য এমনই নিদান দিয়েছে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি। আর তা মানতে গিয়ে সাপের ছুঁচো গেলার মত অবস্থা হয়েছে এরাজ্যের বিজেপি নেতা-কর্মীদের। একসময় যাদের জেলে পোরার দাবিতে শ্লোগান উঠেছে, এখন তাদেরই মালা পরিয়ে সম্বর্ধনা দিতে হচ্ছে! এতদিন তৃণমূলকে চোরেদের দল বলার পর সেই তথাকথিত চোরেরাই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে ঢুকে কীভাবে পটাপট সাধু হয়ে যাচ্ছেন তা এরাজ্যের অতি বড় বিজেপি সমর্থকেরও মাথায় ঢুকছে না। ধরা যাক আজ যদি নারদ ঘুষকান্ডে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিজেপিকে পথে নামতে হয় তাহলে তারা কি ফিরহাদ, মদন, সৌগত, সুব্রত ও অন্যান্যদের সঙ্গে শোভন, মুকুলেরও শাস্তির দাবি তুলবে? প্রকাশ্যে তা করার হিম্মত হবে রাজ্য বিজেপির? নাকি শোভন, মুকুলের সৌজন্যে স্বেচ্ছায় নারদের কাদা গায়ে মেখে বিজেপি এখন নারদ দুর্নীতির ইস্যুকেই ভুলে যেতে চাইছে? এবং তাতে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তৃণমূলকে আক্রমণ করার এত বড় একটা হাতে গরম ইস্যু হাতছাড়া হলেও কিছু করার নেই!

2016-র সেই দৃশ্যটা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি সচেতন প্রতিটা মানুষেরই এখনও স্মরণে থাকবে। বিজেপি রাজ্য দফতরের প্রজেক্টারে সাংবাদিকদের ডেকে নারদ স্টিং অপারেশনের ভিডিও ফুটেজ দেখাচ্ছিলেন বিজেপির তৎকালীন রাজ্য পর্যবেক্ষক সিদ্ধার্থনাথ সিং। রাজ্যের প্রথম সারির নেতা, মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধিদের এভাবে ঘুষ নেওয়ার দৃশ্য অন্য রাজ্যে আকছার ঘটলেও পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে ওটা একটা বেনজির কান্ডই ছিল। সেদিন সিদ্ধার্থনাথের পাশে বসে বা পরেও বিভিন্ন চ্যানেলের টক-শোতে নারদ নিয়ে প্রচুর লম্বাচওড়া কথা বলে আক্রমণ করতেন যে ব্যক্তি, তাঁর নাম জয়প্রকাশ মজুমদার। তৎকালীন মেয়রের তোয়ালে মুড়ে টাকা নেওয়া নিয়ে এই ব্যক্তি যা যা বলেছিলেন তা সেসব চ্যানেলের আর্কাইভেই পাওয়া যাবে। 2016 থেকে 2019। তোয়ালে মুড়ে টাকা নেওয়া শোভন চট্টোপাধ্যায় আদালতে নির্দোষ প্রমাণ হওয়ার আগেই সেই জয়প্রকাশই এখন বিজেপিতে নারদ অভিযুক্তের প্রধান সূত্রধর! তাহলে এখন তাঁর উচিত অতীতের বলা কথাগুলি প্রকাশ্যে প্রত্যাহার করা এবং দুর্নীতি ইস্যুকে বিজেপি যে অন্য দল ভাঙানোর অস্ত্র হিসাবে কাজে লাগাচ্ছে তা স্বীকার করা। জয়প্রকাশবাবুদের মত জনভিত্তিহীন নেতাদের “রাজনীতিতে বিশ্বাসযোগ্যতা”-র গুরুত্ব নিয়ে মাথাব্যথা নাই থাকতে পারে, কিন্তু যাঁদের তা আছে তাঁরা চুপ কেন? নারদ ইস্যুতে শোভন-মুকুলের দায় নিতে গিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোলা হাতিয়ারটাই শুধু ভোঁতা হয়নি, নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করেছে বিজেপি।

 

Related articles

ইমপার বৈঠকে চূড়ান্ত অসভ্যতা! পিয়াকে হেনস্থা, আস্থা ভোটে সভাপতি বদলের ইঙ্গিত

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতার রদবদলের পরই টালিগঞ্জ পাড়ায় রদবদলের ইঙ্গিত মিলেছে। এবার কার্যত সেই ইঙ্গিতেই শিলমোহর। ইমপার (EIMPA)...

কীভাবে পুরসভার অধিবেশন বেআইনি বাতিল: পুলিশি তদন্তের দাবিতে থানায় চেয়ারম্যানের

কলকাতা পুরসভা শুক্রবার নজিরবিহীন অধিবেশন বাতিলের সাক্ষী থেকেছে। তার পরে বিজেপির কাউন্সিলররা বিধায়কদের নেতৃত্বে কলকাতা পুরসভাতেও (Kolkata Municipal...

শহরে আসছেন মার্কিন বিদেশ সচিব রুবিও: পরিদর্শনই উদ্দেশ্য

কোয়াড বৈঠকে যোগ দিতে তিনদিনের ভারত সফরে আসছেন আমেরিকার বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। শনিবার কলকাতায় পৌঁছনোর কথা তাঁর।...

৩ কাউন্সিলরেই অনাস্থা! রাজ্য দখলের পরে কলকাতা পুরসভা দখলে বিজেপির হুঁশিয়ারিতে চক্রান্ত

কলকাতা পুরসভায় নজিরবিহীন অধিবেশনের সাক্ষী থেকেছেন শুক্রবার কাউন্সিলররা। বৈঠক ডাকা, বাতিল, ক্লাব রুমে অধিবেশনের মতো ঘটনাও ঘটেছে। এরপরই...