Friday, June 12, 2026

বাঘাযতীনদের মৃত্যু হয় না, তাঁরা অমর

Date:

Share post:

১৯১৫ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর। সূর্যাস্তের সাথে বালেশ্বরের বুড়িবালাম নদীর তীরে শেষ হলো এক যুদ্ধ। নেতৃত্ব প্রদানকারী, গুলিবিদ্ধ যতীনকে নিয়ে যাওয়া হলো বালেশ্বর সরকারী হাসপাতালে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে সারা শরীর। গুলির আঘাতে উড়ে গেছে হাতের আঙ্গুল,, পেটের একাংশের মাংস। ক্রমাগত রক্তপাত হয়ে চলেছে। তখন স্যালাইনের প্রচলন ছিল না, তার বদলে মুখে ঢেলে দেওয়া হলো লেমনেড। কোনোক্রমে স্টিচ করা হলো পেটের অংশে। ব্রিটিশ পুলিশের কড়া হুকুম,, যেভাবেই হোক্ বাঁচিয়ে রাখতে হবে এই মোস্ট ওয়ান্টেড বিপ্লবীকে, তাঁর কাছেই পাওয়া যাবে দলের বাকি সদস্যদের খবর, ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা। অনেক রাতে, তদানীন্তন পুলিশ কমিশনার টেগার্ট এসে ঢুকলেন ঘরে, সাথে আরো চারজন ব্রিটিশ পুলিশ অফিসার।
নিদ্রামগ্ন বিপ্লবীকে ঘুম থেকে তুলে শুরু হলো জেরা। স্মিতহাস্য যতীনের সব প্রশ্নের এক‌ই উত্তর, “আমরা মরবো, দেশ জাগবে।” টেগার্টের ধৈর্যচ্যুতি ঘটলো। রেগে বেরিয়ে গেলেন ঘর থেকে। তখন ভোর হয়ে আসছে। ডাক্তার এসে দেখলেন, পেটের স্টিচ ছেঁড়া, রক্তবমি শুরু হয়েছে যতীনের। হাসতে হাসতে বললেন, “এত রক্ত ছিল শরীরে? ভাগ্যক্রমে, প্রতিটি বিন্দু অর্পণ করে গেলাম দেশমাতার চরণে।”

১৯১৫ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর সকাল। অস্তমিত হলো ব্রিটিশ সরকারের ত্রাস বীর বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় তথা বাঘা যতীনের জীবন সূর্য।

তাঁর বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে কুখ্যাত ইংরেজ পুলিশ অফিসার চার্লস টেগার্ট বলেছিলেন, “যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ইংরেজ হলে, ট্রাফালগার স্কোয়ারে নেলসনের পাশে তাঁর মূর্তি স্থাপন করা হতো।”

ভারতমাতার এই মহান সন্তানের ১০৪তম মৃত্যু বার্ষিকীতে জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম। তবে তাঁদের মৃত্যু হয় কি? তাঁরা তো অমর।🙏🙏

ছবি: বালেশ্বর সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের শেষ ছবি।

Related articles

জাতীয় সড়ক আটকে আন্দোলন নয়: প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

পূর্ব নির্ধারিত সূচি মতো শুক্রবার উত্তরবঙ্গের প্রথম প্রশাসনিক কর্মসূচিতে মালদহে প্রশাসনিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই...

দেব, আপনি কোন দিকে? মমতা না মোদি?

লোকসভার বিদ্রোহীদের দিল্লির বৈঠকে হাজির। আবার সংবাদ মাধ্যমের সামনে বলছেন, যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, আমি তার সঙ্গে আছি।...

সাইয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নে জোর, ডুরান্ড কমিটির সঙ্গে বৈঠকে ক্রীড়ামন্ত্রী

ক্রীড়া দফতরের দায়িত্ব নিয়েই দ্রুত কাজ শুরু করে দিলেন ইন্দ্রনীল খাঁ(Dr.Indranil Khan)। শুক্রবার দফায় দফায় বৈঠক সারলেন রাজ্যের...

ক্রীড়া চিকিৎসা ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন: অনুষ্ঠিত হল ‘স্পোর্টসমেড ২০২৬’ আন্তর্জাতিক সেমিনার

শুক্রবার কলকাতায় অনুষ্ঠিত হল একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সেমিনার— 'স্পোর্টসমেড: ফ্রম পারফরম্যান্স টু প্রিভেনশন' (SportsMed: from Performance to Prevention:...