Saturday, June 13, 2026

বাঘাযতীনদের মৃত্যু হয় না, তাঁরা অমর

Date:

Share post:

১৯১৫ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর। সূর্যাস্তের সাথে বালেশ্বরের বুড়িবালাম নদীর তীরে শেষ হলো এক যুদ্ধ। নেতৃত্ব প্রদানকারী, গুলিবিদ্ধ যতীনকে নিয়ে যাওয়া হলো বালেশ্বর সরকারী হাসপাতালে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে সারা শরীর। গুলির আঘাতে উড়ে গেছে হাতের আঙ্গুল,, পেটের একাংশের মাংস। ক্রমাগত রক্তপাত হয়ে চলেছে। তখন স্যালাইনের প্রচলন ছিল না, তার বদলে মুখে ঢেলে দেওয়া হলো লেমনেড। কোনোক্রমে স্টিচ করা হলো পেটের অংশে। ব্রিটিশ পুলিশের কড়া হুকুম,, যেভাবেই হোক্ বাঁচিয়ে রাখতে হবে এই মোস্ট ওয়ান্টেড বিপ্লবীকে, তাঁর কাছেই পাওয়া যাবে দলের বাকি সদস্যদের খবর, ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা। অনেক রাতে, তদানীন্তন পুলিশ কমিশনার টেগার্ট এসে ঢুকলেন ঘরে, সাথে আরো চারজন ব্রিটিশ পুলিশ অফিসার।
নিদ্রামগ্ন বিপ্লবীকে ঘুম থেকে তুলে শুরু হলো জেরা। স্মিতহাস্য যতীনের সব প্রশ্নের এক‌ই উত্তর, “আমরা মরবো, দেশ জাগবে।” টেগার্টের ধৈর্যচ্যুতি ঘটলো। রেগে বেরিয়ে গেলেন ঘর থেকে। তখন ভোর হয়ে আসছে। ডাক্তার এসে দেখলেন, পেটের স্টিচ ছেঁড়া, রক্তবমি শুরু হয়েছে যতীনের। হাসতে হাসতে বললেন, “এত রক্ত ছিল শরীরে? ভাগ্যক্রমে, প্রতিটি বিন্দু অর্পণ করে গেলাম দেশমাতার চরণে।”

১৯১৫ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর সকাল। অস্তমিত হলো ব্রিটিশ সরকারের ত্রাস বীর বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় তথা বাঘা যতীনের জীবন সূর্য।

তাঁর বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে কুখ্যাত ইংরেজ পুলিশ অফিসার চার্লস টেগার্ট বলেছিলেন, “যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ইংরেজ হলে, ট্রাফালগার স্কোয়ারে নেলসনের পাশে তাঁর মূর্তি স্থাপন করা হতো।”

ভারতমাতার এই মহান সন্তানের ১০৪তম মৃত্যু বার্ষিকীতে জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম। তবে তাঁদের মৃত্যু হয় কি? তাঁরা তো অমর।🙏🙏

ছবি: বালেশ্বর সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের শেষ ছবি।

Related articles

রুদ্রনীলকে ‘স্নেহের চুমু’ মুনমুনের, অভিনেতা বিধায়কের-প্রশংসায় পঞ্চমুখ সুচিত্রাকন্যা

রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় আর সৌজন্য-স্নেহ এই অনুভূতিগুলো একেবারেই আলাদা। 'আবার হাওয়া বদল' ছবির প্রিমিয়ারে এসে ঠিক যেন এই...

বিশ্বকাপে ফাঁকা গ্যালারি ঘিরে সমালোচনা, ব্যাখ্যা দিল ফিফা 

পায়ে পায়ে মাঠের লড়াই ধীরে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে উন্মাদনা চোখে পড়েছে তার কতটা বাস্তবে ধরা পড়ছে স্টেডিয়ামে? ফিফা...

সাহায্য চেয়েও পাননি ৩ নাবিক: হরমুজে নাগরিক মৃত্যুতে ভর্ৎসনাই ‘ভরসা’ ভারতের

বাণিজ্যিক সম্পর্ক তো দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে শেষ। ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তাও আমেরিকার মাটিতে অনিশ্চিত। এবার হরমুজ প্রণালী নিয়েও...

আলিপুরে পুড়ে ছাই ৪০০০ EVM! ইচ্ছাকৃত আগুন, দাবি উদ্ধব শিবিরের

আরও স্পষ্ট হল বিজেপি (BJP) ও নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) স্বৈরাচার। আলিপুরের জেলা পরিষদ ভবনে শুধু আগুন লাগানো...