Wednesday, February 18, 2026

বাঘাযতীনদের মৃত্যু হয় না, তাঁরা অমর

Date:

Share post:

১৯১৫ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর। সূর্যাস্তের সাথে বালেশ্বরের বুড়িবালাম নদীর তীরে শেষ হলো এক যুদ্ধ। নেতৃত্ব প্রদানকারী, গুলিবিদ্ধ যতীনকে নিয়ে যাওয়া হলো বালেশ্বর সরকারী হাসপাতালে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে সারা শরীর। গুলির আঘাতে উড়ে গেছে হাতের আঙ্গুল,, পেটের একাংশের মাংস। ক্রমাগত রক্তপাত হয়ে চলেছে। তখন স্যালাইনের প্রচলন ছিল না, তার বদলে মুখে ঢেলে দেওয়া হলো লেমনেড। কোনোক্রমে স্টিচ করা হলো পেটের অংশে। ব্রিটিশ পুলিশের কড়া হুকুম,, যেভাবেই হোক্ বাঁচিয়ে রাখতে হবে এই মোস্ট ওয়ান্টেড বিপ্লবীকে, তাঁর কাছেই পাওয়া যাবে দলের বাকি সদস্যদের খবর, ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা। অনেক রাতে, তদানীন্তন পুলিশ কমিশনার টেগার্ট এসে ঢুকলেন ঘরে, সাথে আরো চারজন ব্রিটিশ পুলিশ অফিসার।
নিদ্রামগ্ন বিপ্লবীকে ঘুম থেকে তুলে শুরু হলো জেরা। স্মিতহাস্য যতীনের সব প্রশ্নের এক‌ই উত্তর, “আমরা মরবো, দেশ জাগবে।” টেগার্টের ধৈর্যচ্যুতি ঘটলো। রেগে বেরিয়ে গেলেন ঘর থেকে। তখন ভোর হয়ে আসছে। ডাক্তার এসে দেখলেন, পেটের স্টিচ ছেঁড়া, রক্তবমি শুরু হয়েছে যতীনের। হাসতে হাসতে বললেন, “এত রক্ত ছিল শরীরে? ভাগ্যক্রমে, প্রতিটি বিন্দু অর্পণ করে গেলাম দেশমাতার চরণে।”

১৯১৫ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর সকাল। অস্তমিত হলো ব্রিটিশ সরকারের ত্রাস বীর বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় তথা বাঘা যতীনের জীবন সূর্য।

তাঁর বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে কুখ্যাত ইংরেজ পুলিশ অফিসার চার্লস টেগার্ট বলেছিলেন, “যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ইংরেজ হলে, ট্রাফালগার স্কোয়ারে নেলসনের পাশে তাঁর মূর্তি স্থাপন করা হতো।”

ভারতমাতার এই মহান সন্তানের ১০৪তম মৃত্যু বার্ষিকীতে জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম। তবে তাঁদের মৃত্যু হয় কি? তাঁরা তো অমর।🙏🙏

ছবি: বালেশ্বর সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের শেষ ছবি।

spot_img

Related articles

ঘর্মাক্ত ফেব্রুয়ারিতে ঊর্ধ্বমুখী পারদ, বসন্তে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছাড়াবে ৩১ ডিগ্রি!

বসন্তের সকালে গ্রীষ্মের আমেজ, দোলের আগেই মহানগরীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছে যেতে পারে ৩১ ডিগ্রির ঘরে! আলিপুর হাওয়া অফিস...

স্তনে হাত-পাজামার দড়িতে টান অবশ্যই ধর্ষণের চেষ্টা! এলাহাবাদ হাই কোর্টের রায় খারিজ শীর্ষ আদালতে

বুকে হাত দিলে বা পাজামার দড়ি ধরে টানলে সেটা ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ (Attempt to rape) হিসাবে গণ্য হবে না,...

সম্মতিমূলক সম্পর্ক ভেঙে গেলেই ধর্ষণের মামলা গ্রহণযোগ্য না, পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের

পাঁচ বছর ধরে প্রাপ্তবয়স্ক দু’জনের সম্মতিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ভেঙে গেলে বা বিয়ে না হলে ধর্ষণের মামলা (Rape...

IPAC -ED Case: সময় চাইল কেন্দ্রীয় এজেন্সি, সুপ্রিম আদালতে ফের পিছিয়ে গেল শুনানি

আইপ্যাক-ইডি মামলায় (IPAC -ED Case) ফের পিছিয়ে গেল সুপ্রিম শুনানি। বুধবার ইডির (ED)তরফে হলফনামা জমা দেওয়ার কথা ছিল।...