Wednesday, June 3, 2026

বাঘাযতীনদের মৃত্যু হয় না, তাঁরা অমর

Date:

Share post:

১৯১৫ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর। সূর্যাস্তের সাথে বালেশ্বরের বুড়িবালাম নদীর তীরে শেষ হলো এক যুদ্ধ। নেতৃত্ব প্রদানকারী, গুলিবিদ্ধ যতীনকে নিয়ে যাওয়া হলো বালেশ্বর সরকারী হাসপাতালে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে সারা শরীর। গুলির আঘাতে উড়ে গেছে হাতের আঙ্গুল,, পেটের একাংশের মাংস। ক্রমাগত রক্তপাত হয়ে চলেছে। তখন স্যালাইনের প্রচলন ছিল না, তার বদলে মুখে ঢেলে দেওয়া হলো লেমনেড। কোনোক্রমে স্টিচ করা হলো পেটের অংশে। ব্রিটিশ পুলিশের কড়া হুকুম,, যেভাবেই হোক্ বাঁচিয়ে রাখতে হবে এই মোস্ট ওয়ান্টেড বিপ্লবীকে, তাঁর কাছেই পাওয়া যাবে দলের বাকি সদস্যদের খবর, ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা। অনেক রাতে, তদানীন্তন পুলিশ কমিশনার টেগার্ট এসে ঢুকলেন ঘরে, সাথে আরো চারজন ব্রিটিশ পুলিশ অফিসার।
নিদ্রামগ্ন বিপ্লবীকে ঘুম থেকে তুলে শুরু হলো জেরা। স্মিতহাস্য যতীনের সব প্রশ্নের এক‌ই উত্তর, “আমরা মরবো, দেশ জাগবে।” টেগার্টের ধৈর্যচ্যুতি ঘটলো। রেগে বেরিয়ে গেলেন ঘর থেকে। তখন ভোর হয়ে আসছে। ডাক্তার এসে দেখলেন, পেটের স্টিচ ছেঁড়া, রক্তবমি শুরু হয়েছে যতীনের। হাসতে হাসতে বললেন, “এত রক্ত ছিল শরীরে? ভাগ্যক্রমে, প্রতিটি বিন্দু অর্পণ করে গেলাম দেশমাতার চরণে।”

১৯১৫ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর সকাল। অস্তমিত হলো ব্রিটিশ সরকারের ত্রাস বীর বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় তথা বাঘা যতীনের জীবন সূর্য।

তাঁর বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে কুখ্যাত ইংরেজ পুলিশ অফিসার চার্লস টেগার্ট বলেছিলেন, “যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ইংরেজ হলে, ট্রাফালগার স্কোয়ারে নেলসনের পাশে তাঁর মূর্তি স্থাপন করা হতো।”

ভারতমাতার এই মহান সন্তানের ১০৪তম মৃত্যু বার্ষিকীতে জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম। তবে তাঁদের মৃত্যু হয় কি? তাঁরা তো অমর।🙏🙏

ছবি: বালেশ্বর সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের শেষ ছবি।

Related articles

দফতর বন্টন নিয়ে আজ নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠক

রাজ্যে বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ পর্ব আগেই শেষ হয়েছে, এবার পালা দফতর বন্টনের। বুধবার সকাল সাড়ে...

কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়ায় বুলডোজার আতঙ্ক, দুশ্চিন্তায় পুস্তক বিক্রেতারা

রাজ্যে নতুন সরকার (BJP Government) গঠন হওয়ার পর থেকেই কর্মহারা হকাররা। বিভিন্ন স্টেশনে ভেঙে ফেলা হয়েছে হকারদের দোকান।...

‘কালা হিরণ’ ছবির নির্মাতাদের নোটিশ সলমন খানের

ফের বিতর্কে জড়ালেন সলমন খান। ‘কালা হিরণ’ ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলার ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত, এমনটাই গুঞ্জন...

১৮ বছর পর হাতে এল অফার লেটার! অবসরের বয়স পেরিয়ে মজিদ পেলেন ‘হতাশার’ চিঠি

সরকারি চাকরির স্বপ্ন বুনেছিলেন দুই দশক আগে। পরীক্ষা দিয়ে মেধা তালিকায় জায়গাও করে নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্নের চিঠি...