Monday, March 2, 2026

বাঘাযতীনদের মৃত্যু হয় না, তাঁরা অমর

Date:

Share post:

১৯১৫ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর। সূর্যাস্তের সাথে বালেশ্বরের বুড়িবালাম নদীর তীরে শেষ হলো এক যুদ্ধ। নেতৃত্ব প্রদানকারী, গুলিবিদ্ধ যতীনকে নিয়ে যাওয়া হলো বালেশ্বর সরকারী হাসপাতালে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে সারা শরীর। গুলির আঘাতে উড়ে গেছে হাতের আঙ্গুল,, পেটের একাংশের মাংস। ক্রমাগত রক্তপাত হয়ে চলেছে। তখন স্যালাইনের প্রচলন ছিল না, তার বদলে মুখে ঢেলে দেওয়া হলো লেমনেড। কোনোক্রমে স্টিচ করা হলো পেটের অংশে। ব্রিটিশ পুলিশের কড়া হুকুম,, যেভাবেই হোক্ বাঁচিয়ে রাখতে হবে এই মোস্ট ওয়ান্টেড বিপ্লবীকে, তাঁর কাছেই পাওয়া যাবে দলের বাকি সদস্যদের খবর, ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা। অনেক রাতে, তদানীন্তন পুলিশ কমিশনার টেগার্ট এসে ঢুকলেন ঘরে, সাথে আরো চারজন ব্রিটিশ পুলিশ অফিসার।
নিদ্রামগ্ন বিপ্লবীকে ঘুম থেকে তুলে শুরু হলো জেরা। স্মিতহাস্য যতীনের সব প্রশ্নের এক‌ই উত্তর, “আমরা মরবো, দেশ জাগবে।” টেগার্টের ধৈর্যচ্যুতি ঘটলো। রেগে বেরিয়ে গেলেন ঘর থেকে। তখন ভোর হয়ে আসছে। ডাক্তার এসে দেখলেন, পেটের স্টিচ ছেঁড়া, রক্তবমি শুরু হয়েছে যতীনের। হাসতে হাসতে বললেন, “এত রক্ত ছিল শরীরে? ভাগ্যক্রমে, প্রতিটি বিন্দু অর্পণ করে গেলাম দেশমাতার চরণে।”

১৯১৫ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর সকাল। অস্তমিত হলো ব্রিটিশ সরকারের ত্রাস বীর বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় তথা বাঘা যতীনের জীবন সূর্য।

তাঁর বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে কুখ্যাত ইংরেজ পুলিশ অফিসার চার্লস টেগার্ট বলেছিলেন, “যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ইংরেজ হলে, ট্রাফালগার স্কোয়ারে নেলসনের পাশে তাঁর মূর্তি স্থাপন করা হতো।”

ভারতমাতার এই মহান সন্তানের ১০৪তম মৃত্যু বার্ষিকীতে জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম। তবে তাঁদের মৃত্যু হয় কি? তাঁরা তো অমর।🙏🙏

ছবি: বালেশ্বর সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের শেষ ছবি।

spot_img

Related articles

প্রাক দোল- উৎসবের মঞ্চ থেকে সর্বধর্ম সমন্বয়-সম্প্রীতির বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, পা মেলালেন ডান্ডিয়ায়

দোলের প্রাক্কালে কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত দোল ও হোলির মিলন উৎসবের মঞ্চ থেকে সর্বধর্ম সমন্বয় ও সম্প্রীতির...

ভোটার তালিকা জট: দায় ঝাড়ছে কমিশন, পাল্টা সরব ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকরা 

ভোটার তালিকায় ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন নামগুলি ঘিরে দানা বাধা বিতর্কে এবার সরাসরি সংঘাতের আবহে মুখ খুলল ডব্লিউবিসিএস...

ঐতিহ্যের খড়দহ: দোল পূর্ণিমার প্রাক্কালে নগর কীর্তনে মাতলেন এলাকাবাসী

সংস্কৃতির পীঠস্থান হিসেবে খড়দহের পরিচিতি দীর্ঘদিনের। সেই ধারাকে অক্ষুণ্ণ রেখে দোল পূর্ণিমা ও হোলি উৎসবের প্রাক্কালে এক বর্ণাঢ্য...

পেনশনভোগীদের জন্য বড় স্বস্তি: স্বাস্থ্য প্রকল্পে ক্যাশলেস চিকিৎসার সীমা বাড়াল রাজ্য 

রাজ্য সরকারি পেনশনভোগী ও পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসার খরচে বড়সড় স্বস্তি দিল নবান্ন। পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্পে (ডব্লিউবিএইচএস) অন্তর্ভুক্ত...