Friday, February 13, 2026

গুমনামি দেখার পর কলম ধরে কী জানালেন অনিকেত চট্টোপাধ্যায়?

Date:

Share post:

প্রসঙ্গ ‘গুমনামি’।

প্রসেনজিৎ অসাধারণ। তিনটে লুক আছে এই ছবিতে। নেতাজী মারা যাওয়া পর্যন্ত, সাইবেরিয়ায় (সম্ভবত) নেতাজী আর গুমনামি বাবা ওরফে ভগবানজী। তিনটেতেই ফাটাফাটি। অভিনয় নিয়ে কোনও কথা হবে না। তিনটে চরিত্রকে বুঝে আত্মস্থ করে ক্যামেরার সামনে বুম্বা দা ভাল নয়, বেশ ভাল নয়, খুব ভালো।

অনির্বাণ বেশ ভালো। সাংবাদিকতার মূল সূত্র subjective detachment থেকে সরে গিয়ে এক obsessive গবেষক (?) চরিত্রে যথাযথ। চরিত্র কে রূঢ় করে তোলার জন্য, ঔদ্ধত্য কে তুলে ধরার জন্য যথেষ্ট ডায়ালগ ছিল, অনির্বাণ সেগুলো কাজে লাগিয়েছে।

তনুশ্রীর যথাযথ। তার বেশিও না কমও না।

পরিচালকের কাবিলিয়ত সব্বার জানা। অতএব তিনি যা বলার চেষ্টা করেছেন, যে পদ্ধতিতে করেছেন তা সহজ সরল। কোনও জটিলতায় যান নি। time, space নিয়ে কোনও ভ্যানতারামো নয়। সোজাসুজি গল্প বলা।

আরও পড়ুন – বেনজির! মুখ্যমন্ত্রী আসবেন না,অভিমানে ট্যাংরার শতবর্ষের পুজোর উদ্বোধন বাতিল

এবং বিষয়। মিথ্যে, আরও মিথ্যে, প্রবল মিথ্যে। ছবির প্রমোশনে যাই বলে থাকুন ছবিতে সপাট বলেদিয়েছেন ওসব তিনটে সম্ভাবনা ফম্বাবনা ফালতু ব্যাপার এই দেখ ভাই আমি কনোনড্রামের আষাঢ়ে গল্প নিয়ে ছবি করছি। নেতাজীই গুমনামি বাবা।

রশোমন ? ভুলে যান। নেতাজী নিয়ে যে তত্ত্ব, বা গুজব ছড়াচ্ছে তার ছাল ছাড়িয়ে, প্রতিটা তত্ত্ব কে, তার অনুষঙ্গগুলোকে বিচার করে কোনও conclusion এ না এসে একটা ছবি করাই যেত, যে ছবি সৃজিত করতেই পারতেন। না করে এক ‘আহারে বেচারা নেতাজী প্রেমিকের ‘আখ্যান শোনালেন। যা হতেই পারতো ভারতবর্ষের অন্যতম রাজনৈতিক নেতার অন্তর্ধান নিয়ে এক এপিক সিনেমা, সেটা হয়ে দাঁড়ালো অত্যন্ত জোলো রকবাজি বা চন্ডিমন্ডপের গালগল্প।

এমনকি নেতাজীর কংগ্রেস থেকে পদত্যাগের বিষয়টাও মিথ্যেয় ভরা থাকলো। এত কম গবেষণা, এত কম প্রশ্ন ছাড়া গুজব নিয়ে সিনেমা খুব কম হয়েছে, আমি তো দেখি নি।

আরও পড়ুন – ফের দিল্লিতে বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক!

মুখার্জি কমিশন সংসদে পেশ করা হয়েছিল, তা নিয়ে ডিবেট হয়েছিল, ২৬ পাতার action taken report আছে সে সব উবে গিয়ে ‘উনি বলিলেন’ আর ‘ইনি বলিলেন’ দিয়ে তো ইতিহাস হয় না।

তবে হ্যাঁ, ইতিহাস ভুলিয়ে দেবার, বিকৃত করার এক অধ্যায় চলছে। তার অঙ্গ হিসেবেই গুমনামি এসেছে বাজারে। হেইল হিটলার বলে হাত তুলেছিল কেবল লক্ষ লক্ষ সাধারণ জার্মানবাসীই নয়, হাত তুলেছিলেন তৎকালীন শিল্প সংস্কৃতির নামি দামি মুখেরাও। সমস্ত ইতিহাসকে অন্য সূত্রে লেখার চেষ্টাও হয়েছিল, সফল হয়নি। কারণ আবার সেই একই কে কী বলিল দিয়ে ইতিহাস হয় না, ইতিহাস একটা সময়ে মিথ্যের যাবতীয় জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসবেই।

ততদিন চলুক গুজব, গাল গল্প, হ্যাঁ ইতিহাসের নামেই চলুক।

সে যাই হোক, বাংলা সিনেমা দেখুন। হলে গিয়েই দেখুন।

আরও পড়ুন – পঞ্চমীর সন্ধ্যাতেই খুলছে উল্টোডাঙা ব্রিজের বন্ধ অংশ

spot_img

Related articles

সমকামই পছন্দ! স্বামী-পুত্র ছেড়ে ‘প্রেমিকের’ হাত ধরলেন বীরভূমের ইন্দ্রানী

তিনি সমকামী। বলিষ্ঠভাবে তা সবার সামনে ঘোষণা করেন। আর সেই কারণে সেই সম্পর্ককেই বেছে নিয়ে শিশুপুত্র-স্বামী ছেড়ে পছন্দের...

তামিলনাড়ুতে শুরু লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অনুকরণে প্রকল্প: প্রথম কিস্তিতে ৫০০০ টাকা অ্যাকাউন্টে

নির্বাচনমুখী তামিলনাড়ুতে চালু হল লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অনুকরণে মহিলা স্বনির্ভরতার প্রকল্প। কালাইগনার ওমেনস রাইটস স্কিম প্রকল্পে শুক্রবার থেকে শুরু...

স্বচ্ছতার লক্ষ্যে অনলাইন ফাইল ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু: ব্রাত্য বসু

শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আবেদনপত্র কোথায়, কী পর্যায়ে আটকে তা জানতে এবার অনলাইন ফাইল ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করল বিদ্যালয় শিক্ষা বিভাগ।...

বালুরঘাটে জমজমাট রাজ্য ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ, উপস্থিত ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রীও

ক্রিকেট, ফুটবলের বাইরেও অন্য খেলাধুলাও জনপ্রিয় হচ্ছে বাংলায়। শুধু কলকাতা কেন্দ্রিক খেলাই নয়, উত্তরবঙ্গেও হচ্ছে রাজ্য এবং জাতীয়...