খুদে পড়ুয়াদের হাত দিয়ে স্কুল ঘরের উদ্বোধন করিয়ে পরম তৃপ্তিলাভ কুণালের

সোমনাথ বিশ্বাস, দিনহাটা

“রীতি” ভাঙলেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষ। তাঁর সাংসদ তহবিলের টাকায় তৈরি নতুন ক্লাসঘর ও ভবনের উদ্বোধন নিজে হাতে নয়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সেই স্কুলের খুদে পড়ুয়াদের হাত দিয়ে ফিতে কাটালেন তিনি। জানালেন, খুদে পড়ুয়াদের হাত দিয়ে স্কুল ঘরের উদ্বোধন করিয়ে পরম তৃপ্তিলাভ করেছেন তিনি।

শুক্রবার উত্তরবঙ্গের কোচবিহারের দিনহাটা-১ নম্বর ব্লকের একটি স্কুল সম্প্রসারণের পর, তার উদ্বোধনে গিয়েছিলেন রাজ্যসভায় প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষ। দিনহাটা ব্লকের মাতাল হাটের বড়ভিটা সুরেন্দ্রনাথ বর্মণ আদর্শ বিদ্যালয়। এই স্কুলেরই নতুন ক্লাস ঘর নির্মাণ ও ভবন সম্প্রসারণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ কুণাল।

বছর কয়েক আগে স্থানীয় জেলা পরিষদের সদস্য কৃষ্ণকান্ত বর্মণ যোগাযোগ করেন সুদূর কলকাতায় তৎকালীন রাজ্যসভার সাংসদ কুণাল ঘোষের সঙ্গে। একটি সেতুর পাশাপাশি বড়ভিটা সুরেন্দ্রনাথ বর্মণ আদর্শ বিদ্যালয়ের নতুন ক্লাস ঘর নির্মাণ ও ভবন সম্প্রসারণ-এর জন্য অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ জানান কৃষ্ণকান্ত। তখন বিষয়টা শুনে কুণাল আলোচনার সময় দেন। কৃষ্ণ যান কলকাতায় কুণালের বাড়ি। ব্যাখ্যা করেন, কেন সেতু এবং স্কুলের সম্প্রসারণের দরকার।

এরপর কুণাল গ্রামবাসীদের অসহায়তা ও সমস্যার কথা বিবেচনা করে তাঁর সাংসদ তহবিল থেকে মোট ৯৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেন সেতুর জন্য। পাশাপাশি স্কুলটি সম্প্রসারণের জন্য ১৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেন। জেলাশাসক মারফৎ টাকা পৌঁছায়। সেই সেতুর কাজ শেষ হয়। শেষ হয় স্কুল সম্প্রসারণের কাজও। তারই জোড়া উদ্বোধন ছিল এদিন।

সেই স্কুল ও সেতুর উদ্বোধনে গিয়ে কুণাল জানান, স্কুল এবং সেতুর জন্য স্থানীয় মানুষের স্বপ্ন পুরন হয়েছে জেনে তিনি খুশি। পাশাপাশি এই স্বপ্ন পূরণের কারিগর হিসেবে কুনাল ঘোষ কৃষ্ণকান্ত বর্মনকে কৃতিত্ব দেন। তিনি বলেন, কৃষ্ণ কলকাতায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ না করলে, আজ এমন উপহার পেতেন না দিনহাটার মানুষ। যখন টাকার জন্য ভালো কাজ আটকে যায়, তখন কোচবিহার থেকে কলকাতা দৌড়ে সাংসদকে এলাকার সমস্যা বুঝিয়ে টাকা বরাদ্দ করিয়েছেন। এরকম জনপ্রতিধিও এলাকার সম্পদ।

এদিকে শুধু টাকা এনে কাজ করানো নয়, কুণালের প্রস্তাব মত বিদ্যালয়ের নতুন কক্ষগুলি মনীষীদের নামে রেখেছেন কৃষ্ণকান্ত। কুণাল জানিয়েছিলেন, নতুন কক্ষগুলি যাতে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, নেতাজীর নামে করা হলে তিনি খুশি হবেন। কুনালের যেমন কথা, কৃষ্ণের যেমন কাজ।

বড়ভিটা সুরেন্দ্রনাথ বর্মণ আদর্শ বিদ্যালয়ের সম্প্রসারণ ও নতুন কক্ষের উদ্বোধন আরও একটি বড় চমক ছিল। যার নামে এই স্কুল প্রতিষ্ঠা হয়েছে, তিনি আর কেউ নন জেলা পরিষদ সদস্য কৃষ্ণকান্ত বর্মন-এর বাবা সুরেন্দ্রনাথ বর্মণ। যিনি জীবদ্দশাতেই তাঁর নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা হতে দেখলেন। এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সারাক্ষণই প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষের পাশেই ছিলেন তিনি। যা কিন্তু এক কথায় নজিরবিহীন।

এদিন কুনাল ঘোষের প্রত্যন্ত গ্রামে আগমন, এবং সামগ্রিক অনুষ্ঠান ঘিরে গ্রামবাসীদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
অসংখ্য পড়ুয়া আর এলাকার মানুষের ভালবাসায় ভেসে মঞ্চে পৌঁছান কুণাল। তাঁর সাংসদ তহবিলের অর্থেই তৈরি হয়েছে নতুন ভবন। ক্ষুদে পড়ুয়ার হাত ধরে উদ্বোধন করলেন প্রাক্তন সাংসদ নিজেই। যা দেখে কিন্তু গ্রামবাসীরা আরও আপ্লুত। কিছুকিছু গ্রামবাসী তো প্রাক্তন সাংসদের এমন মহানুভবতা দেখে ঈশ্বরের সঙ্গে তুলনা করলেন।

সব মিলিয়ে জোড়া উপহার পেয়ে কোচবিহারের দিনহাটা-১ নম্বর ব্লকের মানুষের কাছে এখন স্বপ্নের ফেরিওয়ালা প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষ।