সঞ্জীব পুরোহিতের মতোই হার মানলেন অংশিকা, অপূর্ণ বাবার সাধ

“সঞ্জীব পুরোহিত হাঁটলেন, চাকরি পাবেন এই ভরসায়, মাথায় চাবুক মারে রোদ্দুর, মধ্যদিনে গান বন্ধ করেছে পাখি সূর্য আকাশটাকে ঝলসায়”। সঞ্জীব পুরোহিত পারেননি। পারলেন না অংশিকা সিং-ও। কন্যাকে উর্দিতে দেখার সাধ অপূর্ণ রয়ে গেল বৃদ্ধ বাবার। উত্তরপ্রদেশের বাগপতের ফজলপুরে থাকতেন অংশিকা সিং। বাড়ির বড় মেয়ে তিনি। রয়েছে দুই ভাই। পুলিশের চাকরির জন্য গত কয়েক বছর ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন অংশিকা। শারীরিক পরীক্ষার দিন ১৪ মিনিটে ২.৪ কিমি দৌড় শেষ করেন। মাঠের বাইরে তখন মেয়েকে উর্দিতে দেখবেন বলে অপেক্ষায় অংশিকার বাবা। দৌড় শেষ করেন ঠিকই। তারপরে মাঠের মধ্যেই জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান তরুণী। হাজার চেষ্টা করেও আর জ্ঞান ফেরানো যায়নি। পুলিশের চাকরি পেলেও সেটা আর জেনে যাওয়া হল না অংশিকার। গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। তখনও মেয়ের সাফল্যের খবর পাওয়ার জন্য, মাঠের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন তাঁর বাবা। শেষে মিলল আদরের কন্যার মৃত্যুর খবর। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, অত্যাধিক শারীরিক ধকলের ফলেই হৃদরোগ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ওই তরুণীর। অংশিকার এই পরিণতি মনে করিয়ে দিচ্ছে সঞ্জীব পুরোহিতকে নিয়ে সুমন চট্টোপাধ্যায়ের লেখা সেই জনপ্রিয় গান, “সঞ্জীব পুরোহিত হাঁটছেন”।

আরও পড়ুন-গাড়ি চালিয়ে ও বই বিক্রি করে দিন গুজরান করছেন হাকান সুকুর