নিট (NEET) কেলেঙ্কারিতে এটি দশম গ্রেফতারি। ২০২৬ সালের নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সিবিআইয়ের (CBI) জালে বিখ্যাত কোচিং সেন্টারের কর্ণধার শিবরাজ রঘুনাথ মোটেগাঁওকর (Raghunath Motegaokar)। লাতুরের শিবনগর এলাকাতে নিজের বিলাসবহুল বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আপাতত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৯ দিনের হেফাজতে নিয়েছে। মহারাষ্ট্রের ছাত্রছাত্রীদের কাছে ‘রেণুকাই কেরিয়ার সেন্টার’ বা আরসিসি ছিল ভগবান তুল্য। ‘ডাক্তার তৈরির কারখানা’ বলেও সম্মোধন করা হত।
সূত্রের খবর, মোটেগাঁওকর শুধু যে শিক্ষক সেটা একেবারেই নয়। তিনি প্রশ্ন ফাঁসের সিন্ডিকেটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। মোটেগাঁওকরের মোবাইল ফোনে পরীক্ষার পুরো প্রশ্নপত্র পাওয়া গিয়েছে। ৩ মে পরীক্ষার দিন হলেও তাঁর কাছে ১০ দিন আগে, অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল প্রশ্নপত্রটি পৌঁছে যায়। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য তাঁর ফোনটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ডাক্তার তৈরির ক্ষেত্রে এই শিক্ষক অল্প সময়েই বেশ নাম করেছিলেন। জানা যায়, শিবরাজ মোটেগাঁওকর কেমিস্ট্রিতে গোল্ড মেডেলিস্ট। ২০০৩ সালে লাতুরে ছোট আকারে আরসিসি শুরু করেছিলেন। মহারাষ্ট্রের ৮টি শহরে এই কোচিং চেনের শাখা রয়েছে। বলা হত, গত ১৯ বছরে ১৫ হাজারের বেশি ডাক্তার এই কোচিং থেকে পড়ে নিজেদের তৈরি করেছেন। ১.২ লক্ষ থেকে ২.৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক ফি এই সেন্টারের। এখানে পড়াশোনা করেন প্রায় ৮০ হাজার পড়ুয়া। প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার পর জানা গেল তিনি একেবারেই ‘ভিশনারি এডুকেটর’ ছিলেন না। উল্টে আজ তাঁর বিরুদ্ধে বিপুল সংখ্যক পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রহনসনের অভিযোগ।

প্রসঙ্গত, এনটিএ-র (NTA) প্রশ্ন প্রস্তুতকারক প্যানেলের দুই সদস্য এই দুর্নীতির মূলে ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। একজন পুণের উদ্ভিদবিদ্যার শিক্ষিকা মণীষা গুরুনাথ মানধারে এবং অন্যজন লাতুরের অবসরপ্রাপ্ত কেমিস্ট্রি শিক্ষক পি ভি কুলকার্নি। গোপন কোচিং সেশনের মাধ্যমে তাঁরা আগেই প্রশ্ন ফাঁস করে দিতেন। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী মহারাষ্ট্র ছাড়াও রাজস্থান, দিল্লি-সহ পাঁচটি রাজ্যে এই চক্রের হদিশ পাওয়া গিয়েছে।

–

–

–

–

–
–
