অরিন্দম কেন রং বদলে তৃণমূল, সবিস্তারে লিখলেন স্ত্রী

ছিল #Metoo, এখন সেটাই এসে পৌঁছছে পারিবারিক লড়াইয়ে। আর তাতে লাগছে রাজনীতির রংও। নিজের বঞ্চনার কথা আগেই ফেসবুকের ওয়ালে জানিয়ে ছিলেন অরিন্দম শীলের স্ত্রী তনুরুচি। এবার, সেটা নিয়ে রীতিমতো বোমা ফাটালেন তিনি। সরাসরি জানালেন, নিজের জীবনের কুকীর্তি ঢাকতে রাজনীতিকে ঢাল করেছেন অরিন্দম। সুবিধা নিতেই শিবির বদলে রাতারাতি বাম থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে গিয়েছেন পরিচালক। তনুরুচি লিখছেন, “আমি অনেক বছর ঘুরেও কোন সুবিচার পাইনি। এর মধ্যে রাজ্যে তৃণমূলের আগমন। সুবিধাবাদী অরিন্দম কুকর্মের সুবিধা নেবার জন্য বামপন্থী তকমা ত্যাগ করে রাতারাতি হয়ে গেল একনিষ্ঠ তৃণমূল অনুরাগী”।

এমনকী, বেসরকারি সংস্থার চাকরি চলে যাওয়ার পরে, বর্তমান ‘লিভিং পার্টনার’ শুল্কা দাসকে অরিন্দম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি চাকরিতে ঢুকিয়ে দেন বলেও অভিযোগ করেছেন তনুরুচি।

#Metoo নিয়ে অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্রের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে আগেই মন্তব্য করেছিলেন পরিচালক-অভিনেতা অরিন্দম শীল। পরে, তনুরুচি শীলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি বাংলা দৈনিকের সাক্ষাৎকারে তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অরিন্দম। তাঁর শিবিরের মতে, এসব মিথ্যা ও কুৎসা। দরকারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করে তারাও। তবে, আইনি পদক্ষেপে তিনি যে, মোটেই ভীত নন, সেটাও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তনুরুচি শীল। উলটে অরিন্দমকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “যার কোন মান নেই, তার আবার মানহানি কিসের”।

এই প্রসঙ্গে অরিন্দম শীলের সঙ্গে তাঁর পরিচয়, বিয়ে, দাম্পত্য নিয়ে সবিস্তারে লিখেছেন তনুরুচি। কীভাবে শুল্কা দাস (সেই সময় রায়) তাঁদের পারিবারিক বন্ধু থেকে অরিন্দমের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন সে বিষয়ে একেবারে সাল, তারিখ উল্লেখ করে লিখেছেন অরিন্দমের স্ত্রী। এমনকী, শুক্লা দাসকে ‘open challenge’ ছুড়ে তিনি বলেন, “প্রমাণ করুন উনি অরিন্দমের আইনসঙ্গত স্ত্রী”।
সব শেষে অবশ্য অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্রকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তনুরুচি। তাঁর মতে, রূপাঞ্জনা পথ দেখানোয় সাহস পেয়েছেন তিনি। তনুরুচি অভিযোগ করেন, যৌথ উদ্যোগে কেন ফ্ল্যাট থেকে তাঁকে ‘এক কাপড়ে’ বেরিয়ে যেতে বাধ্য করেন অরিন্দম। তাঁদের ডিভোর্স হয়নি। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে পুরনো মামলার শুনানি পুনরায় চালু করে তাঁকে অপদস্থ করার চেষ্টা করছেন অরিন্দম- অভিযোগ তনুরুচির। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই পরিচালক যে নিজের রাজনৈতিক পরিচয়কে হাতিয়ার করে প্রভাব খাটাচ্ছেন সেই অভিযোগ করেছেন তাঁর স্ত্রী। শুধু তাই নয়, ‘সুবিধাবাদী অরিন্দম’ সেই কারণেই বাম থেকে তৃণমূলে বলে অভিযোগ তনুরুচির।

তনুরুচি শীলের এই পোস্টে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। বেশিরভাগই তাঁকে সাহস জুগিয়েছেন, কুর্নিশ করেছেন ও এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। দিয়েছেন পাশে থাকার আশ্বাস। একই সঙ্গে অরিন্দম শীল প্রসঙ্গেও প্রচুর বিরূপ মন্তব্য পোস্ট হয়েছে। তনুরুচির পোস্টের প্রেক্ষিতেই বেশিরভাগ লোকই পরিচালককে কাঠগড়ায় তুলেছেন। একই সঙ্গে নিজের কুকীর্তি ঢাকতেই যে অরিন্দমের শিবির বদল- সেই মতটিকেও সমর্থন জানিয়েছেন। তবে, এখন অরিন্দমের এই পারিবারিক #মিটু-র জল কোন দিকে গড়ায় সেটাই দেখার। অরিন্দমশিবির বলছে সবটাই মিথ্যে। ভিত্তিহীন।

আরও পড়ুন-রাত পোহালেই প্রজাতন্ত্র দিবস, নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রেড রোড-সহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান