Wednesday, January 7, 2026

‘জনতা-কার্ফু’ আসলে LOCK-DOWN-এর প্রোমো

Date:

Share post:

ভারতে করোনাভাইরাস এখন ‘স্টেজ-২’-তে৷ ‘গোষ্ঠী-সংক্রমণ’ -এর খবর না আসা পর্যন্ত এই পর্যায়েই থাকবে৷ কিন্তু ‘গোষ্ঠী-সংক্রমণ’-এর হদিশ মিললেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকা অনুসারে ভারতের ঠাঁই হবে ‘স্টেজ-৩’-এ৷ সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে দেশজুড়ে ‘LOCK-DOWN’-ই একমাত্র পথ৷

দেশজুড়ে ‘LOCK-DOWN’ হতে পারে অথচ সে সম্পর্কে বিন্দুমাত্রও ধারনা নেই ভারতবাসীর৷ কিন্তু এই শব্দটি বারে বারে ভেসে উঠছে ইদানিং ৷ একটা অজানা ভয়ের আবহও তৈরি হচ্ছে এই
‘LOCK-DOWN’ ঘিরে৷
রাজনৈতিক তথা বিশেষজ্ঞ মহলের ধারনা, প্রধানমন্ত্রীর ডাকা এই ‘জনতা-কার্ফু’ আসলে ওই জাতীয়স্তরের ‘LOCK-DOWN’-এর ট্রায়াল৷ তা না হলে, মারন-করোনা’র মোকাবিলায় মাত্র একদিনের এই ‘জনতা-কার্ফু’ যে কোনও কাজেই লাগবে না, তা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই৷

আগামী ২২মার্চ, রবিবার, দেশজুড়ে ‘জনতা- কার্ফু’-র মোড়কে কার্যত ‘LOCK-DOWN’-এরই ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী৷ ওইদিন, দেশবাসী সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নিজেদের গৃহবন্দি রাখবে৷ এবং বিকেল ৫টা নাগাদ বাড়ির সদর দরজা বা বারান্দায় দাঁড়িয়ে ঘন্টা বাজাবেন বা গান করবেন বা হাততালি দেবেন বা স্লোগান দেবেন৷ ‘জনতা- কার্ফু’ কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপটি আসলে আলঙ্কারিক৷ জনতা- কার্ফু’-কে জাস্টিফাই করতে হাততালি দেওয়ার কার্যক্রম রাখা হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে৷

কেন এই ‘জনতা কার্ফু’, বৃহস্পতিবারের ভাষণে সেটাও আংশিক বুঝিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ৷
প্রধানমন্ত্রী এদিন তাঁর ভাষণের মধ্যেই বোঝাতে চেয়েছেন, করোনা-র প্রকোপ ‘গোষ্ঠী-সংক্রমন’ স্তরে পৌঁছালে ভারতের মতো ১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে৷ সেই ভয়ংকর পরিস্থিতি মোকাবিলার পথ একটাই, LOCK-DOWN বা নিরাপত্তার স্বার্থে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্তব্ধ করা৷ আর সেই পদক্ষেপ করার আগে দেশবাসীকে একটা ‘প্রোমো’ দেখাতে চান নরেন্দ্র মোদি৷ সে কারনেই ২২ মার্চ দেশে ‘জনতা-কার্ফু’৷

এই ‘জনতা-কার্ফু’-র ব্যাখ্যায় মোদি বলেছেন, ভারতবাসী নিজের সুরক্ষায় নিজেই কার্ফু ঘোষণা করে, নিজেই সেই কার্ফু সফল করবেন৷ ওইদিন স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি থাকবেন৷ জরুরি কাজ না থাকলে বাড়ির বাইরে এক পা- ও বেরোবে না গোটা দেশ।
আর এর পরই প্রধানমন্ত্রী হালকা সুরে বলেছেন, “২২ মার্চের জনতা কার্ফুর সাফল্য এবং জনতা কার্ফুর অভিজ্ঞতা ভারতের দিকে ছুঁড়ে দেওয়া করোনা’র “কমিউনিটি-ইনফেকশন”-এর চ্যালেঞ্জ সামাল দিতে কার্যকর ভূমিকা নেবে৷ LOCK-DOWN- এর ঘোষণির সময় প্রধানমন্ত্রী ফের একবার বলতে পারবেন, “আমি আপনাদের কাছে যা চেয়েছি তা পেয়েছি। নিরাশ হতে হয়নি। আমি আপনাদের কাছে ‘জনতা-কার্ফু’ চেয়েছিলাম৷ আপনারা সেই কার্ফু সফল করে আমাকে আশাহত করেননি৷ এবার ওই ‘জনতা-কার্ফু’-র ধাঁচেই দেশজুড়ে LOCK- DOWN লাগু করা হচ্ছে৷ করোনা ঠেকাতে এবারও আপনারা আমাকে আশাহত করবেন না৷”

অনেকেই বলছেন, দেশবাসীকে ‘আণ্ডার এস্টিমেট’ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ৷ যে দেশবাসী নিজেরা রক্ষা পেতে দিনের মধ্যে ৩০-৪০ বার হাত ধুচ্ছে, যারা নিজেরাই সেলফ-আইসোলেশনে যাচ্ছে, মাস্ক পড়ছে, স্যানিটাইজার নিয়ে ঘুরছে, সেই দেশবাসী প্রয়োজনে একশোবার মানবে LOCK-DOWN, সেজন্য ‘জনতা-কার্ফু’-র প্রোমোর দরকারই ছিলোনা!

spot_img

Related articles

শুনানি নিয়ে চাপ বাড়ালো নির্বাচন কমিশন, তারপরই মৃত্যু BLO সরকারি কর্মীর

নিজেদের টার্গেট পূরণ করতে চাপ বিএলও থেকে জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের উপর। যতবার এভাবে রাজ্যের সরকারি কর্মী, বিএলও-র (BLO)...

নেতাই দিবসে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা মমতার, প্রণাম জানালেন অভিষেকও

নেতাই হত্যাকাণ্ড বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সরকারের কফিনে শেষ পরেকটা পুঁতে দিয়েছিল। গুলি চালিয়ে ৯ জন গ্রামবাসীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল...

ঝুলি থেকে বেরোলো বিড়াল: ভেনেজুয়েলা থেকে কত তেল লুট করবেন, ঘোষণা ট্রাম্পের

আমেরিকায় মাদক বিক্রির অভিযোগ যে স্রেফ একটা ভাঁওতা ছিল মাত্র চারদিনের মধ্যে নিজেই ফাঁস করে দিলেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি...

দুদিনের সফরে সিঙ্গুরে সভা প্রধানমন্ত্রীর: আলাদা গুরুত্ব নয় দিলীপের!

রাজ্য জুড়ে নির্বাচনের প্রস্তুতিতে কোমর বেঁধে নেমেছে বঙ্গ বিজেপির নেতাকর্মীরা, নতুন করে উজ্জীবিত হয়ে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন রাজ্য...