Friday, May 22, 2026

বসন্ত এসে গেছে, তবু কেউ ফুলের চারা কিনছে না; এ কোন লন্ডন!

Date:

Share post:

ইন্দ্রাণী চক্রবর্তী, লন্ডনের বাসিন্দা

আজ প্রথম হাততালির শব্দ কোনও আনন্দ ছড়াল না। ভিজিয়ে দিল আমার চোখ, বাষ্প জমাট বাধছে গলার কাছে। বুকের ভিতর কিছু করতে না পারার অসহ্য যন্ত্রণা। একশো, হাজার —জানি না? কত-কত নার্স, ডাক্তার, দিন-রাত এক করে, সংসার ভুলে, মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে এক কঠিন লড়াইয়ে বদ্ধপরিকর। পৃথিবীকে সুস্থ করে তোলার জন্য। আজ তাঁরাই আমাদের ঈশ্বর। তোমাদের স্যালুট।

আজ প্রায় পাঁচ বছর ধরে এই দেশের আকাশ আমার নীরব সঙ্গী। আমার ছোট্ট মন(আমার কন্যা) আর কৌশিক(আমার স্বামী)- এর সাথে ইংল্যান্ডে এসেছি। ২০১৫-সালের মে মাসে হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে মনে হয়েছিল— আমার শৈশবে দেখা সেই ক্যালেন্ডারের পাতা— যেখানে নীল আকাশ, সাদা মেঘ, দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ মাঠ, রঙবেরঙের ফুল ছিল- আজ তারা যেন সব জীবন্ত হয়ে আমায় নতুন করে নতুন স্বপ্নে ভাসিয়ে দিল। আর আমি খুঁজে পেলাম জীবনের আরেক অধ্যায়।

দু’মাস আগেও যেমন ছিল ছবিটা

শান্ত শহর, হাসিখুশি দেশ , পথচলতি অচেনা মানুষ এর “হাই” বলে একগাল হাসি আমার আপন শহর, আপনজনদের থেকে দূরে থাকার বুকের টন টন করে ওঠা ব্যথাটাকে অনেকটাই কমিয়ে দিত। কিন্তু আজ, এ কী হল? আজ নীল আকাশে মন খারাপের ছায়া। বাগানে টবের জন্য কেউ আজ ফুলের চারা কিনব বলে সুপারমলে ছুটছি না। বসন্ত এসে গেছে বলে নিরুদ্দেশের যাওয়ার প্ল্যান করছি না। আমার মেয়ের মতো সমস্ত শিশুরা আজ কাচের জানালায় মুখ দেখছে। একটা শব্দ এক রাতে যেন বড়ো করে দিল ওদের— করোনা আতঙ্ক। প্রধাণমন্ত্রীর কথামত ‘বার্থ ডে’ গানের সাথে হাত পরিষ্কার রাখছে। এক্সারসাইজ করছে। আর তার সাথে আমার বারবার চোখ চলে যাচ্ছে নিউজ পেপারে, পাতায়। আজ প্রায় এই দেশের আঠারো হাজার মানুষ অসহ্য যন্ত্রণায় কাতর। প্রায় এক হাজার উনিশ জন চিরকালের জন্য হারিয়ে গেল। তাদের কি আজ যাওয়ার ছিল ?

এখনকার লন্ডন

এই শহরের কত বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে রোজ চলার পথে দেখতাম। আর অবাক হতাম তাঁদের অফুরান প্রাণশক্তি দেখে। মনে মনে শ্রদ্ধা হত। একগাল আভিজাত্য হাসিতে দেখা হবে তো তোমাদের সাথে আবার?
কত মানুষ তার কাছের মানুষকে হারালো। কত মানুষ আজ কর্মহীন। তবু বাঁচার জন্য লড়াই চলছে। গভর্নমেন্ট থেকে অনেক ভালো কিছু ব্যবস্থা করে চলেছে। যেমন প্রতি শহরে নতুন হাসপাতাল। ১১১— রিং করলেই ডাক্তার আর পুলিস নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স আসছে। বয়স্কদের আর কর্মহীন মানুষদের অর্থ আর খাবারের বন্দোবস্ত।
আমরা সবাই অপেক্ষায় আছি সেই ভোরের, যেখানে পাখির কাকলি জানাবে তোমার মেয়ে আবার স্কুল যাবে। অপরাহ্ন অপেক্ষমান বন্ধুর আশায়, গোধূলি দেখাবে আশার আলো। কৌশিক অফিস থেকে ফিরেই ল্যাপটপ খুলে চা নিয়ে বসবে।

আমাকে আর খালি ব্যাগ নিয়ে ফিরতে হবে না স্টোর থেকে। অ্যাম্বুলেন্সের বারবার-ঘণ্টায় বুক কেঁপে উঠবে না। ফুলের রঙে রঙিন হয়ে উঠবে জীবন। বদ্ধ জানালা খুলে ঘরে আসবে আশার আলো। ঘুমন্ত শহর আবার বাঁচুক রাজার মেজাজ নিয়ে। আবার সুস্থ হয়ে বাঁচব সবাই একসাথে।
রবিঠাকুর আজ বড় মনে পড়ছে তোমার কথা। তুমি শিখিয়েছিলে, “ বিপদে মোরে রক্ষা করো, এ নহে মোর প্রার্থনা, বিপদে আমি না যেন করি ভয়” ।

Related articles

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরে তালা! প্রতিবাদে অবস্থান বিক্ষোভ তৃণমূল বিধায়কদের

বিরোধী দলনেতাকে স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে এখনও বিধানসভায় (Assembly) জট কাটেনি। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি না দেওয়ায় খোলা হয়নি বিরোধী...

আরশোলাদের ভয় পেয়েছে বিজেপি! ভারতের CJP-র এক্স হ্যান্ডেলে বন্ধে গর্জে উঠলেন মহুয়া-শশী

BJP-কে পরাস্ত করতে এবার দেশের নতুন প্রজন্মের ভরসা CJP। প্রতিদিন প্রতি ঘণ্টায় 'ককরোচ জনতা পার্টি'র বাড়তে থাকা ফলোয়ার...

এভারেস্ট জয়ের পর মৃত্যু দুই ভারতীয়ের!

মাউন্ট এভারেস্ট (Mount Everest) জয়ের পর নেমে আসার সময় মৃত্যু হল ভারতীয় দুই পর্বতারোহীর (Indian Mountaineers)। শুক্রবার নেপাল...

নিজের স্ত্রীকেই একাধিকবার বিয়ে! কী রহস্য লুকিয়ে খগেশ্বরের জীবনে

দীর্ঘ ৫২ বছরের দাম্পত্য জীবন। চার সন্তানের বিয়ে হয়ে গিয়েছে, ঘরে এসেছে নাতি-নাতনিও। কিন্তু জীবনের এই সায়াহ্নে এসে...