Monday, April 6, 2026

‘পরিবার পিছু জনসংখ্যা’ ভিত্তি হোক, জনঘনত্বের হিসাবে চললে করোনা- মুক্তি হবে না

Date:

Share post:

শৈবাল বিশ্বাস

সম্প্রতি কলকাতার কনটেনমেন্ট জোন নিয়ে কিছু তথ্য‌ হাতে এল তাই এই নিয়ে নিজের কিছু বক্তব্য‌ শেয়ার করছি।

তালিকা অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, রোগ ধরা পড়ার নিরিখে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ৭ নম্বর বরো, যা কি’না বেলেঘাটার দক্ষিণপ্রান্ত থেকে ৪ নম্বর ব্রিজ অবধি বিস্তৃত। ট্যাংরা, তপসিয়া, পিলখানা এই অঞ্চলেরই ভিতর। কলকাতায় সবচেয়ে বেশি কোভিড-১৯ রোগী মিলেছে এই বরোর ৬০ নম্বর ওয়ার্ডে। এর পরই সংক্রমণের নিরিখে এগিয়ে আছে ৫ নম্বর বরো। রাজাবাজার, শিয়ালদা, কলেজ স্ট্রিট এই বরোর ভিতরে পড়ে।

কিন্তু কেন এই অঞ্চলগুলিতে বেশি করোনা আক্রান্ত রোগীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে? একটু সেনসাস রিপোর্টের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা যাক।

◾ ৬০ নম্বর ওয়ার্ড বা লিন্টন পোস্ট অফিস সংলগ্ন ওয়ার্ডটিতে ২০১১-র সেনসাস অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা ৩৫,৭৩২। হাউসহোল্ড বা এক হাঁড়িতে খাওয়াদাওয়া করা পরিবারের সংখ্যা ৬,৭৫৫টি। অর্থাৎ,এই ওয়ার্ডে হাউসহোল্ড পিছু জনসংখ্যা ৫.২৮।

◾ রাজাবাজার অঞ্চলের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডটির কথাই ধরুন৷ এটি পুরসভার ৪ নম্বর বরোর অন্তর্ভূক্ত। এখানে পরিবার (হাউসহোল্ড) পিছু জনসংখ্যাা ৫.২৭।

◾ রাজাবাজারের ৫ নম্বর বরোর ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড অর্থাৎ বরফকল, খালপাড় অঞ্চলে পরিবার পিছু জনসংখ্যা ৫.৯৫ বা প্রায় ৬ বলা যায়।

এবার রেড জোন নয়, এমন ওয়ার্ডগুলির জনসংখ্যার হিসাব দেখা যাক।

◾৯১ নম্বর ওয়ার্ড বা কসবা, ঢাকুরিয়া অঞ্চলে পরিবার পিছু জনসংখ্যা। ৩.৮।

◾১১১ নম্বর ওয়ার্ড গড়িয়ায় পরিবার পিছু জনসংখ্যাা আরও কম, ৩.৯।

◾উত্তর কলকাতার বাগবাজারের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কোভিড আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মাত্র ১টি। সেখানে পরিবার পিছু জনসংখ্যার অনুপাত ৪.৫।

এই হিসাব থেকে বোঝা যাচ্ছে:

◾পরিবার পিছু জনসংখ্যা ৫-এর বেশি এমন ওয়ার্ডগুলি “রেড জোন”-এ পরিণত হচ্ছে।

◾ যে সব বস্তি অঞ্চলে ঘর আর রাস্তার মধ্যে পার্থক্য‌ কম সেখানে দ্রুত সংক্রমণ ছড়াচ্ছে।

◾জনঘণত্বের সঙ্গে পারিবারিক জনসংখ্যার ঘণত্ব গুলিয়ে ফেললে চলবে না।

◾জনঘণত্বের হিসাব নিয়ে চললে সঠিক পরিকল্পনা কখনই করা যাবে না।

◼সমীক্ষার ভিত্তি করতে হবে হাউসহোল্ড বা এক হাঁড়িতে খাওয়াদাওয়া করা পরিবারের হিসাব ধরে।

◾কারণ, সামাজিক দূরত্ব মেনে চললে জনঘণত্ব দিয়ে সংক্রমণ ছড়ানোর হার সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করা না-ও যেতে পারে।

◾কিন্তু পরিবারের মধ্যে যেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়, বিপদ সেখানেই বেশি।

🔺আমার বক্তব্য‌, পরিবার পিছু জনসংখ্যা ৫-এর বেশি এমন ওয়ার্ডগুলি দ্রুত চিহ্নিত করে সেখানে ‘সারি’ বা শ্বাসকষ্টে ভুগছেন, এমন সব মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা হোক।

🔺 তাহলে ৭ দিনের মধ্যে কলকাতা কোভিডমুক্ত হবে।

Corona update

Related articles

মুর্শিদাবাদ থেকে শিলিগুড়ি: উত্তরে প্রচারে অভিষেক

সোমবার গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রচার তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। দক্ষিণের জেলাগুলিতে পুরুলিয়া থেকে পূর্ব বর্ধমানে প্রচার (election...

সোমে মতুয়া গড়ে মমতা: পূর্ব বর্ধমান, নদিয়ার প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচার

নির্বাচনী প্রচার পর্বে মালদহ, মুর্শিদাবাদের পরে এবার দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার তাঁর...

সুপ্রিম কোর্টে SIR মামলা: ট্রাইবুনাল, নাম বাদ পড়া ভোটারে নির্দেশের অপেক্ষা

নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা ও ন্যায্য ভোটারদের তালিকায় জায়গা পাওয়া, না পাওয়া নিয়ে উত্তাল রাজনীতি। এই পরিস্থিতিতে সোমবার...

চিরবিদায়! প্রয়াত পদ্মশ্রী চিকিৎসক মণি ছেত্রী

প্রয়াত হলেন কিংবদন্তি চিকিৎসক মণি কুমার ছেত্রী। রবিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ বালিগঞ্জ প্লেসের নিজ বাসভবনেই শেষ...