Sunday, April 12, 2026

বিতর্ক উস্কে প্রাক্তন মেয়র শোভন বললেন, ভেন্টিলেশনে যাওয়ার পর রোগীর চিকিৎসা হলে এমনই হয়

Date:

Share post:

সমস্ত রাগ-অভিমান-ক্ষোভ উগরে দিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। আমফান বিধ্বস্ত কলকাতায় মানুষের ক্ষোভ-বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর স্পষ্ট কথা, রোগী ভেন্টিলেশনে যাওয়ার পর যদি তার চিকিৎসা শুরু করা হয়, তাহলে এই অবস্থাই হয়। একইসঙ্গে বুঝিয়ে দিলেন পুর কমিশনারকে সরানো মোটেই যথার্থ হয়নি। শোভনের ভাষায় প্রাক্তন পুর কমিশনার খলিল আহমেদ যথেষ্ট যোগ্য।

ভয়াল ঘূর্ণিঝড়। এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু এই পরিস্থিতি কেন তৈরি হল? শোভনের কথায় আগে বোঝা উচিত ছিল যে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হতে পারে। ঝড়ে গাছ তো পড়বেই। দেখলাম কখনও বলা হচ্ছে ২ হাজার গাছ কলকাতায় পড়েছে, কখনও বলা হচ্ছে ৫ হাজার। কোনটা ঠিক? একটা হিসাব থাকবে না? আমি যখন দায়িত্বে ছিলাম তখন থানার ওসি বলে দিত কোথায় ক’টা গাছ পড়েছে। কোন গাছটা পড়েছে। শোভন এও বললেন, শুনছি এখন বলা হচ্ছে একটা গাছ কাটতে নাকি তিন ঘন্টা সময় লাগে! কী বলব! মূল গুঁড়িটা কেটে সরিয়ে দেওয়ার পর ডালপালাগুলো তো করাত দিয়ে কাটা যায়। আসলে কাজ সম্বন্ধে নূন্যতম ধারনা থাকতে হবে। না হলে এই পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হবে। লক্ষ্য যে তাঁর এক সময়ের সহকর্মী ফিরহাদ হাকিম, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শোভন যোগ করেন, বাগরি মার্কেটে আগুন লাগার সময় আমি সেখানে টানা ৭২ ঘন্টা ছিলাম। ঘটনাস্থলে থাকার কারণে পরিস্থিতি কিন্তু অনেকটা আগেই সামলানো গিয়েছিল।

এই ক্ষোভ-বিক্ষোভ কেন তৈরি হল? শোভন এখানে ঝানু রাজনীতিকের মতো বলেছেন, হতে পারে অনেক আগে থেকেই মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছিল। এখন সেটা ক্রমশ দানা বাঁধছে। কিন্তু টানা ৭২ ঘণ্টা যদি জল এবং আলো না থাকে তাহলে মানুষের ধৈর্যচ্যুতি ঘটা স্বাভাবিক। দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটাই বাস্তব। এখানে একে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে সরে গেলে চলবে না। প্রাক্তন মেয়র বলেন, আমার বেশ মনে আছে কলকাতা পৌরনিগমের মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি মুখ্যমন্ত্রীকে অন্য দফতরের দায়িত্বের কথাও বলেছিলাম। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন কলকাতার মেয়র মানে গোটা কলকাতায় কোনও কিছু হলে মেয়রকেই দায়িত্ব নিতে হবে। আর তাই যতদিন, যতক্ষণ দায়িত্বে ছিলাম দায়িত্ব পালন থেকে পিছপা হয়নি। রেজিগনেশন পকেটে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স উদ্বোধন করেছি, সরকারি অনুষ্ঠানে গিয়েছি, সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র দিয়েছি। কিন্তু দায়িত্ব পালন থেকে সরে আসিনি। শোভনের মুখ যেন একটু বিষাদমাখা!

Related articles

‘মহাকাব্যিক স্ট্রিট ফুড’, উৎপল সিনহার কলম

" নিন, টপ করে খেয়ে নিন..." টপ করে মুখের মধ্যে চলে তো গেল ছোট্ট গোলাকার বলটি। কিন্তু তারপর...

বাংলার জন্য ফের মমতাই প্রয়োজন! তৃণমূল নেত্রীর হয়ে সওয়াল কংগ্রেস নেত্রী রেণুকার

রাজ্যে ভোটের আবহ যত বাড়ছে, ততই বিরোধী শিবিরের সমীকরণ ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন জল্পনা। এবার খোদ কংগ্রেসের শীর্ষ...

‘গণতন্ত্রের শত্রু’ বিজেপি! গেরুয়া শিবিরের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে গর্জে উঠল গণমঞ্চ

বিজেপির সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ এবং বাংলা ভাগের চক্রান্তের বিরুদ্ধে সরব হলো ‘দেশবাঁচাও গণমঞ্চ’। শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার বাগবাজারে আয়োজিত...

বকেয়া ডিএ মেটাতে তৎপর নবান্ন, ১৩ এপ্রিলের মধ্যে এসওপি জমার নির্দেশ অর্থ দফতরের

শিক্ষক ও সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে কড়া পদক্ষেপ করল...