দুপক্ষই নারাজ, দার্জিলিং নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক স্থগিত কেন্দ্রের, কিশোর সাহার কলম

কিশোর সাহা

আমন্ত্রিত দুপক্ষ বেঁকে বসায় গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) নিয়ে প্রস্তাবিত ত্রিপাক্ষিক বৈঠক স্থগিত করে দিতে হল কেন্দ্রকে। ১ অগাস্ট, শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পাঠানো এক চিঠিতে ওই বৈঠক স্থগিত করার বিষয়টি রাজ্য সরকার ও জিটিএ-কে জানানো হয়েছে। তবে বৈঠক বাতিল হলেও ফের গোর্খাল্যান্ডের দাবির বিষয়টিকে সামনে চলে এসেছে। যা কি না আগামী বিধানসভা ভোটে সব রাজনৈতিক দলই কাজে লাগাতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জিটিএ নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকায় রাজ্যের তরফে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। রাজ্য সরকার অবস্থান স্পষ্ট করে দেয যে তাদের না জানিয়ে একতরফা ভাবে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকাটা ঠিক হয়নি। তাতে রাজ্যের অংশ নেওয়ার প্রশ্নই নেই। শুধু তা-ই নয়, প্রথমে বিমল গুরুংপন্থীরা ও পরে বিনয় তামাংপন্থীরাও জানিয়ে দেয়, জিটিএ নয়, গোর্খাল্যান্ড নিয়ে আলোচনা হলেই তারা যাবেন। সেই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ফের চিঠি পাঠিয়ে বৈঠক স্থগিত করে দেয়।

এতদসত্ত্বেও লক ডাউনে নিস্তরঙ্গ থাকা দার্জিলিংয়ের রাজনৈতিক মহলে শোরগোল কমেনি। কারণ, বৈঠক ডাকার পরপরই প্রথমে বিমল গুরুংয়ের ডান হাত তথা ফেরার মোর্চা নেতা রোশন গিরি জানিয়ে দেন, গোর্খাল্যান্ড নিয়ে বৈঠক ডাকা হচ্ছে না বলে তাদের কেউ সেখানে অংশ নেবেন না। পরে বিনয় তামাংরাও একই সুরে কথা বলেছেন।

অর্থাৎ আগামী বিধানসভা ভোটের আগে গোর্খাল্যান্ডের দাবির বিষয়টি সামনে রেখে উভয়পক্ষই যে অতি মাত্রায় তৎপর হবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূলও যে বিষয়টিকে সামনে রেখে সমতলে জোরদার প্রচার চালাবে তাও স্পষ্ট। কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি যে পাহাড়ে বিমল গুরুংয়ের প্রাসঙ্গিকতা ফিরিয়ে সেখানে নেপালি ভাষী অধ্যুষিত এলাকায় ভোটব্যাঙ্ক শক্ত করে নিতে তৎপর হবে, সেটা বোঝাই যাচ্ছে। উপরন্তু, বৈঠক স্থগিত করে পশ্চিমবঙ্গের সমতল এলাকাতেও বাংলা ভাগের প্রশ্ন এড়ানোর ভিত তৈরি করে রাখল বিজেপিও।