‘দাদার অনুগামী’-দের কর্মসূচি ঘিরে জোর বিতর্ক, উপেক্ষা করছে তৃণমূল

কোনও রাজনৈতিক দলের নাম বা প্রতীক চিহৃ নেই৷ শুধুই লেখা ‘আমরা দাদার অনুগামী’৷ পাশে ‘দাদা’-র মুখ৷
ভোটের বছরে বাংলার রাজনৈতিক মহল এমন ফ্লেক্স দেখে খানিকটা বিস্মিত ৷ তাদের কৌতূহলি প্রশ্ন, এসব কিসের ইঙ্গিত ?

এ ধরনের ফ্লেক্স প্রথম দেখা গিয়েছিলো কাঁথি, তমলুক এলাকায়৷ তা এখন ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর,জঙ্গলমহলেও৷ রাজ্যের অন্যত্রও তাঁরা সক্রিয়। এ ধরনের ফ্লেক্স ঝুলিয়ে একের পর এক কর্মসূচিও চালাচ্ছেন ‘দাদার অনুগামী’-রা৷

তৃণমূলে কংগ্রেসকর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিতরা বুধবার ‘আমরা দাদার অনুগামী’ ব্যানারে সবংয়ে মাস্ক, স্যানিটাইজার, সাবান বিতরণ করলেন৷ সঙ্গে বিশাল বাইক মিছিলও হয়েছে। কোনও দল নয়, নেতা-নেত্রী নয়, এমনকী স্লোগানেও দলের নাম উচ্চারিত হয়নি সবংয়ে৷ এই বাহিনী নিজেদের পরিচয় দিচ্ছেন, ‘আমরা দাদার অনুগামী’ বলেই৷


সবংয়ের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অনুগামীদের প্রত্যেকের গলায় শুভেন্দু অধিকারির ছবি ঝুলছে, এমনই দেখা গিয়েছে৷ সেখানেও লেখা “আমরা দাদার অনুগামী”। হাতে ধরা বড় ব্যানারেও একই কথা লেখা৷ বিভিন্ন এলাকার অনুগামীরা আগেও বিভিন্ন জেলায় নানা কর্মসূচি পালন করেছেন একইভাবে৷ বুধবার সবংয়েও রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারিকে নেতা মেনেই সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন করেন তাঁরা৷ করোনা-আবহ তথা লকডাউনের শুরু থেকেই  সামাজিক কাজকর্মকে সামনে রেখেছেন অনুগামীরা৷ এদিনের কর্মসূচিতে তাঁরা দাবি করেছেন, সরকারি বা দলীয় সাহায্যের বাইরেও জঙ্গলমহল-সহ নানা জায়গায় শুভেন্দু অধিকারি নিজ-উদ্যোগে ত্রাণ পাঠিয়েছেন। তখন থেকেই শুভেন্দুর ছবি গলায় ঝুলিয়ে সামাজিক কর্মসূচি চলছে। দলের মধ্যে থেকেই ‘দাদার অনুগামী’-দের এ ধরনের কর্মসূচি নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্যই করেনি তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে দলীয়স্তরেই প্রশ্ন উঠেছে,দলে থাকা সত্ত্বেও দাদার অনুগামীদের এই সমান্তরাল কর্মসূচি বাড়ছে কেন এবং কীভাবে ? ওদিকে দাদার অনুগামীরা ঘোষণা করেছেন, আগামী ১৮ অক্টোবর, বেলা ৩ টায় ‘নেতাই শহিদ স্মৃতিরক্ষা কমিটি’র পরিচালনায় গৃহদান ও মহিলাদের সেলাই মেশিন প্রদান অনুষ্ঠান হবে৷ এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শুভেন্দু নন, উপস্থিত থাকবেন ‘নেতাই গ্রামবাসীর সেবক’ শুভেন্দু অধিকারি৷

আরও পড়ুন:মণীশ শুক্লা খুনে ২ পুর প্রশাসককে তলব সিআইডি-র