মিরাকেলের দিকে তাকিয়ে চিকিৎসকরা, সৌমিত্রর জন্য প্রার্থনার আর্জি বেলভিউ ক্লিনিকের

গভীর সঙ্কটে কিংবদন্তি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। বর্ষীয়ান অভিনেতার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হল। আজ, শনিবার বিকেল সাড়ে চারটের সময় অডিও মেডিক্যাল বুলেটিন প্রকাশ করে ডা. অরিন্দম কর যা বার্তা দিলেন তাতে চিকিৎসকরা দীর্ঘ ৪০দিন লড়াইয়ের পর কার্যত হার স্বীকার বলাই চলে।

ডাক্তার কর জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টা ধরে সৌমিত্রবাবুর অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনকই রয়েছে। একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকলও হতে শুরু করেছে ৮৫ বছর বয়সী অভিনেতার। দেওয়া হয়েছে একাধিক লাইফ সাপোর্ট। ডা. করের কথায়, কোনও মিরাকল ছাড়া সৌমিত্রবাবুর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা কম। বেলভিউ ক্লিনিকের পক্ষ থেকে প্রিয় অভিনেতার জন্য সকলকে প্রার্থনার আর্জি জানান।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, ব্রেন ডেথের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। শুক্রবার থেকে মস্তিষ্কের স্নায়ু কোনওভাবেই সাড়া দিচ্ছে না। EEG করে মস্তিষ্কের স্নায়ুর যে রিপোর্ট এসেছে তা অত্যন্ত খারাপ। মেডিকেল বোর্ডের দাবি অনুযায়ী, মস্তিষ্কের স্নায়ুর সাড়া দেওয়ার সূচক গ্লাসগো কোমা স্কেল অনযায়ী ৫। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই সূচক তিনের কাছাকাছি পৌঁছলে ব্রেন ডেথ ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন:নির্বাচন হারলেও ‘ট্রাম্প-২’ শাসনকালের পরিকল্পনা শুরু করেছে হোয়াইট হাউস: রিপোর্ট

কোনও কোনও চিকিৎসকরে মতে , ‘মাল্টিঅরগান ফেলিওরের পরিস্থিতি’। হার্ট, লিভার এবং কিডনি এই মুহূর্তে চিকিৎসকদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনওটাই ঠিকভাবে কাজ করছে না। রক্তের উপাদানগুলির দ্রুত বাড়া কমার পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল করে তুলছে। সবমিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটেছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত সংঙ্কটজনক।

উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের। এরপর ৬ অক্টোবর বেলভিউ ক্লিনিকে ভর্তি হন তিনি। ৭ অক্টোবর থেকে ছিলেন ITU-তে। কয়েকদিন পরে ভেন্টিলেশনে। গত কয়েকদিন একদিন ডায়ালিসিস একদিন প্লাসমাফেরেসিস করা হচ্ছে। কিন্তু কোনও ফল মিলছে না। রাজ্য সরকার ও স্বাস্থ্য ভবনকে ইতিমধ্যেই বর্তমান পরিস্থিতি জানানো হয়েছে বলে খবর বেলভিউ সূত্রে।