Saturday, April 18, 2026

বিজেপিতে শঙ্কার মেঘ, দলবদলুদের বিরুদ্ধে এককাট্টা হচ্ছেন আদি বিজেপিরা, অভিজিৎ ঘোষের কলম

Date:

Share post:

অভিজিত ঘোষ

শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) কী বিজেপি বিধানসভা ভোটে বিজেপির মুখ করতে চাইছে? মেদিনীপুরের সভা থেকে যেভাবে তাঁকে চপারের সঙ্গী করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকে কলকাতায় নিয়ে এলেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Home Minister Amit Shah), তাতে বিজেপির অন্দরে এই শঙ্কা দানা বাঁধতে শুরু করেছে। বিশেষত বিগত পাঁচ বছর ধরে যারা তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, দলের ভিত্তি তৈরি করেছেন, নির্বাচনে সাফল্য দিয়েছেন, তাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। আর নেতৃত্ব এতেই অশান্তির কালো মেঘ দেখতে শুরু করেছেন।

বিজেপিতে (BJP) আদি বনাম নব্য বিজেপির লড়াই বহুদিন থেকে শুরু হয়েছে। দলের দিল্লির নেতাদের ধারণা তৈরি হয়েছে, তৃণমূল (TMC) ভেঙে এমএলএ-এমপি নিয়ে এলে বোধহয় নির্বাচনে জেতা সহজ হবে। কিন্তু আরএসএস (RSS) ঘরানার নেতৃত্ব এই ভাবনায় শিলমোহর দিতে রাজি নন। তাঁরা মনে করছেন, দ্রুত ক্ষমতা পেতে এই পথ অবলম্বন করা হচ্ছে, দিল্লির নেতাদের সুরে সুর মেলাতে হচ্ছে, কিন্তু যে প্রশ্ন মানুষ তুলছেন বা তৃণমূল স্তরের কর্মীরা তুলছেন,তার জবাব দিতে হচ্ছে তাঁদেরই। আর সেখানেই সমস্যা বাড়ছে, বিরক্তি বাড়ছে, নব্য বিজেপিদের নিয়ে বাড়াবাড়িতে দলের মধ্যে ‘শার্প ডিভিশন’ তৈরি হচ্ছে।

আদি বিজেপি নেতারা কোন প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছেন? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজ্য নেতা বলছেন, তাঁরা যে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ব্যতিব্যস্ত হচ্ছেন…

১. কেন তৃণমূল বা সিপিএম ( CPM) কংগ্রেসের (Congress) লোক ভাঙিয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদের প্রত্যেকেই ব্যর্থ হচ্ছেন। বিজেপির ‘বার্ডেন’ হচ্ছেন। মুকুল রায় থেকে অনুপম হাজরা, সব্যসাচী দত্ত, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মতো তৃণমূলের তারকারা এখানে এসে দলের কোনও উপকারে আসছেন না। বরং তাদের অনুচরদের দলে ঢোকাতে দিল্লির নেতাদের ধরে লবিবাজি হচ্ছে। দল কাজের চাইতে সেই সমস্যা মেটাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে।

২. বিজেপি নেতাদের প্রশ্ন, দলে কী নেতা কম পড়েছে? তাহলে ভাড়া করা ডেকরেটার্সদের মতো এদের দলে আনতে কেন এতো উৎসাহ? দল তাহলে প্রকাশ্যে বলুক, বিজেপি নেতারা পারছেন না। তাই অন্য দলের নেতাদের ডাক দেওয়া হচ্ছে।

৩. তৃণমূল কংগ্রেস ভাঙতে দল এতটা উৎসাহিত যে, কোনও বাছবিচার করা হচ্ছে না। বহু কেলেঙ্কারির নায়কদের ঘটা করে যোগ দেওয়ানো হচ্ছে। এবার তাদের কেলেঙ্কারির জবাব দিতে হচ্ছে দলকে। নেতৃত্বের সাফ কথা, আমরা কেন জবাব দেব? আমাদের কথায় তো আনা হয়নি। দিল্লির নেতারা জবাব দেবেন।

৪. দলবদলুদের বিজেপিতে স্থান দেওয়ায় বিজেপিতে আস্থা রাখা বহু সাধারণ মানুষ এবার বলতে শুরু করেছেন, ওদের কেন ভোট দেব? এরা তো ক্রমশ তৃণমূলের বি-টিম হতে চলেছে।

৫. সবচেয়ে ক্ষুব্ধ তৃণমূলস্তর এবং প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা রাখেন এমন নেতৃত্ব। তাঁরা দল করেছেন, লড়াই করেছেন। স্বভাবতই পুর ভোট বা বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে তাঁরা প্রার্থী হওয়ার আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু যে তৃণমূল নেতারা বিজেপিতে আসছেন, তাঁদের দল অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রার্থী করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ফলে সেখানে দীর্ঘ লড়াইয়ে থাকা বিজেপি নেতারা হতাশ হচ্ছেন দলের প্রতি মোহভঙ্গ হচ্ছে, বঞ্চনার অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। ক্রমশ তাঁরা আস্থা হারাচ্ছেন।

প্রশ্ন এখানেই। ফলে দলের মধ্যে পরিযায়ী নেতাদের বিরুদ্ধে লবি ক্রমশ বাড়ছে, সংগঠিত হচ্ছেন আদি বিজেপিরা। তাদের যৌথ প্রতিরোধ যে আগামী দিনে দলের কাছে বড় শঙ্কার কারণ হবে তা বলাই বাহুল্য। কতবার জিতেন্দ্র তেওয়ারির মতো দলবদলু-সুবিধাবাদীদের আটকানো হবে? এও প্রশ্ন কেউ কেউ তুলেছেন, দল আদৌ বিধানসভায় জিততে চায় তো!

 

Related articles

IPL: ব্য়র্থ রাহানেও পেলেন অভিনন্দন বার্তা, কোন অঙ্কে প্লে অফে যেতে পারে কেকেআর?

হারের পর হার, তবুও লড়াই ছাড়ছেন না অজিঙ্কা রাহানে (Ajinkya Rahane)। আদৌও রাহানেকে অধিনায়ক রাখা হবে কিনা তা...

গরমে কাবু ‘ফাটাকেষ্ট’! দুর্গাপুরে রোড শো ছেড়ে মাঝপথে পিঠটান, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুললেন স্থানীয়রা

তীব্র গরমে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) দলের প্রচারে পদযাত্রা করছেন। রোদ মাথায় নিয়ে প্রায় প্রতিদিন দীর্ঘ...

নির্বাচন আবহে নতুন টোপ! কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ২ শতাংশ DA ঘোষণা

দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন (Election) আবহে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে সংসদকে নির্বাচনের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে মোদি...

মিথ্যাচার ট্রাম্পের! ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান, ফিরল ৪ ভারতীয় জাহাজ

ফের হরমুজে (Strait of Hormuz) বিধিনিষেধ জারি করল ইরান। আমেরিকা (America) শর্তভঙ্গ করে অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। জাহাজ ঢোকা...