Sunday, January 11, 2026

উচ্চ আদালতে ফের অস্বস্তিতে রাজ্য সরকার, নজরে বন দফতরের মেধাতালিকা

Date:

Share post:

শিক্ষক নিয়োগের পর এবার আলোচনায় উঠে এলো বন দফতরের মেধাতালিকা। কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে বন সহায়ক নিয়োগের মেধাতালিকা। আদালতের এই নির্দেশে যেমন রাজ্য সরকার চাপে পড়েছে, তেমনই প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে প্রাক্তন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায়কেও। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনিই ছিলেন বাংলার বনমন্ত্রী। ফলে এই দফতর কোনও প্রশ্নের সম্মুখীন হলে সদ্য প্রাক্তন হওয়া মন্ত্রীও দায় এড়াতে পারেন না।

কিছু দিন আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় প্রকাশ্যেই করেছিলেন বন দফতরে দুর্নীতির অভিযোগ। পাল্টা দিয়েছিলেন রাজীবও। তৃণমূলের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে তিনি দাবি করেছেন, বীরভূমের কোনও এক নেতাকে নিয়োগের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করেছিলেন। এমনকি সেই নেতা হুমকি দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেছিলেন রাজীব। এখানেই শেষ নয়, মুখ্যমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুলে বলেছিলেন কালীঘাট থেকেও এ ব্যাপারে নাড়ানো হয়েছে কলকাঠি। সব মিলিয়ে বন দফতরে যে বড় রকমের সমস্যা রয়েছে তা দাবি করেছে দু’পক্ষই।

মামলার বয়ান অনুযায়ী মামলাকারী সজল দে সহ ১২জন চাকরিপ্রার্থী পক্ষের আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী জানান, রাজ্যের বন দফতর এ পদের জন্য ২০০০ শূন্য পদের জন্য নিয়োগ করা হবে এই মর্মে গত ৮ অগাস্ট ২০২০ সালে বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্যের বন দফতর। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই দুর্নীতি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আদালতে দ্বারস্থ হয়েছেন বিক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। তাদের দাবি, দফতরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল মেধা তালিকা প্রকাশ না করে কাউকে নিয়োগ করা হবে না। কিন্তু আদপে তা হয়নি বলে বলছেন অভিযোগকারীরা। মেধা তালিকা প্রকাশ না করেই নিয়োগ করা হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। রাজ্যের কাছে এ ব্যাপারে একাধিকবার জানিয়েও নাকি হয়নি কাজের কাজ, তাই তারা দ্বারস্থ হয়েছিলেন স্যাট-এর।

রাজীব ব্যানার্জী প্রস্থানের পর মমতা বলেছিলেন, “বন সহায়তা স্কিমে আমাদের সঙ্গে থাকা এক নেতা কারসাজি করেছে। আমার কাছে অনেকে এই অভিযোগ করেছে।” দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে সম্মতি দিয়েছে রাজ্যসভাও। অন্য দিকে নেত্রীকে উদ্দেশ্য করে রাজীব সরাসরি বলেছিলেন, “মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়ে দিতে চাই, কোন উচ্চ নেতৃত্ব সুপারিশ করেছেন, কালীঘাট থেকে কী সুপারিশ এসেছে, সব নথি তুলে রেখেছি।” রাজীবও তুলেছেন তদন্তের দাবি। দুই যুযুধানের লড়াইয়ে আপাতত নিয়োগের দিয়ে তাকিয়ে চাকরিপ্রার্থীরা। ৪ মার্চের মধ্যে রাজ্য সরকারকে হলফনামা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি রাজশেখর মান্থা।

Advt

spot_img

Related articles

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলায় কড়া নজর কমিশনের! প্রথম রিপোর্টেই শুভেন্দু-চম্পাহাটি প্রসঙ্গ

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক কেমন, তা নিয়ে প্রতি সপ্তাহে এবার সরাসরি রিপোর্ট নেবে নির্বাচন কমিশন। বছরের শুরুতেই...

নতুন বছরে পর্যটকদের বড় উপহার, ফের চালু দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের জঙ্গল সাফারি

নতুন বছরের শুরুতে পাহাড়প্রেমী পর্যটকদের জন্য খুশির খবর শোনাল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর)। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফের...

মোদির গুজরাটে চোরাশিকার! উদ্ধার ৩৭টি বাঘ ছাল, ১৩৩টি নখ-দাঁত

আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) দেশের বিভিন্ন জঙ্গলে সাফারিতে যান। বিদেশ থেকে আনা নতুন বিভিন্ন...

অব্যহতি দেয়নি কমিশন: আত্মহত্যায় ‘বাধ্য’ হলেন মুর্শিদাবাদের BLO

অতিরিক্ত কাজের চাপে তাঁর শরীর খারাপ হত। তারপরেও অব্যহতি মেলেনি নির্বাচন কমিশনের এসআইআর-এর কাজ থেকে। ক্রমশ বেড়েছে কাজের...