শিলিগুড়িতে মমতার মিছিলে জনস্রোত, বিনামূল্যে এলপিজি-র দাবি তৃণমূল নেত্রীর

কিশোর সাহা  :   তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযের সভায় উপচে পড়া ভিড়ে রবিবার, ছুটির দিনে অবরূদ্ধ হযে গেল হবু অলিখিত মহানগর শিলিগুড়ি। উত্তর দিকের দার্জিলিং মোড় থেকে দক্ষিণের তিনবাতি মোড়, পূর্বে আশিঘর মোড় থেকে পশ্চিমে মেডিক্যাল কলেজ, সব দিকেই যানজট, থমকে গিয়েছে জনজীবন। যা দেখে শুনে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ফাঁকা ব্রিগেডে সভা করছেন যিনি তিনি শুনে রাখুন খেলা হবে। সেই সঙ্গে তৃণমূল নেত্রীর সংযোজন, খেলা হবে, তুমি কত খেলা জানো, আমি কত খেলা জানি সব হিসেব বুঝিয়ে দেব।

মুখ্যমন্ত্রীর আরও ঘোষণা, মিথ্যাবাদীদের চেহারা মানুষের কাছে স্পষ্ট এবং গ্যাসের দাম, পেট্রোলের দাম মাত্রাছাড়ার কারণে তাঁদের মানুষ ছুঁড়ে পেলে দেবে। উপরন্তু, মুখ্যমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ, আগে রান্নার গ্যাস বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন তার পরে ভোট চাইতে আসবেন।

এদিন বেলা দেড়টা নাগাদ তৃণমূল নেত্রী দার্জিলিং মোড়ে হাজির হন। তার আগেই সেখানে উপচে পড়া বিড়. ফাঁকা সিলিন্ডার নিয়ে উপস্থিত অগুন্তি তৃণমূল সমর্থক। মুখ্যমন্ত্রীকে দেখেই জনতা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে বলতে থাকে খেলা হবে, জেতা হবে ও দেখা হবে।

Advt

প্রায় আড়াই কিলোমিটার হেঁটে মুখ্যমন্ত্রী হাসমি চকে পৌঁছন। তার সঙ্গে ছিলেন শিলিগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী ওমপ্রকাশ মিশ্র, অভিনেত্রী মিমি, নুসরত সহ অনেকেই। হাসমি চকে মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছে নরেন্দ্র মোদী সহ বিজেপির কেনন্দ্রীয় নেতাদের বাংলা সম্পর্কে নানা ভুল তথ্য পরিবেশ সম্পর্কে কড়া আক্রমণ করেন। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী তথা নরেন্দ্র মোদী বাংলার সম্মন্ধে কিছু জানেন না। তাই স্রেফ গুজরাতি লিপিতে লেখা বাংলার নানা বিষয়ে বক্তৃতা দেন বলে দাবি করলেন তৃণমূল নেত্রী। তৃণমূল নেত্রী বলেন, মোদী বক্তৃতা টুকে নিয়ে আসে। গুজরাতিতে বাংলা সম্পর্কে টুকে আনে নিয়ে আসে। যা কি না বাংলার মানুষ ধরে ফেলেছে। এর পরে তৃমমূল নেত্রী জানান, বাংলা কিনে নিয়ে যাবে ভাবলেও তা হতে দেওয়া যাবে না। তৃণমূল মন্ত্রীর গর্জন, খেলা হবে, দেখা হবে, জেতা হবে, তুমি কত খেলতে পারো দেখা যাবে। যো হামসে টকরাতে হ্যায় ও চুরচুর হয়ে যাবে।

এর পরে উত্তরবঙ্গে বিজেপি কি করেছে সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, উত্তরবঙ্গ থেকে এত নিয়ে গেলে কি দিয়েছ তুমি! অথচ তৃণমূল জমানায় জলপাইগুড়ি, শিলিগুডজ়ি, বাংলাদেশ, নেপাল সব যুক্ত হয়ে গেল। এখনও বালুরঘাট, মালদহে প্লেন চালায়নি। এখন ট্রেনে একটা বেড রোল অবধি দেয় না। গ্যাসের দাম এত কেন! বিনা পয়সায় গ্যাস দিতে হবে। ইলেকশনের আগে উজালা, ইলেকশনের পরে জুমলা, ভ্রস্টাচারের তোমরাই স্রষ্টা বলে নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করেন তিনি।

এর পরে তৃণমূল নেত্রী ফের বলেন, নরেন্দ্র মোদী জেনে যাও, বাংলার মানুষ জানতে চায় গ্যাস কবে বিনা পয়সায় দেব! যতক্ষণ না দেবে একটি ভোট দেবেন না। তিনি নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ওঁর মিথ্যা কথা বলেই জীবনাটা চলে গেল। তৃণমূল নেত্রী দাবি করেন, আমাদের রাণী রাসমণি থেকে শুরু করে বাংলার বিশিষ্টজনদের জন্যই দেশে অনেক পরিব্রর্তন হয়েছিল ও হবে। এমনকী, সতীদাহ প্রথা নির্মূল হয়েছিল বাংলা থেকে উদ্যোগের জন্ই। তাঁর হুঁশিয়ারি, মনে রাখবেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যালগেরর মূর্তি ভেঙে, বিবেকানন্দকে ঠাকুর বানিয়ে বাংলায় পাত পাওয়া যায় না।

এর পরে তৃণমূল নেত্রী জানান, নরেন্দ্র মোদীর রোজ রোজ মিথ্যে কথা বলা মানুষ নেবে না। আগের বার ১৫ লক্ষ টাকা দেশের নাগরিকদের অ্যাকাউন্টে দেবে বলেও দেয়নি। এবার ভোটারদের ভোট কিনতে টাকা দিতে চাইতে পারে। তিনি জানান, যদি ভোট কিনে নিতে চায় তা হলে দেবেন না। মনে রাখবেন বাংলার মানুষ বিজেপিকে চায় না। তিনি কারণ ব্যাখা করতে গিয়ে এটাও বলেন দেন, সকাল বেলা যদি প্রধানমন্ত্রীল বলে ভাষণ দেবে তা হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টটা ভয় পান, নোটবন্দি হবে না বাঘবন্দি হবে।

শুধু তাই নয়, সিন্ডিকেট রাজের প্রসঙ্গে মোদীকে এক হাত নেন মমতা। তিনি বলে দেন, মোদীবাবু আপনাদের সিন্ডিকেটকে হাতে হাতে শেখাব। এক গাড়ি কয়লার কত দাম! একটি ট্রেনের দাম কত! লক্ষ লক্ষ-কোটি টাকা। সেটা হাত বদল করে দেওয়া হচ্ছে কার স্বার্থে! কার পকেটে টাকা যাচ্ছে!!

এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মনে রাখবেন আমি গ্যাসের দাম বৃদ্ধিই আমার কাছে সবচেয়ে বড় ব্যাপার। পেট্রোল এর দাম বাড়ছে। মানুষ বড় দুঃখে আছে। মানুষের সমস্যা আমার কাছে বড়। মোদীবাবু আপনি ফাঁকা ব্রিগেডে বক্তৃতা দেন, তখন আমি স্ট্রিট ফাইটার ভিড়ে ঠাসা রাস্তায় থাকি।

এর পরে ভিড়ে শিলিগুড়ি অবরূদ্ধ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে এনে তৃণমূল নেত্রী বলেন, আমি রাস্তা খালি রেখেছিলাম। কিন্তু মানুষের ভিড় হলে কি করার আছে। তিনি আহ্বান করেন, সকলে বলুন, খেলা হবে! খেলা হবে ভজ গৌরাঙ্গের মতো বারবার বলতে হবে। খেলা হবে! জেতা হবে! জেতা হবে! দেখা হবে।

টানা ২০ মিনিটের বক্তৃতায় মোদীকে ছুপা রুস্তম বলেও কটাক্ষ করেন তৃণমূল নেত্রী। বেলা ৩টে নাগাদ মুখ্যমন্ত্রহী বাগডোগরা বিমানবন্দরের দিকে রওনা দেন। সন্ধ্যায় তাঁর কলকাতায় পৌঁছনোর কথা।