পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে উত্তাল সংসদ, মুলতুবি করা হল অধিবেশন

পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে সংসদের(parliament) বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দফার শুরুতেই উত্তাল হয়ে উঠল সংসদ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে অধিবেশন শুরু হওয়ার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তা মুলতবি করে দিতে হয়। পাশাপাশি এদিন অধিবেশনে সাময়িক বিরতি চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন(Derek O’Brien) ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়(Sudip Banerjee)। চিঠিতে বলা হয়েছিল, ভোটপ্রচারের জন্য তৃণমূলের বেশিরভাগ সাংসদই এখন বাংলায়। তাই আপাতত এই অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করা হোক। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়।

লাগাতার পেট্রোপণ্য ও রান্নার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির জেরে নাকাল অবস্থা দেশবাসীর। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার প্রতিবাদে নেমেছেন বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীরা। সম্প্রতি রান্নার গ্যাস ও পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ই-স্কুটারে নিজের বাড়ি থেকে নবান্ন গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। এরপর সোমবার সংসদ অধিবেশনের শুরুতেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়ে ওঠেন বিরোধী দলের সাংসদরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এম ভেঙ্কাইয়া নাইডুকে বলতে হয়, ‘প্রথম দিনই আমি কোনও চরম পদক্ষেপ চাই না।’ এদিকে অধিবেশনের শুরুতেই বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, ‘আজ দেশের কোথাও প্রতি লিটার পেট্রল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা প্রতি লিটারে। ডিজেলের দামও ৮০টাকা প্রতি লিটার ছাড়িয়েছে। দাম বেড়েছে এলপিজিরও। ২০১৪ থেকে ২১ লক্ষ কোটি টাকা শুধু আবগারি শুল্ক হিসাবে সরকার নিয়েছে। এর জন্যই উত্তরোত্তর দাম বাড়ছে পেট্রল-ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের। গোটা দেশ এর জন্য ভুগছে।’ কিন্তু মল্লিকার্জুনের দাবি নস্যাৎ করে দেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান।

অন্যদিকে, বাংলা সহ দেশের ৪ রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচন সামনেই। যার ফলে তৃণমূলের দুই সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভা ও রাজ্যসভার কাছে আবেদন জানান নির্বাচনের জন্য আপাতত স্থগিত রাখা হোক সংসদ অধিবেশন। কারণ এই সময় বেশিরভাগ সংসদে রাজ্যে প্রচারে ব্যস্ত তাই তারা সংসদে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। যদিও তিনি তৃণমূল সাংসদদের এই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়।

Advt