Tuesday, March 24, 2026

বেনজির, মৃতদেহ সৎকারের জন্য ১৬ থেকে ২০ ঘন্টা পর্যন্ত অপেক্ষা !

Date:

Share post:

করোনায় মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। যার ফলে চাপ বাড়ছে শ্মশান ঘাট আর কবর স্থানগুলিতে। প্রতিদিন ভিন্ন রাজ্যে যে ভাবে করোনায় সাধারণ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে তাতে অনেক জায়গাতেই মৃতদেহের স্তূপ তৈরি হয়েছে।
মৃতদেহের সারি, শ্মশানের বাইরে লম্বা লাইন। প্রিয়জনকে একঝলক দেখার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা, আর বাতাসে ক্রমে কুন্ডলি পাকিয়ে ওঠা কালো ধোঁয়া। এটাই এখন চেনা দৃশ্য ।
একই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বারাণসী, ভোপাল, ইন্দোরের শ্মশান চত্বরে। লখনউয়ের বৈষ্ণবকুণ্ড শ্মশান ঘাটে মৃতদেহের লাইন। সাধারণ মানুষের দাবি একসঙ্গে এত দেহ জ্বলতে কোনও দিনও দেখেননি তারা। একই অবস্থা হরিশচন্দ্র ঘাটের। বারাণসীর এই শ্মশানে শুধু কোভিডে মৃতদেহ সৎকারের জন্যই ব্যবহার করা হচ্ছে। শ্মশানে কর্মরত কর্মীদের দাবি , মৃতদেহ জ্বালানোর জন্য কাঠও মিলছে না। বহু ক্ষেত্রে ভেজা নরম কাঠও জ্বালাতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। মনিকর্ণিকা ঘাটের দৃশ্য আরও ভয়ঙ্কর। ভেতরে যখন ২০-২২টি দেহ জ্বলছে তখন বাইরে দীর্ঘ লাইন।
রাজধানীতে ধরা পড়ল আরও এক মর্মান্তিক ছবি। দাহ করার জন্য মৃতদেহ নিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে ২০ ঘন্টা পর্যন্ত। এত বেশি মৃতদেহের ভিড় যে তার আগে দাহ করার সময় আসছে না।
পরিসংখ্যান বলছে, চলতি মাসে দিল্লিতে মৃত্যু হয়েছে ৩৬০১ জনের , আর তার মধ্যে কেবল মাত্র গত সাত দিনে মৃত্যু হয়েছে ২২৬৭ জনের। এই দিল্লিতে গত ফেব্রুয়ারিতে মৃতের সংখ্যা ছিল ৫৭ আর মার্চে এই সংখ্যা ছিল ১১৭। এই পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যাচ্ছে দিল্লির প্রত্যেকটা সমাধিস্থলে কিভাবে বাড়ছে দেহের ভিড়।

দিল্লির এক সমাধিস্থলে দেখা যায় পরপর পড়ে আছে দেহ। একটা একটা করে সৎকারের কাজ চলছে। চার পাশ ঢেকে যাচ্ছে কালো ধোঁয়ায়। বাতাস ভরে উঠছে পরিবারের হাহাকারে। কখন সৎকারের সময় আসবে তার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে আত্মীয়দের। মৃতদের পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, ১৬ থেকে ২০ ঘন্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ভোপালের ভদভদা বিশ্রাম ঘাটের দৃশ্যও চোখে পড়ার মতো। এই ঘাটে সরকারি হিসেবের সঙ্গে সৎকারে আসা দেহের সংখ্যা নিয়েও বিস্তর গোলমাল চোখে পড়েছে। সরকারি ভাবে যে সংখ্যা দেওয়া হচ্ছে তার থেকে অনেক বেশি মৃতদেহ এসেছে শ্মশানে। মধ্যপ্রদেশ সরকার যদিও তথ্য গোপন করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মৃতদেহ সৎকারের জন্য নিগম্বোধ শ্মশান ঘাটের বাইরে লম্বা লাইন পড়ছে প্রতিদিন। যাঁরা পরিজনদের মৃতদেহ সৎকারের জন্য আসছেন, তাঁদের অনেককেই ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ঘন্টায় ২ থেকে ৩টি করে মৃতদেহ আসছে সেখানে। শ্মশানের পাশাপাশি দিল্লির এক কবর স্থানও প্রায় পরিপূর্ণ হওয়ার দিকে চলেছে। প্রতিদিন সেখানে ১ থেকে ২টি করে দেহ আসতো। এখন ১৭ থেকে ১৮টি করে দেহ আসছে প্রতিদিন। কবরস্থানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আর ৯০ জনের কবর দেওয়ার জায়গা আছে। ফলে দৈনিক ১৮টি করে দেহ এলে খুব শীঘ্রই জায়গার অভাব ঘটবে।

Advt

Related articles

নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুলতে আজ উত্তরে মমতা, দক্ষিণে অভিষেক

হাতে আর মাত্র এক মাস, তারপরই বাংলায় প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election)। মাঠে-ময়দানে জনমত সমীক্ষা...

প্রকাশিত হল প্রথম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট! কীভাবে দেখবেন? জানুন

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সোমবার রাত বারোটার ঠিক কয়েক মিনিট আগে প্রথম অতিরিক্ত ভোটার তালিকা (সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট) প্রকাশ...

হিংসা ও ভয়মুক্ত ভোট সুনিশ্চিত করতে কড়া নবান্ন, জেলাশাসকদের বিশেষ নির্দেশিকা মুখ্যসচিবের

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন যাতে সম্পূর্ণভাবে অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং ভয়মুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়, তার জন্য এবার কোমর বেঁধে নামল...

ভোটের মুখে মহকুমাশাসক স্তরেও কোপ, রাজ্যে একযোগে ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে সরাল কমিশন

বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদলে বেনজির সক্রিয়তা দেখাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং জেলাশাসকদের...