Saturday, January 31, 2026

ও মোদিজি, বাংলার যেখানে পা রাখলেন, সেখানেই তো হারলেন ! কণাদ দাশগুপ্তর কলম 

Date:

Share post:

কণাদ দাশগুপ্ত

এ যেন ‘সোনার পা’ !

ভোট প্রচারে বাংলার যে যে কেন্দ্রে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পা রেখেছেন, সেই সব কেন্দ্র এবং সন্নিহিত কেন্দ্রগুলির ৮০ শতাংশে হেরে ভূত হয়েছে বিজেপি৷ তছনছ হয়েছে দলের সংগঠন ৷ ভাগ্যিস শেষ দফায় ৪-৫ টি সভা বাতিল করেছেন প্রধানমন্ত্রী৷ ওই সভাগুলি তিনি করতে পারলে কমপক্ষে আরও ২০টি আসন কম পেতো বিজেপি৷ বাঁচিয়ে দিয়েছে কমিশন৷ অমিত শাহ বা জে পি নাড্ডার ক্ষেত্রেও এই একই ছবি৷ বিজেপির এই ‘থ্রি মাস্কেটিয়ার্স’ দায়িত্ব নিয়ে নীরবে ‘উপকার’ করে গিয়েছেন তৃণমূলের৷

গোটা প্রচার পর্বে তৃণমূলের অভিযোগ ছিলো, একুশের ভোটে বিজেপির হয়েই খেলতে নেমেছে নির্বাচন কমিশন৷ এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কিছু উদাহরণও তৃণমূল দিয়েছে৷

কিন্তু রাজ্যের শাসক দল ধরতে পারেনি, কমিশনের করোনা- বিধির জেরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শেষ ৪-৫টি সভা বাতিল হওয়ায় বিজেপির কতখানি ‘উপকার’ হয়েছে৷ এটাও তো এক রকম গেরুয়া শিবিরের পাশে দাঁড়ানোই হলো৷ এটা না করতে পারলে শূন্য থালা নিয়ে কংগ্রেস বা সিপিএমের পাশের আসনেই হয়তো বসতে হতো বিজেপিকে৷

নীলবাড়ি দখলের লক্ষ্যে নরেন্দ্র মোদির বাংলা সফর শুরু হয় গত ফেব্রুয়ারিতে। কায়দা করে প্রতি দফার ভোটের দিন কমপক্ষে দু’টি করে সভা করেছেন মোদি৷ প্রথম দফার ভোটের দিন ওপার বাংলায় গিয়ে এপার বাংলার ভোট প্রচার করেন তিনি৷ দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ, প্রতি দফার ভোটগ্রহণের দিনেই ২টি করে সভা করেছেন মোদি৷
সব মিলিয়ে প্রায় ২২টি সভা করেছেন৷ এই ২২ সভা করেছেন শতাধিক দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে৷ মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে ‘স্ট্যাণ্ড- আপ কমেডিয়ান’-দের স্টাইলে ‘দিদি…ও দিদি…’ করেছেন৷ ভুলভাল, বিকৃত বাংলা বলেছেন, টেলি-প্রম্পটারের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে ‘পদ্মে ছাপ’ বলতে গিয়ে অস্বস্তিকর শব্দও বলে ফেলেছেন৷ তাতেও হাততালি পেয়েছেন৷ চার্জড হয়েছেন৷ আরও গলা ফুলিয়েছেন, আরও বাংলা বলেছেন, আরও লোক হাসিয়েছেন৷ মোদির কপ্টার যতবার বাংলার আকাশে চক্কর কেটেছে, গেরুয়া নেতারা ততই নোটবুকে বাড়িয়েছেন আসনপ্রাপ্তির সংখ্যা ৷ এক সময় তো বলা হচ্ছিলো ২৫০-এর বেশি আসন বিজেপি পেতে পারে৷ বঙ্গ-বিজেপির নেতারা হয়তো শপথ নেওয়ার ড্রেসও বানাতে দিয়ে ফেলেন সেই সময়৷

সব মিলিয়ে একটা বিষয় স্পষ্ট হচ্ছিলো, বাংলার দখল পেতে বঙ্গ- বিজেপি-র থেকেও বেশি মরিয়া নরেন্দ্র মোদি। তিনি নিজে এবং শাহ, নাড্ডা, যোগীরা মিলে শ’দেড়েক সভা বা রোড-শো করে বিজেপিকে একের পর এক কেন্দ্রে অপ্রিয় করে গিয়েছেন। আর তারই প্রতিফলন ঘটেছে ইভিএমে৷ এসব দেখে আজ বিজেপি নেতৃত্ব বিস্মিত হচ্ছেন কেন ?

এটা কি বিজেপি বুঝতে পারছে যে বিজেপির ওই ‘মোদি’-নামক স্বঘোষিত পাশুপাত-অস্ত্রের ধার ও ভার প্রাকৃতিক নিয়মেই যে হ্রাস পাচ্ছে? ‘মোদিজিকে প্রধানমন্ত্রী করার ভোট’ আর ‘মোদিজির কথায় অন্য কাউকে ভোট’ দেওয়া এক নয়৷ কিন্তু বিকল্প বা বদলি কোনও চরিত্রের চরম অভাব থাকায় বার বার এই ‘সব খোল’ চাবিটিই ব্যবহার করতে বাধ্য হয় বিজেপি৷ আর এই মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে ওই মোদি-অস্ত্র কতখানি ভোঁতা হয়েছে তা ধরা পড়ছে বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনগুলিতে৷ বাংলাতেও সেটাই হয়েছে৷ বেশ কিছুদিন আগে থেকেই ‘Election Mascot’ হিসাবে নরেন্দ্র মোদি দলকে সাফল্য এনে দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন৷ পরের পর বিভিন্ন রাজ্যের ভোটে ভারতীয় জনতা পার্টি সোজা পথে হেঁটে সাফল্য পাচ্ছে না৷ ভরসা করতে হচ্ছে ‘রিসর্ট- পলিটিক্স’-এর উপর৷ বিজেপির তথাকথিত ‘থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক’ বাহিনী এখনও ধরতেই পারছে না সমস্যাটা আসলে নরেন্দ্র মোদিই৷
ওই মোদি-ফরমুলা কাজে লাগাতে গিয়ে একাধিক রাজ্য থেকে পদ্ম-পতাকা গুটিয়ে ফেলতে হচ্ছে৷ বাংলাতেও তো এবার সেটাই হয়েছে৷ এটা বুঝেও বুঝছে না বিজেপি৷ বিজেপির এসব ভাবতে বসা উচিত ছিলো অনেক আগেই৷ অথচ ভাবার কোনও তাগিদই অনুভব করেনি৷ একবগ্গা হয়ে পুরনো পথেই নরেন্দ্র মোদিকে ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ বানিয়ে বাংলার ভোটে নেমে এ রাজ্য থেকে বিতাড়িত হলো৷ বাংলার মাটিতে আরও একবার স্পষ্ট হলো, মোদিকে ‘সুপার হিউম্যান’ বানানোর খেসারত কীভাবে দিলো বিজেপি ৷

প্রমান মিলছে, অতিরিক্ত ‘মোদি-নির্ভরতা’-ই দলকে ডোবাচ্ছে৷

Advt

spot_img

Related articles

বন্ধ হতে চলেছে টেলিপর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’! বাড়ছে জল্পনা

জনপ্রিয়তা থেকে বিতর্ক, বারবার খবরের শিরোনামে থেকেছে জি বাংলার ধারাবাহিক 'চিরদিনই তুমি যে আমার'(Chirodini Tumi Je Aamar)। জিতু...

ভোটার তালিকায় ভুল রুখতে কড়া কমিশন, মাইক্রো অবজার্ভারদের কাঁধে নতুন দায়িত্ব

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। স্পষ্ট জানানো...

বিভ্রান্ত জারি পিসিবির, টি২০ বিশ্বকাপের আগে নয়া জটিলতায় আইসিসি

টি২০ বিশ্বকাপ ( ICC T20 World Cup) শুরু হতে বাকি মাত্র কয়েকদিন কিন্ত তার আগে জটিলতা কিছুতেই কাটছে...

IG পদে উন্নতির জন্য ফতোয়া: ২০১১ পরবর্তী ক্যাডারদের জন্য নতুন নিয়ম

কেন্দ্রে আইজি বা সমতুল পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আইপিএস আধিকারিকদের (IPS Officer) জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (Home Ministry) নতুন...