রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে ব্রিগেডের মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে নিজের ছবির সংলাপ আউড়ে ছিলেন বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী । বলেছিলেন, ‘মারব এখানে লাশ পড়বে শ্মশানে,’ এছাড়াও বলেছিলেন, ‘আম জলধোরাও নয়, বেলেবোড়াও নয়, একেবারে জাত গোখরো, এক ছোবলেই ছবি।’ তারপরেই এই সংলাপ নিয়ে বাংলা সিটিজেন্স ফোরাম মানিকতলা থানায় একটি মামলা করে। মামলাকারীদের দাবি ছিল, মিঠুনের চোখা চোখা সংলাপ রাজ্যে ভোটপরবর্তী হিংসা ছড়ানোর জন্য দায়ী ছিল। সেই সংক্রান্ত মামলা কয়েক মাস ধরেই আদালতে চলছে। মিঠুনের তরফে এই মামলার এফআইআর খারিজের আবেদন করেন অভিনেতা।

সেই মামলার পর্যবেক্ষণে বুধবার বিচারপতি কৌশিক চন্দ জানিয়েছেন, ‘শোলের আমজাদ খান থেকে আজ পর্যন্ত হাজার হাজার জনপ্রিয় সিনেমা ডায়লগ তৈরি হয়েছে। মিঠুন চক্রবর্তী ডায়লগটিও জনপ্রিয়। মিঠুন নিজেও স্বীকার করে নিয়েছেন, তিনি ওই ডায়লগ বলেছেন। এরপর আর কী তদন্তের বাকি থাকে?’ তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে আমি মনে করি, ডায়লগে ভোট পরবর্তী অশান্তি তৈরি হয়েছে, এটা ঠিক নয়। তিনি ব্রিগেড সমাবেশে বলেছিলেন ওই ডায়লগ, স্বীকার করে নিয়েছেন। এরপর আর কোনও তদন্ত প্রসঙ্গ আসতে পারে কি?
যদিও রাজ্যের সরকারি আইনজীবি এই মামলা নিয়ে আরও তদন্তের আর্জি জানান।
এই মামলায় একাধিকবার ভার্চুয়ালি কলকাতা পুলিশের জেরার মুখে পড়েন মিঠুন চক্রবর্তী। কিন্তু তিনি বারবার জেরায় হাজিরা দিয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন।
বিচারপতি কৌশিক চন্দ আগামী মঙ্গলবার দুপুর ২ টার সময় এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। এরই সঙ্গে এই মামলার তদন্তের অগ্রগতির সংক্রান্ত রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে বাংলা সিটিজেন্স ফোরামের তরফে মৃত্যুঞ্জয় পাল বলেন, যেহেতু বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন তাই কোনও মন্তব্য করব না। তবে এটা ঠিক যে, মিঠুন চক্রবর্তী আম আদমি নন। তার মতো একজন জনপ্রিয় অভিনেতার কথায় দলীয় কর্মীরা প্রভাবিত হবেন এটাই স্বাভাবিক । বাস্তবে ঘটেছেও তাই। তার মতো মানুষের কাছ থেকে আর একটু সচেতনতা আশা করেছিলাম আমরা। আইনজীবী অয়ন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার শুনানির সময়ই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে ।
