Thursday, April 23, 2026

করোনার তৃতীয় ঢেউ সামলাতে আরও সতর্ক সোনাগাছি, খোলা হয়েছে ‘কাস্টমার কেয়ার ডেস্ক’

Date:

Share post:

করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউ ওলটপালট করে দিয়েছে কলকাতার নিষিদ্ধপল্লি সোনাগাছির। ব্যবসার ক্ষতির পাশাপাশি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এই পাড়ার অনেকেই । তৃতীয় ঢেউ আসার আগে তাই আরও সতর্ক শহরের অন্যতম বৃহৎ নিষিদ্ধপল্লি সোনাগাছি। রাজ্য জুড়ে যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করে ‘দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি’ ।সোনাগাছি তো বটেই গোটা, রাজ্যের সব যৌনপল্লি এলাকাতেই ‘কাস্টমার কেয়ার ডেস্ক’ খোলার পরিকল্পনা করেছে দুর্বার।
সোনাগাছিতে ইতিমধ্যেই এমন দু’টি ডেস্ক খোলা হয়েছে। আগামী দিনে সেই সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন সংস্থার মুখপাত্র মহাশ্বেতা মুখোপাধ্যায়।
তিনি জানিয়েছেন , শুরুতে পাঁচটি ডেস্ক খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল । তার মধ্যে দু’টি চালানো সম্ভব হচ্ছে। আসলে লকডাউন পরিস্থিতি চলায় সংগঠনের কর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকরাও ঠিকঠাক কাজে আসতে পারছেন না।
দুর্বারের সদস্যরা সম্ভাব্য কাস্টমারদের থার্মাল গানের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা মাপার পরেই পল্লিতে ঢুকতে দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে তাঁদের মাস্ক পরা রয়েছে কিনা, স্যানিটাইজারে হাত ধুয়েছেন কিনা, তা-ওপরীক্ষা করে দেখছে। মোদ্দা কথা, কাস্টমারদের সচেতন করার পাশাপাশি যতটা সম্ভব এখানকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে দুর্বার ।

শুধু কাস্টমারদেরই নয়, যৌনকর্মীদেরও করোনা নিয়ে নিয়মবিধি মেনে চলার অনুরোধ করেছে দুর্বার। কলকাতায় করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই এলাকা ধরে ধরে নিয়মিত সচেতনতা শিবির করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণের জন্য নিয়মে বলা হয়েছে, এক সঙ্গে একাধিক কাস্টমারকে ঘরে নেওয়া যাবে না। ঘর সব সময় স্যানিটাইজ করতে হবে। প্রত্যেক কাস্টমার বিদায় নেওয়ার পর যৌনকর্মীদের স্নান করা বাধ্যতামূলক। বিছানার চাদরও বদলাতে হবে। আর কাস্টমার যতক্ষণ ধরে থাকবেন, ততক্ষণ মাস্ক পরে থাকতেই হবে। কাস্টমারকেও সারাক্ষণ মাস্ক পরে থাকতে বাধ্য করতে হবে।
যদিও এত কিছুর পরেও করোনাকালে অনেকটাই ফাঁকা কলকাতার এই পাড়া। দুর্গাচরণ মিত্র স্ট্রিট, অবিনাশ কবিরাজ স্ট্রিট, শেঠবাগান, রামবাগান— সব গলিই অনেক খালি হয়ে গিয়েছে।
মহাশ্বেতার হিসেব অনুযায়ী, এই পাড়ার স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা ১০ হাজারের মতো। এ ছাড়াও কমপক্ষে তিন হাজার কর্মী শহরতলি থেকে যাতায়াত করেন। এর পরেও হাজার তিনেক ‘ফ্লাইং’ কর্মী রয়েছেন। লকডাউন পরিস্থিতিতে ‘ফ্লাইং’ এবং শহরতলি থেকে কেউই আসছেন না। স্থায়ী বাসিন্দাদের অনেকেই বাজার মন্দা হওয়ায় চলে গিয়েছেন। সব মিলিয়ে সোনাগাছিতে যৌনকর্মীর সংখ্যা এখন অর্ধেকের কম হয়ে গিয়েছে। মহাশ্বেতা জানিয়েছেন , শুধু কলকাতার হিসেব দেখলেই হবে না। রাজ্যের লক্ষাধিক মেয়ে করোনাকালে অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে রয়েছে। আমাদের উদ্যোগ ছাড়াও কিছু বেসরকারি ত্রাণ, সরকারি সাহায্য মিলেছে। কিন্তু তাতে সমস্যা পুরোপুরি মেটেনি।

 

Related articles

প্রবল গরমে ভোট: প্রাণ গেল আরও ৪ ভোটারের

প্রচণ্ড গরম আর দীর্ঘ লাইনের চাপের মধ্যেই শুরু হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Elections) প্রথম দফার...

কেন এত ভোটদান? প্রথম দফার ভোটদানের হারের ব্যাখ্যা মমতার, কটাক্ষ মোদির প্রচারকে

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণে বিকেল ৩টে পর্যন্ত ভোট পড়েছে প্রায় ৭৯ শতাংশ। চৌরঙ্গীর দলীয় প্রার্থী নয়না...

রেকর্ড ভোটদান তামিলনাড়ুতে: ভোট দিলেন রজনীকান্ত, ধনুশ থেকে আটলি

বাংলার পাশাপাশি ২৩ এপ্রিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য তামিলনাড়ুতেও বিধানসভা নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হয়। এবার এই রাজ্যেও ভোটাদানের হার যথেষ্ট...

IPL: মানবিক মাহি, আইপিএলের মধ্যেই মাতৃহারা সতীর্থের পাশে ধোনি

আইপিএলের(IPL) শুরুতেই চোটের কবলে পড়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি(MS Dhoni)। প্রায় এক বছর অসুস্থ থাকার পর প্রয়াত হয়েছেন চেন্নাই...