Site Logo

পরিকাঠামো উন্নয়নের নামে ভাঁওতা? গঙ্গাসাগর সেতুতে ‘টোকেন’ বরাদ্দ, বিমানবন্দরেও যৎসামান্য! 

EBBS Desk·
পরিকাঠামো উন্নয়নের নামে ভাঁওতা? গঙ্গাসাগর সেতুতে ‘টোকেন’ বরাদ্দ, বিমানবন্দরেও যৎসামান্য! 

বিরাট ঘোষণা, বড় বড় প্রতিশ্রুতি, কিন্তু বরাদ্দের খাতায় চোখ রাখলেই ধরা পড়ছে অন্য ছবি। বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে গঙ্গাসাগর সেতু থেকে নতুন বিমানবন্দর— একাধিক বহুচর্চিত প্রকল্পের জন্য কার্যত ‘টোকেন’ বরাদ্দ রাখার অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। রাজ্য বাজেটের এই আর্থিক রূপরেখা সামনে আসতেই পরিকাঠামো উন্নয়নের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিরোধীরা।

Sponsored

Sranchi In Article

বাজেট বক্তৃতা এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাংবাদিক বৈঠকে গঙ্গাসাগর সেতু, কল্যাণী বিমানবন্দর, উত্তরবঙ্গের বিমান পরিষেবা সম্প্রসারণ, নতুন সেতু নির্মাণ-সহ একাধিক পরিকাঠামো প্রকল্পের কথা জোর গলায় ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এখন বড় প্রশ্ন, বাস্তবে এই প্রকল্পগুলি রূপায়ণের জন্য কত টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে?

বাজেট নথি ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, বহু প্রতীক্ষিত ও বহুল চর্চিত গঙ্গাসাগর সেতুর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে মাত্র ১০০ কোটি টাকা। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, এই অর্থ মূলত জমি অধিগ্রহণ, মাটি পরীক্ষা এবং ডিপিআর (বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট) তৈরির প্রাথমিক কাজেই খরচ হবে। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, মুড়িগঙ্গা নদীর উপর এই সেতু নির্মাণে প্রয়োজন কয়েক হাজার কোটি টাকা। ফলে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, সেতু নয়, আপাতত শুধু কাগজে-কলমে প্রস্তুতির টাকাই রাখা হয়েছে। মূল নির্মাণকাজ শুরু হওয়া এখনও দূর অস্ত।

একই প্রশ্ন উঠছে রাজ্যের বিমান পরিবহণ পরিকাঠামো নিয়েও। পুরুলিয়া, মালদা, বালুরঘাট কিংবা কল্যাণীতে বিমান পরিষেবা সম্প্রসারণের কথা ফলাও করে বলা হলেও বাজেটে তার জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক রূপরেখা নেই। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বড় বড় ঘোষণা থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের আর্থিক ভিত্তি কোথায়?

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার পরিকাঠামো উন্নয়নের বড় বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু বরাদ্দের অঙ্ক সেই স্বপ্নের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। গঙ্গাসাগর সেতুর মতো মেগা প্রকল্পে মাত্র ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দকে বিরোধীরা ‘আইওয়াশ’ বা ভাঁওতা বলে দেগে দিচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, বাজেটে একাধিক প্রকল্পের নাম ঘোষণা করে আসলে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু বাস্তব নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের কোনও স্পষ্ট নিশ্চয়তা রাখা হয়নি। ফলে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আর বাস্তব বরাদ্দের মধ্যে এক বিশাল ফারাক থেকেই যাচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত, প্রথম বাজেটে নতুন সরকার ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলির রূপরেখা বা ব্লু-প্রিন্ট তুলে ধরেছে ঠিকই, কিন্তু বহু ঘোষণার ক্ষেত্রেই এখনো পর্যন্ত অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। ফলে সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন উঠছে— পরিকাঠামো উন্নয়নের যে স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে, তা কি অদূর ভবিষ্যতে বাস্তবে রূপ পাবে, নাকি লোকসভা ভোটের আগে এটি আপাতত শুধুই ঘোষণার রাজনীতি?

আরও পড়ুন - তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ-বহিষ্কৃতদের ওয়ার্কিং কমিটির নয়া চেয়ারম্যান অরূপ রায়, পদ পেলেন ফিরহাদ-অরূপও

_

 

_

 

_

 

_

Sponsored

Merlin In Article

Sponsored

Shyam Sundar In Article

Sponsored

Camelia In Article

Sponsored

Techno India In Article

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from রাজ্য

View All →