জামিন মিলল না নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের (Milan Pradhan)। আগামী ৩ অক্টোবর অর্থাৎ ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল হলদিয়া মহকুমা আদালত। শুক্রবার খুন এবং খুনের চেষ্টার সহ চারটি পুরনো মামলায় মিলন সর্দারকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ৷ ওই চারটি মামলাতেই কংগ্রেস প্রার্থীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল৷ 

আরও পড়ুন: E-KYC না করালে প্রায় ২০০০ টাকা দিয়ে কিনতে হবে গ্যাস! চিন্তায় আমজনতা

আগামী সোমবার ফের খেজুরি থানার একটি মামলায় ধৃত কংগ্রেস প্রার্থীকে কাঁথি আদালতে তোলা হবে। ৬ অক্টোবর রাজ্যে উপনির্বাচন। ৩ তারিখ পর্যন্ত মিলনের (Milan Pradhan) জেল হেফাজতে থাকতে হলে তিনি ভোটের প্রচারে নামতে পারবেন না। সেই নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কারণ নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতা তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, এদিকে ঋতব্রত শিবির প্রার্থী দিয়েছে তা তো বিজেপির বি টিম, কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের জেল, বাকি রইলেন বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ। 

আজ আদালতে পেশ করার সময় মিলন প্রধান দাবি করেন, শাসক দল ভয় পেয়েছে৷ দলের প্রার্থীর গ্রেফতারির প্রতিবাদে এ দিন হলদিয়া মহকুমা আদালত চত্বরে প্রদেশ  সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বে বিক্ষোভও দেখান কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা৷ 

শুভঙ্করের অভিযোগ, 'একটা উপনির্বাচনে রাজ্যের ক্ষমতার পরিবর্তন হবে না৷ এত বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সরকারে আসার পরেও এগুলো করার প্রয়োজন ছিল না৷ মিলন প্রধান তো পালিয়ে যাচ্ছিলেন না৷ তাঁকে ডেকে কথা বলতে পারত পুলিশ৷ মানুষ সবই দেখছে৷'

২০০৭ সালের মামলা হলেও এতদিন কেন পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি? এনিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গত ১৯ বছর ধরে মিলন পলাতক ছিলেন। আইনি প্রক্রিয়া থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন মিলন। গতকালপূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর এলাকায় ছিলেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী। সেখানকার একটি হোটেল থেকে তাঁকে পুলিশ গতকালই গ্রেফতার করে। 

আরও পড়ুন: নাগেরবাজারে দুষ্কৃতীদের বচসা, প্রতিবাদ করার তরুণীকে শ্লীলতাহানি

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের উপনির্বাচনে কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা জানানোর পর পরই মিলন গ্রেফতার হওয়ায় বিষয়টি অন্য মাত্রা পায়৷ সুযোগ বুঝে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে আসরে নামে কংগ্রেসও৷ কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীও গণতন্ত্রকে হত্যা করার অভিযোগ তোলেন।