গড়বেতায় (Garhbeta) প্রকাশ্যে এল রাজনৈতিক সংঘাত। শুক্রবার সন্ধ্যায় খড়কুশমা গ্রামে (Kharkushma Village) বিজেপি (BJP) ও সিপিএমের (CPM) কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। দু’পক্ষেরই একাধিক কর্মী আহত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গড়বেতা থানার পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে অবশ্য বিজেপি ও সিপিএমের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা। বিজেপির দাবি, খড়কুশমা মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক পবন সামন্ত-সহ (Paban Samanta, General Secretary of the Kharkushma Mandal) কয়েক জন কর্মী সেখানে বসে কথা বলছিলেন। সেই সময় আচমকা তাঁদের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। অন্য দিকে সিপিএমের দাবি, তাদের পার্টি অফিসে গেরুয়া রং করার জন্য বিজেপির লোকজন সেখানে গিয়েছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার পরেই গোলমাল শুরু হয় বলে তাদের অভিযোগ।
সিপিএমের আরও অভিযোগ, খড়কুশমার ঘটনার পর গড়বেতা শহরে তাদের জোনাল পার্টি অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয় এবং আগুন ধরানোর চেষ্টা হয়। দলের নেতা তপন ঘোষের পেট্রল পাম্পেও হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও বিজেপি সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের সিপিএম জেলা সম্পাদক বিজয় পাল (Bijoy Pal, CPM District Secretary of Paschim Medinipur) বলেন, ‘‘বিজেপি গাঁ-গঞ্জে আমাদের সংগঠনকে টেক্কা দিতে না পেরে পুলিশের সাহায্য নিয়ে পার্টি অফিস ভাঙচুর করে আগুন লাগায়। পেট্রল পাম্প ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর চেষ্টা করে।’’
বিজেপির পাল্টা দাবি, সিপিএমের হামলায় তাদের অন্তত ২৫ জন কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। গড়বেতার বিজেপি বিধায়ক প্রদীপ লোধার (Garbeta BJP MLA Pradip Lodha) বক্তব্য, ‘‘অকারণে আমাদের কর্মীদের মারধর শুরু করেন সিপিএমের লোকজন। আমাদের লোকজন কিছুই করেনি। যা হয়েছে তা জনরোষ। আমরা গড়বেতায় কোনও অশান্তি চাই না।’’ একসময় তপন ঘোষ-শুকুর আলির দাপটে গড়বেতায় সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর সমীকরণ বদলেছে। শুক্রবারের সংঘর্ষ সেই বদলে যাওয়া জমিতে পুরনো বাম সংগঠনের ফের সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা এবং বিজেপির সঙ্গে নতুন সংঘাতের ছবিই সামনে আনল।
















