নন্দীগ্রাম (Nandigram) বিধানসভা উপনির্বাচনে মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস কংগ্রেসকে সমর্থন করার ঘোষণা করতেই পুরনো মামলায় গ্রেফতার করা হল কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে। তৃণমূল সুপ্রিমোকে ভয় পেয়ে বিজেপির প্রতি হিংসার রাজনীতির তীব্র বিরোধিতায় সরব বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) । তাঁর কথায়, স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট আচরণ চলছে। মানুষের ভোটে আস্থা নেই। নানা রকম মেকানিজম ব্যবহার করা হচ্ছে অধিকাংশ চক্রান্তমূলক। মূল প্রতিপক্ষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গদ্দারদের প্রমোট করতে ইলেকশন কমিশনকে আসরে নামানো হলো। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন আগামির কথা ভেবে কংগ্রেসকে সমর্থন করার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিলেন ঠিক তখন ভয় পেয়ে পুরনো মামলায় উপনির্বাচনের ঠিক আগে কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতার করালো বিজেপি (BJP)। অবিলম্বে মিলনের মুক্তির দাবি করেছেন তিনি।
প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির নিকৃষ্ট রূপ দেখলো নন্দীগ্রাম।গণতন্ত্র যে কতটা বিপন্ন তা আরও একবার দেখতে পাওয়া গেল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করার পরই কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে পুরনো একটি খুনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। সর্বত্র হুমকি দিয়ে, এজেন্সির ভয় দেখিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে চাইছে বিজেপি, আরও একবার তা প্রমাণিত হয়ে গেল নন্দীগ্রামে।গোটা দেশ জুড়ে বিজেপি বিরোধী আন্দোলন হবে। I.N.D.I.A-কে আরও শক্তিশালি করার ডাক দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ভাবনা থেকেই নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে দল প্রার্থী দেবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন নেত্রী। তারপরই পুরনো মামলায় কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হলো। রাজ্যে এটা কী চলছে? বিধায়ক কুণাল বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করার কথা ঘোষণার পরেই বিজেপি সরকার সেই কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতার করল। আমাদের নেত্রী ও দল এই গ্রেফতারির কড়া নিন্দা করছে। এটা ফ্যাসিবাদী, স্বৈরাচারী আচরণ। বিজেপির আত্মবিশ্বাসের অভাব স্পষ্ট। প্রকৃত জনরায়কে বিজেপি ভয় পাচ্ছে। পুলিশের পুরোদস্তুর অপব্যবহার চলছে। নেত্রীর সমর্থন ঘোষণার পর কংগ্রেস প্রার্থী আরও শক্তিশালী হয়ে আসনটি বিজেপির হাতছাড়া হতে পারে, সেই আতঙ্ক থেকে এই গ্রেফতারি।
শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, "আমরা অসমে কংগ্রেসকে সাহায্য করছি। ঠিক একই ভাবে নন্দীগ্রামেও আমরা কংগ্রেসকে সমর্থন করছি। দেশের বৃহত্তর স্বার্থেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।" তিনি আরও বলেন, "আমি চাই বিজেপি দেশ থেকে সরে যাক। আমরা শক্তভাবে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সঙ্গেই রয়েছি। নেন্ত্রী বলেছেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বৃহস্পতিবার রাতে ফোন করেছিলেন। অরবিন্দ কেজরিওয়ালও ফোন করেছিলেন বলে তিনি জানিছেন। এই উপনির্বাচনে আমরা আমাদের সিস্টার পার্টি এবং মিত্রদের সমর্থন করতেই পারি, সেই ভাবনা থেকেই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করব। নন্দীগ্রাম নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও রেজিনগর নিয়ে এখনও সি্দ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তা সময়মতো পরে ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন নেত্রী।
যখন সাংবাদিক সম্মেলনে নেত্রী বিজেপি'র স্বৈরাচারী, প্রতিহিংসামূলক গণতন্ত্র হত্যাকারী রাজানীতির কড়া সমালোচনা করে ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করে বিজেপিকে উৎখাতের ডাক দিলেন এবং নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থী প্রত্যাহারের কথা বললেন, তার পরপরই গ্রেফতার করা হয় কংগ্রেস প্রার্থীকে। এই ঘটনার মধ্যে দিয়েই বিজেপি'র চূড়ান্ত প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির ভয়ঙ্কর রূপেরই বহি:প্রকাশ স্পষ্ট হয়ে গেল সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক মহলে।
















