টানা তিন দিন প্রখর রোদের পর বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে কলকতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার দুপুরেও তিলোত্তমায় ঝেঁপে নেমেছিল বৃষ্টি। এরমধ্যে বড় একটি দুর্যোগের আশঙ্কার কথা জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে পারে নতুন ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'।

আরও পড়ুন: ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে মাওবাদী নেতা ‘আকাশ’

মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। যার জেরে হলুদ সতর্কতাও জারি করেছে হওয়া অফিস। বিশেষ করে, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে চলবে বৃষ্টি। বৃষ্টির সঙ্গে বইতে পারে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া। একইসঙ্গে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে পারে নতুন ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব'। ঘূর্ণাবর্ত আজ উত্তর আন্দামান সাগরে ঢুকেছে, আগামিকাল সন্ধের মধ্যে শক্তি বাড়িয়ে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে খবর। উত্তরবঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি। আগামিকাল থেকে বৃষ্টি কমবে পাহাড়ে।   

কোন দেশ এই ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করেছে?
সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়টির নাম বাংলাদেশ নির্ধারণ করেছিল। 

নামকরণের পদ্ধতি
উত্তর ভারত মহাসাগর, বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণের জন্য এই অঞ্চলের ১৩টি দেশ (যেমন: বাংলাদেশ, ভারত, ওমান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ইত্যাদি) মিলে আগে থেকেই নামের একটি তালিকা তৈরি করে রাখে। WMO-এর নিয়ম অনুযায়ী দেশগুলোর নামের ইংরেজি আদ্যক্ষরের ক্রমানুসারে একের পর এক ঝড়ের নাম ঘোষণা করা হয়।

কেন এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম অর্ণব?
 ইয়েমেনের দেওয়া 'দিতওয়াহ' নামের পর তালিকায় পরবর্তী নামটি রয়েছে বাংলাদেশের দেওয়া 'অর্ণব'। তাই বঙ্গোপসাগরের বর্তমান নিম্নচাপটি যদি শেষ পর্যন্ত শক্তিশালী হয়ে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়, তবে নিয়ম অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এর নাম হবে 'অর্ণব'।

কেন ঘূর্নিঝড়ের নামকরণ হয়?
সাধারণ মানুষ যেন সহজে ঝড়ের পূর্বাভাস বুঝতে পারেন, বিভিন্ন ঝড়ের পার্থক্য মনে রাখতে পারেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কাজ সহজ হয়—সেই উদ্দেশ্যেই অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশের জটিল সংখ্যার বদলে এমন সহজ নাম দেওয়া হয়।

আমেরিকার আবহাওয়া মডেল জিএফএস এই ঘূর্ণাবর্তটির ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার কথা বললেও, ভারতের আবহাওয়া দফতর আপাতত শুধু নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনার কথা নিশ্চিত করেছে। ভারতের আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২১ বা ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই ঘূর্ণাবর্তটি আরও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে এবং পরবর্তীতে তা উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: শিশুখাদ্যে গরমিল, Nestle–কে নোটিশ কেন্দ্রের

এর প্রভাবে ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওড়িশা, তেলেঙ্গনা, ছত্তিশগড় ও পশ্চিমবঙ্গেও বৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণাবর্ত এবং সৌরাষ্ট্র থেকে বঙ্গোপসাগর ও সিকিম থেকে উত্তর ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।