ফের নিজের লোকসভা কেন্দ্রে আক্রান্ত কৃষ্ণনগরের (Krishnanagar) তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। সুপ্রিম কোর্টের কথা মতো তিনি সাংসদ হওয়ার পাশাপাশি এখন থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামীও। জখম হয়ে এমনই মন্তব্য মহুয়ার। কৃষ্ণনগরের সাংসদের নিজের দাবি, জনরোষ নয়, বিজেপির লোকজনই হামলা চালিয়েছেন। আর উপস্থিত পুলিশকর্মীরা হামলাকারীদের না সামলে তাঁকেই জোর করে গাড়িতে তুলে দিয়েছেন। 

বুধবার নদিয়ার (Nodia) তেহট্টের হাউলিয়া মোড়ে তৃণমূলের কর্মিসভা ছিল। সেখানে যোগ দিতে গিয়ে সেখানেই আক্রান্ত হন মহুয়া। সমাজমাধ্যমে কৃষ্ণনগরের সাংসদ একটি লাইভ করছিলেন গাড়িতে করে যেতে যেতে। ভিডিয়োয় দেখা যায়, সেই সময়েই বিক্ষোভকারীদের মধ্যে থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়। সেই ডিম যে তাঁর গায়ে লেগেছে, ক্যামেরা ঘুরিয়েও তা দেখান মহুয়া। কলকাতা হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে কর্মসূচিতে বাধা, হেনস্থা এবং লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হল, সেই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন সাংসদ। 

আরও পড়ুন: ‘মমতা যেখানে দাঁড়ান, লাইন সেখান থেকেই শুরু’, প্রতীক বিতর্কে অকপট কুণাল

এ বিষয়ে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার সুপার অতুল ভি কে বলেন, 'আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ৪৮ ঘণ্টা আগে পুলিশ সুপারকে জানাতে হবে। উনি ইমেল মারফত শুধুমাত্র জানিয়েছিলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর উনি তার সংসদীয় এলাকায় থাকবেন। তবে কোথায় থাকবেন, সে কথা উনি জানাননি। উনি যখন এখানে আসবেন, ওঁর সঙ্গে একজন অফিসার-সহ নিরাপত্তা দিতে হবে, এমনটা কোর্টের অর্ডারে বলা ছিল। সেই মতো আমরা একজন অফিসার-সহ মোট ২ জনকে পাঠিয়েছিলাম ওঁর সঙ্গে। উনি যে আজ মিটিং করবেন বা ঘরোয়া আলোচনা করবেন, সে সব উনি কিছু জানাননি পুলিশকে। তার পরে জানা গিয়েছে, উনি তেহট্টে একটা কর্মীদের নিয়ে মিটিং করেছেন। ওখানে কিছু লোক স্লোগান দিয়েছে। ওঁকে লক্ষ্য করে কেউ ডিম ছুড়েছে।'

মহুয়ার (Mahua Moitra) অভিযোগ, বুধবার তাঁর কর্মসূচিস্থলে ঢুকে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, সহ-সভাপতি-সহ ৭ থেকে ১০ জন তাঁর দিকে ডিম ছুড়তে থাকেন। তাঁর সঙ্গে পুলিশ ছিল। ওই হামলার সময় আরও পুলিশকর্মী সেখানে যান। কিন্তু তাঁরা বিজেপির বিক্ষোভকারীদের না-সামলে তাঁকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে দিয়েছেন।

গত অগাস্ট মাসে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। একটি মামলার প্রেক্ষিতে তাঁকে থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নদিয়ার কালীগঞ্জের ডিম-হামলার প্রসঙ্গ তুলে সাংসদ সর্বোচ্চ আদালতে জানান, তিনি আবার এমন দুর্ব্যবহারের সম্মুখীন হতে পারেন। তাই ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে থানায় হাজিরা দিতে চান। যদিও ওই মামলা খারিজ করে দেন বিচারপতি দত্ত। তাঁর মন্তব্য ছিল, "স্বাধীনতা সংগ্রামীরা বুকে বুলেট খেয়েছেন, আর আপনি এই মামলা নিয়ে কোর্টে আসছেন?" বুধবার হামলার অভিযোগ করে মহুয়া জানান, "মাননীয় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই! মহামান্য, আমি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে খবর দিয়েই আমার নির্বাচনী এলাকায় এসেছিলাম। আর তাঁদের সহায়তায় বিজেপি কর্মীরা আমার উপর ডিম ছুড়ে মারছেন। আপনার (বিচারপতি দত্ত) পরামর্শ মতোই আমি তাঁদের মোকাবিলা করেছি। ঠিক যেমন স্বাধীনতা সংগ্রামী গুলির মোকাবিলা করেন।"

আরও পড়ুন: রেশনে বাড়ল কেরোসিনের দাম, পকেটে টান আমজনতার

পরে আরও একটি ভিডিয়োয় হামলাকারীদের দেখিয়ে মহুয়া অভিযোগ করেন, পুলিশের সামনেই তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে বিজেপি। তিনি ক্যাপশনে লেখেন, "বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত, মাই লর্ড, আমি স্বাধীন ভারতের একজন সাংসদ এবং একজন স্বাধীনতা সংগ্রামীও! আমি যখন বেরিয়ে আসছিলাম, তখন বিজেপির পদাধিকারীরা (সাধারণ জনগণ নয়) আমার সভা ঘিরে ধরে এবং ডিম ছুড়ে মারে। আমাদের সাংবিধানিক সুরক্ষার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, মাই লর্ড।"

মহুয়ার বক্তব্য,"বিজেপি এ সব করে ভাবছে যে, আমাদের দলীয় কর্মসূচি বন্ধ করে দেবে। কিন্তু ওরা যত এ রকম করবে, আমরা আরও বেশি করে সেই মিটিং করব। ওরা যদি একটা মিটিং বন্ধ করতে আসে, আমরা ৮-১০টা মিটিং করব।"