বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর (Debraj Chakraborty) বিরুদ্ধে বুধবার বারাসত আদালতে ফের জমা পড়ল চার্জশিট। একইসঙ্গে দেবরাজের স্ত্রী তথা তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির (Aditi Munshi) বিরুদ্ধেও জমা দেওয়া হয়েছে চার্জশিট।

আরও পড়ুন: দু’মাসেই ফের বন্ধ লুমটেক্স, পুজোর আগে অনিশ্চয়তায় হাজার হাজার শ্রমিক

মামলার চার্জশিট জমার পরে সরকারি আইনজীবী এদিন বলেন, "বেআইনি পথে পাওয়া টাকার অঙ্ক ১০০ কোটির কম নয়।" ভোটের আগে সেই টাকার একাংশ অন্যত্র সরানো হয়েছিল বলে জানান তিনি। সেই সঙ্গে বলেন, "এই মামলা নিয়ে একটি হুমকি পেয়েছি আমি। পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি। পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।"

আজ বাগুইআটি থানার পক্ষ থেকে দেড় হাজারেরও বেশি পৃষ্ঠার এই তৃতীয় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করা হয়, যা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র আলোড়ন। 

সূত্রের খবর, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১১ নম্বর ধারা (সংঘবদ্ধ বা সিন্ডিকেট অপরাধ) ছাড়াও তোলাবাজি, প্রতারণা, প্রোমোটিংয়ে বাধা দেওয়া এবং জমি দখলের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এলাকার সাধারণ নাগরিক ও ডেভেলপারদের ভয় দেখিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেওয়া এবং জোরপূর্বক জমি হাতানোর একাধিক প্রমাণ নথিবদ্ধ করা হয়েছে এই নথিতে।

আরও পড়ুন: জলবন্দি দেড় লক্ষ, ত্রাণের অপেক্ষায় ভূতনিতে হাহাকার

সম্পত্তির হিসাব নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছিল দেবরাজ এবং অদিতির বিরুদ্ধে। শুরু হয়েছিল তদন্ত। অভিযোগ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অন্তত ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে এবং আত্মীয়-পরিচিতদের নামে হস্তান্তরিত করেছেন রাজারহাট-গোপালপুরের তৎকালীন বিধায়ক অদিতি এবং তাঁর স্বামী। দেবরাজ বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর ছিলেন। নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তি কম করে দেখানোর অভিযোগও উঠেছে অদিতির বিরুদ্ধে। রক্ষাকবচ চেয়ে দেবরাজ এবং অদিতি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। শিশুসন্তানের জন্য অদিতিকে রক্ষাকবচ দিয়েছিল আদালত। কিন্তু দেবরাজের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। গত পয়লা জুলাই দেবরাজকে পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার করেছিল বিধাননগর পুলিশ এবং রাজ্য এসটিএফের যৌথবাহিনী।