ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় (Trinamool Congress office on Camac Street) রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে বন্ধ করে দেওয়ার যে চক্রান্ত করেছিল বিজেপি, বুধবার আদালতে তা আরও একবার প্রমাণিত হয়ে গেল। যথাযথ অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ করে ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিস খালি করে দেওয়ার জন্য দমকলের নোটিশ খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। তৃণমূল কংগ্রেসের এই কার্যালয়ে অগ্নিনির্বাপণ-সংক্রান্ত কী কী ত্রুটি রয়েছে তার সম্পূর্ণরূপে পর্যালোচনা করে সেগুলি মেরামত করে নেওয়ার জন্য নতুন করে নোটিশ পাঠাতে হবে। তার জন্য কিছুটা সময় দেওয়াও বাধ্যতামূলক। সেই সময়সীমা অতিক্রান্ত হলে ফের পরিদর্শনে গিয়ে সবকিছু খতিয়ে দেখবেন দমকল বিভাগের আধিকারিকেরা।
কোর্টের এই রায় প্রসঙ্গে বিধায়ক কুণাল ঘোষ (MLA Kunal Ghosh) বলেন, আমরা তো তখনই বলেছিলাম এটা প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে করা হচ্ছে। বেছে-বেছে যেখানে দলের আইটি-র কাজকর্ম হয় ক্যামাক স্ট্রিটের সেই কার্যালয়ে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার নামে প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি করা হয়েছে। তা মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে প্রমাণিত হয়ে গেল।
তৃণমূলের অভিযোগ, তাদের লিজ ২৫ আগস্ট বাতিল করা হয়েছে। সেটার উপর দেওয়ানি আদালতে স্থিতাবস্থা রয়েছে। তৃণমূলের পক্ষে আইনজীবী কিশোর দত্ত বলেন, তারা ৬ ও ৭ তলার লিজগ্রহীতা, নির্দেশ মানতে প্রস্তুত, তবে চুক্তি অনুযায়ী অগ্নি নিরাপত্তার দায়িত্ব মালিকের। ছাদে বেআইনি নির্মাণ ও গ্যাস সিলিন্ডার রাখার অভিযোগ উঠলেও সিলিন্ডার সরানো হয়েছে।
তৃণমূলের আইনজীবী, অগ্নিশ বসু (Trinamool lawyer Agnish Basu) এই প্রসঙ্গে বলেন, অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি পরিষেবা দফতর যে নোটিশ ইস্যু করেছিল, মহামান্য হাইকোর্ট তা খারিজ করে একটি নির্দেশ দিয়েছে। ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে ৩১ অগাস্ট অগ্নিনির্বাপণ দফতর পরিদর্শনে যায় কোনও নোটিশ ছাড়াই। ১ সেপ্টেম্বর তৃণমূল কংগ্রেসকে হিয়ারিংয়ের জন্য ডাকা হয়।
তৃণমূলের প্রতিনিধিরা হিয়ারিংয়ে গেলেও তাদের কোনও রিপোর্ট দেওয়া হয়নি। তার পরেও ওই প্রতিনিধি দলের তরফে বলা হয়, যদি তাদের জানানো হয় কী কী ত্রুটি আছে তা হলে তারা তা সংশোধন করে নেবে। ৪ সেপ্টেম্বর অগ্নিনির্বাপণ দফতর নোটিশ ইস্যু করে তৃণমূল কংগ্রেসকে দুটো তলাই ফাঁকা করে দিতে বলে।
















