গঙ্গার গ্রাসে কার্যত বিচ্ছিন্ন ভূতনি। জলবন্দি দেড় লক্ষ মানুষের কাছে এখন ত্রাণই একমাত্র ভরসা। দুর্যোগ সামলাতে ভূতনিতে নামানো হয়েছে প্রশাসনের বড়সড় বাহিনী। জলবন্দি মানুষের কাছে খাবার, পানীয় জল ও ওষুধ পৌঁছে দিতে একশোর বেশি নৌকা নামানো হয়েছে। রয়েছে এনডিআরএফ ও ভারতীয় সেনাবাহিনীও। ত্রাণ ব্যবস্থায় সমন্বয় আনতে উত্তর চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে (Uttar Chandipur Gram Panchayat Office) বিশেষ জোনাল রিলিফ অফিস চালু করেছে মালদহ জেলা প্রশাসন (Malda District Administration)। বানভাসিদের জন্য ১১টি ত্রাণ শিবির এবং ১৫টি লঙ্গরখানাও চলছে। প্রশাসনের পাশাপাশি রামকৃষ্ণ মিশন (Ramakrishna Mission), রেডক্রস এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনও দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এখন দুর্গতদের বড় ভরসা ত্রাণ। প্রত্যন্ত এলাকায় নৌকায় করে ত্রাণ পৌঁছনোর খবর পেলেই টিনের ডোঙা নিয়ে ছুটে আসছেন বানভাসিরা। বুধবার ভূতনি সেতুর কাছে এমনই ছবি ধরা পড়ে। মহিলা থেকে শিশু দূরদূরান্ত থেকে ডোঙা ভাসিয়ে এসে চিড়ে, গুড়-সহ শুকনো খাবার সংগ্রহ করেন অনেকে।
তবে সরকারি উদ্যোগের মধ্যেও সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্গম এলাকায় পৌঁছনো। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় নৌকাই এখন একমাত্র ভরসা। কোথাও ১০–১২ ফুট জল, কোথাও আবার বাড়ির একতলা পর্যন্ত ডুবে রয়েছে। উঁচু রাস্তা কিংবা বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন বহু পরিবার। দেড় লক্ষেরও বেশি মানুষ এখনও বন্যার জলে আটকে রয়েছেন। ফলে প্রত্যন্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছনোর খবর পেলেই টিনের ডোঙা নিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন বাসিন্দারা। বুধবার ভূতনি সেতুর কাছে চিঁড়ে, গুড়-সহ শুকনো খাবার নিতে এমনই ভিড় দেখা যায়। মহিলা ও শিশুদেরও ডোঙা নিয়ে ত্রাণ সংগ্রহ করতে দেখা গিয়েছে।
এদিকে দুর্গতদের একাংশের অভিযোগ, মূল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ পৌঁছচ্ছে না। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্পিডবোট ও নৌকায় করে বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছচ্ছেন স্থানীয় বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল (MLA Gourchandra Mondal)। সিভিল ডিফেন্সের দুই আধিকারিককে সঙ্গে নিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ত্রাণ ও পানীয় জলের পরিস্থিতির খোঁজ নিচ্ছেন তিনি। যেসব এলাকায় ত্রাণ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেখানে দ্রুত সাহায্য পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন বিধায়ক।
বন্যার মধ্যে জরুরি পরিষেবার দিকেও নজর রেখেছে প্রশাসন। জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, জলবন্দি এলাকা থেকে ১৮০ জনেরও বেশি গর্ভবতী মহিলাকে উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গা অথবা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের আবেদনে সাড়া দিয়ে মালদহের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলি চাল, ডাল, চিঁড়ে, মুড়ি, পানীয় জল ও মশারি-সহ বিপুল পরিমাণ সামগ্রী তিনটি বড় ট্রাকে মানিকচকে পাঠিয়েছে। ভূতনি থানার তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও বহু মানুষ এখনও জলবন্দি। ফলে বন্যার জল কমার পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় নিয়মিত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়াই এখন প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
















