বুধের সকালে হঠাৎ করেই খবরের শিরোনামে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিয়ে বিদেশে চোখের চিকিৎসা করাতে গেছেন তৃণমূল সাংসদ। গত কয়েকদিনে তাঁকে প্রকাশ্যে আসতে দেখা যায়নি। আজ তার এক ইনস্টা স্টোরি চমকে দিল সকলকে। চোখে ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট, নিজের ক্লোজআপ ছবি শেয়ার করে অভিষেক লিখেছেন, 'The scar tells you I’ve been through something. The eyes tell you I’m nowhere near done!' অভিষেকের এই লেখার মধ্যে দিয়েই তাঁর চোখের চিকিৎসা নিয়ে ক্রমাগত চলতে থাকা অপপ্রচারের জবাব এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের লড়াইয়ের বার্তা স্পষ্ট।
আরও পড়ুন: চিটফান্ড কাণ্ডে সাতসকালে শহরে ED অভিযান, ৬ জায়গায় চলছে তল্লাশি
অভিষেক (Abhishek Banerjee) যা লিখেছেন তা বাংলা করলে দাঁড়ায়, “এই ক্ষতচিহ্ন বলে দেয়, আমি অনেক কিছুর মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। আর চোখ বলে দেয়, আমার লড়াই এখনও শেষ হওয়ার ধারেকাছেও নয়!” তৃণমূল সাংসদদের ক্যাপশনের এই শেষের অংশটি এই মুহূর্তে রাজনৈতিক মহলের কাছে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০১৬ সালে চোখের দুর্ঘটনার পর থেকে আজ পর্যন্ত অভিষেকের চিকিৎসাজনিত সংগ্রামের কথা কারোর অজানা নয়। কিন্তু একই সঙ্গে তাঁকে ক্রমাগত রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক কালের রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনে সত্যি মিথ্যে যাচাইয়ের আগেই মিডিয়া থেকে আমজনতার কাঠগড়ায় অভিষেককে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। আর দৃঢ় চিত্তে চোখে চোখ রেখে মাথা উঁচু করে আইন ও নিয়ম মেনে সেই সব কিছুর মোকাবিলা করছেন ডায়মন্ড হারবারে সাংসদ। সম্প্রতি তাঁর বিদেশে যাওয়া নিয়েও একাধিক কুৎসা রটানো হয়েছে।সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এই পোস্ট নিসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।

সেপ্টেম্বরে তিন সপ্তাহের জন্য বিদেশে গিয়ে চোখের চিকিৎসা করানোর জন্য অভিষেককে অনুমতি দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সফল সূচি থেকে শুরু করে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়। তবে অভিষেক আজ যে ছবি পোস্ট করেছেন তা দেখে মনে হচ্ছে তার ক্ষত সম্পূর্ণ সারেনি। সেক্ষেত্রে অনেকেই মনে করছেন তাহলে কি চিকিৎসার সময়সীমা বাড়তে পারে? সেক্ষেত্রে কি বিদেশে থেকেই শীর্ষ আদালতে আবেদন করবেন অভিষেক? এই সংক্রান্ত সম্ভাবনার কথা আপাতত স্পষ্ট নয়। তবে ২০১৬ সালে গুরুতর আঘাত পাওয়া রাজনীতিতে নবীন ছেলেটা আজ দশ বছর পেরিয়ে পোড়খাওয়া এক রাজনীতিবিদ। যিনি একটা সময় ক্ষমতাসীন দলে থাকলেও আজ রয়েছেন বিরোধী আসনে। সামনে থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের এজেন্সি রাজনীতির মোকাবিলা করে চলেছেন। নিজের বক্তব্য এবং ব্যক্তিত্বে বারবার বুঝিয়েছেন তিনি পালিয়ে যাওয়া বা হেরে যাওয়ার মানুষ নন। এদিনের পোস্টেও যেন সেই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তাই ধরা পরল।
















