রেজিনগরকে (Rejinagar) ঘিরে ফের প্রকাশ্যে এল বাম শিবিরের অস্বস্তি। একই আসনে সিপিএম (CPM) এবং আরএসপি-র (RSP) পৃথক প্রার্থী ঘোষণায় দলের অন্দরে সমন্বয়ের প্রশ্ন উঠেছে। শনিবার সিপিএম আইনজীবী সৈয়দ আসাদ আলির (Lawyer Syed Asad Ali) নাম ঘোষণা করার পরদিনই পাল্টা প্রার্থী দেয় বামেদের শরিক আরএসপি। তাদের প্রার্থী বিকাশচন্দ্র মিশ্র (Bikash Chandra Mishra)। ফলে ভোটের আগে একই শিবিরের দুই দলের এই প্রার্থীর অবস্থান রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে।

আরএসপির দাবি, রেজিনগর তাদের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের ক্ষেত্র। অতীতে জোটের স্বার্থে তারা এই আসন ছেড়েছে। ২০২১ সালে কংগ্রেসকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২৬ সালে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল সোশালিস্ট’ পার্টির জন্যও আসন ছাড়তে হয়। সেই কারণেই এবার রেজিনগর নিয়ে নিজেদের দাবি তারা সামনে এনেছে। কিন্তু সেই দাবিকে উপেক্ষা করে সিপিএম একতরফাভাবে প্রার্থী ঘোষণা করায় আরএসপি এবার নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে বামেদের বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কও। প্রবীণ সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য (Veteran CPM leader Ashok Bhattacharya) প্রকাশ্যেই কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতার পক্ষে মত দিয়েছেন। এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “অন্য জায়গায় বলতে পারব না। তবে আমি তো চাইব শিলিগুড়িতে বামেদের সঙ্গে জোট হোক। বোঝাপড়া হোক।” অর্থাৎ বৃহত্তর পরিসরে বিরোধী শক্তিগুলির মধ্যে সমন্বয়ের বার্তা যখন দলেরই একাংশ থেকে আসছে, ঠিক তখন রেজিনগরে শরিকের সঙ্গে আসন নিয়ে সংঘাত বাম শিবিরের সেই সমন্বয়ের ছবিতেই প্রশ্ন তুলে দিল।

তবে আরএসপির এই পদক্ষেপকে নিছক আসন-দাবির লড়াই হিসেবে দেখছে না রাজনৈতিক মহলের একাংশ। দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গীর সঙ্গে আলোচনা না করেই প্রার্থী ঘোষণার অভিযোগ এবং তার পরেই পাল্টা প্রার্থী দেওয়ার ঘটনায় বামেদের সাংগঠনিক বোঝাপড়া নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। ভোট যত এগোবে, রেজিনগরের এই দ্বৈত প্রার্থিতা বামেদের এই উপনির্বাচনের সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।